বাংলার বুকে নেমে এসেছিল এক ভয়াল রাত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দেশ এখন এমন এক বাস্তবতার সম্মুখীন, যখন একাত্তরের ইতিহাস পুনর্বার স্মরণ করার প্রয়োজনীয়তা আছে।
১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে বাঙালি জাতিকে নিধনের যে পরিকল্পনা করেছিল ইয়াহিয়া সরকার, সেই অপারেশন সার্চলাইটের কথা নতুন প্রজন্মকে জানিয়ে রাখা দরকার। একটি জাতির জন্ম কীভাবে হলো, কী তার ইতিহাস—তা যদি সঠিকভাবে ব্যক্ত করা না হয়, তাহলে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র নতুন প্রজন্মকে তাদের মিথ্যা বয়ান রচনা করে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাদের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হলে স্বাধীনতার নায়কদের খলনায়ক এবং খলনায়কদের নায়ক মনে হতে পারে। আগামী প্রজন্ম যেন সেই বিভ্রান্তির কবলে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব এখন স্বাধীনতাপ্রেমী প্রত্যেক মানুষের।
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সভা বসার কথা ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, সেটাই ছিল স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৩ বছরের ইতিহাসে পশ্চিম পাকিস্তানিরাই মূলত শাসনব্যবস্থা কবজা করে রেখেছিল। জনসংখ্যার হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সরকারি চাকরি এবং সেনাবাহিনীতে বাঙালিদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট হয়ে পড়েছিল। এই শোষণ টিকিয়ে রাখার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারই প্রকাশ ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইট নামের বাঙালি নিধন অভিযান।
ঢাকা শহরে রাও ফরমান আলী ও জাহানজেব আরবাব, ঢাকার বাইরে খাদিম হোসেন রাজার সমন্বয়ে বাঙালি নিধনের যে মিশন শুরু হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভয় ও আতঙ্কের মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্ষমতা থেকে বাঙালিদের সরিয়ে রাখা। বাঙালি যেন আর কখনোই মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে, তারই ষড়যন্ত্র ছিল এই অপারেশন সার্চলাইট।
সংবাদপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ইতিহাসের এত বেশি তথ্য-উপাত্ত রয়েছে যে এই জেনোসাইডের কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই পাকিস্তান সরকারের। সেদিন যে হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যার শিকার হয়েছিল, তাদের একটিমাত্র অপরাধ ছিল—দেশকে ভালোবাসা।
২৫ মার্চ ছিল জেনোসাইডের শুরু। এই ২৫ মার্চ এসেছিল বলেই ২৬ মার্চ থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়। ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন এই দেশ। ২৫ মার্চের নারকীয়তা পেরিয়ে আমরা যে ভবিষ্যতের জাল বুনেছি, সে স্বপ্নই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আর সেই স্বপ্নই উপহার দিয়েছে আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের বিজয়।
স্বাধীনতা শব্দটি কী করে আমাদের হয়েছিল, তা নিশ্চয় খুঁজে নেবে নতুন প্রজন্ম। ২৫ মার্চ তথা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দেশপ্রেমী মানুষদের এই দিনে আমরা স্মরণ করছি।

বেলুচিস্তান কিংবা পাকিস্তানের প্রসঙ্গ এলেই ইতিহাস যেন আমাদের অজান্তেই ৫৫ বছর পেছনে টেনে নিয়ে যায়। আর যখন বেলুচিস্তানে সামরিক অভিযান, বিদ্রোহ ও গণ-অসন্তোষের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়, তখন ১৯৭১ সালের স্মৃতি অনিবার্যভাবেই ফিরে আসে।
১ দিন আগে
পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা বলতে গেলে সাত রাত, সাত দিন কেটে যাবে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পর্যায়ে সীমাহীন ব্যর্থতা।
১ দিন আগে
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর শতাধিক মানুষকে আসামি করে মামলা করার যে ট্র্যাডিশন চালু হয়েছিল, তারই পরশ যেন পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা গ্রামে।
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উগ্রবাদ এখন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এটি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষে...
২ দিন আগে