তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো যে একটি ভালো কাজ, তা নিশ্চয়ই সচেতন পরিবারের শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। একই শিক্ষা হয়তো পেয়েছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক প্রবাসীর ছেলে। তৃষ্ণার্ত ভেবে যাদের পানি খাওয়াতে চেয়েছিল সে, তারাই তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ঘরে ঢুকে লুটপাট চালায়।
সেই সঙ্গে ধর্ষণ করে তার মাকে। এমন নির্মম ঘটনা ঘটে যাবে তার সঙ্গে, তা কি সে কখনো স্বপ্নেও ভেবেছিল!
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ—১৭ সেপ্টেম্বর, রাত ৯টার দিকে শরীফ, আরিফ, ফাহিম, রাজিব ও এনামুল নামের স্থানীয় চিহ্নিত মাদকাসক্ত যুবক দেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢোকে এবং পানি চায়। প্রবাসীর ছেলে তাদের ‘তেষ্টা’ মেটাতে পানি নিয়ে এলে তাকে তারা অস্ত্র ঠেকিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে জিম্মি করে, আলমারি ভেঙে ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। গফরগাঁও থানার পুলিশ জানায়, প্রবাসীর স্ত্রী দুর্বৃত্তদের দ্বারা দলবদ্ধ ধর্ষণেরও শিকার হয়েছেন। তাতেও অভিযুক্তদের ‘তেষ্টা’ মেটেনি, তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের কাছে তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত একজনকে আটক করেছে।
অপরাধের পর গ্রেপ্তারকে অনেক সময় সাফল্যের প্রধান সূচক হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য হলো অপরাধের কারণ শনাক্ত করা, সাক্ষ্যপ্রমাণ সুরক্ষিত রাখা, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা এবং বিচার নিশ্চিত করা। এই ঘটনায় স্থানীয় এবং সবার পরিচিত যুবকেরা অস্ত্র নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে এতটা সময় ধরে তাণ্ডব চালানোর সাহস পেল কীভাবে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচিতি ও অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে যদি আগে থেকেই ধারণা থেকে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক, কিশোর-যুব অপরাধ ও অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তদন্ত, গ্রেপ্তার, বিচার, শাস্তি—সবই হয়তো হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায়। কিন্তু এত ধাপ পার হতে হতে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাও সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকেই। কারণ এ ধরনের ঘটনায় শুধু শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিই তৈরি হয় না, সামাজিক চাপ, ভয়ভীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতাও ভুক্তভোগীকে দীর্ঘদিন তাড়া করে। ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগটি গুরুতর। এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুক্তভোগীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
যে কিশোর ‘তেষ্টা’ মেটানোর জন্য অভিযুক্তদের পানি দিতে চেয়েছিল, তার দুয়ারে সত্যিই যদি তৃষ্ণার্ত কেউ কড়া নাড়ে, সে কি আর তাকে পানি খাওয়াতে পারবে? এই আশঙ্কা না করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে বরং শিশু-কিশোরদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ভালো কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিতে হবে।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর যোগদান না করার সিদ্ধান্তটিকে আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দিয়ে মূল্যায়ন করতে চাই না। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে শুধু আবেগ বা মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিচার করলে চলবে না।
২ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ঘোষিত ‘জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬’ অনুমোদনের পর জাতীয় দৈনিকগুলোতে আসা হিসাব-নিকাশগুলো একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হলে সদ্য যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক বেতন এক লাফে দ্বিগুণ হবে। সংবাদটি প্রাথমিকভাবে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও এর আড়ালে যে গভীর....
৩ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ গিয়েছিলাম। প্রমত্তা যমুনার পারে এই শহরটির রয়েছে দীর্ঘ ভাঙাগড়ার ইতিহাস। আজ থেকে ৩৯ বছর আগে প্রথম এই শহরে যাওয়ার কথা বারবার মনে পড়ছে। মনে মনে হিসাব করে দেখলাম, দেশে ও বিদেশে যেখানেই গিয়েছি, তার প্রধান কারণ একটাই ছিল, সেটা হলো শিল্পকলার প্রেরণা, নাটক।
১ দিন আগে
একটি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে—খবরটি নিঃসন্দেহে আনন্দের। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, শতভাগ পাসের এই সাফল্যের আড়ালে কি...
১ দিন আগে