ভেনেজুয়েলায় ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য ইরান। আর এই দুই লক্ষ্যবস্তুর কেন্দ্রে রয়েছে চীন। চীনে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করে ইরান ও ভেনেজুয়েলা। ফলে ভেনেজুয়েলা ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক নয়, সরাসরি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর আঘাত।
ভেনেজুয়েলা ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকার বসাতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন তেলের বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারবে, অন্যদিকে চীনকে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সংকটে ফেলতে সক্ষম হবে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য চীনকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা। এবার সেই কৌশলের নতুন রূপ চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদার দেশগুলো। ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুতে যখন একে একে চীনের অর্থনৈতিক সহযোগী দেশগুলো পড়ছে, তখন প্রশ্ন থেকেই যায়, চীন কি শুধু দূর থেকে হিসাব কষবে, নাকি কোনো প্রতিরোধের বিষয়ে ভাববে?
চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ভোক্তা। নিজস্ব চাহিদার ৫০-৬০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয় দেশটিকে। ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল কিনে থাকে বেইজিং। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা চীনের কাছে শুধু জ্বালানি উৎস নয়, বরং একটি বড় আর্থিক বিনিয়োগ ক্ষেত্রও। দেশটিতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার, পাশাপাশি তেলের আগাম মূল্য হিসাবে দেওয়া ঋণের অঙ্ক প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও সামরিক চাপে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চীনের জ্বালানি সরবরাহে। একই চিত্র ইরানের ক্ষেত্রেও; যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা হিসেবে টিকে ছিল।
গত দুই দশকে দক্ষিণ আমেরিকায় চীনের প্রভাব দ্রুত বেড়েছে। পণ্য বাণিজ্য, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও ঋণ কূটনীতির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল বেইজিং। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে জানাচ্ছে, পশ্চিম গোলার্ধে তারা চীনের কোনো কৌশলগত উপস্থিতি দেখতে চায় না।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যেও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক সংকট ও সামরিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সরকার পরিবর্তনের জন্য সুযোগ খুঁজছে।
বড় প্রশ্ন হিসেবে এখন দেখা দিচ্ছে—চীন কী করবে? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া, লিবিয়া, ভেনেজুয়েলা কিংবা ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য বা গোপন হস্তক্ষেপের সময় বেইজিং কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। কূটনৈতিক বিবৃতি ও নিন্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে তাদের অবস্থান।
চীন সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়। তারা দীর্ঘ মেয়াদে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়। যুদ্ধ নয়, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তির ভারসাম্য বদলানোই বেইজিংয়ের মূল কৌশল।
তবে এই কৌশল ছোট এবং দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর জন্য কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা বা ইরানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মুখে চীন কার্যকর নিরাপত্তা ছাতা হয়ে উঠতে পারেনি।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হোক না কেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা এখনো গভীর। এই বাস্তবতায় ‘বন্ধু’রাষ্ট্রগুলোর জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন কূটনৈতিক ভাষা আর বিবৃতির বাইরে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যম বিভাগ, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়

‘লোকসানের জন্য মালিক কারখানা বন্ধ করে দেইল। এলাই হামার কামকাজ নাই। কেমন করি সংসার চলিবে? ছোট দুইখান ছাওয়াক নিয়া না খায়া মরির নাগিবে।’ কর্মহীন পোশাকশ্রমিক রোজিনার এই আক্ষেপ কোনো কর্তৃপক্ষের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়বে কি না, তা আমাদের জানা নেই। তবে এ কথা সত্যি, নীলফামারীর ২৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে...
২১ ঘণ্টা আগে
জালিয়াতিতে বাংলাদেশ পৃথিবী চ্যাম্পিয়ন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, সব জিনিস জাল। বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল, একটা জালিয়াতকারীর কারখানা বানিয়েছি আমরা। আমাদের বুদ্ধি আছে, কিন্তু সেটা খারাপ কাজে লাগাচ্ছি।
২১ ঘণ্টা আগে
বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের মৌলিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের চিন্তাচেতনায় বড় আকারে প্রশ্নটা এবার থেকেই যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম কৌশল কিংবা পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত বা দাবি করা হলেও, বাস্তবে তার উল্টোটাই...
২১ ঘণ্টা আগে
কথা ছিল, এ দেশ হবে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-পাহাড়ি-আদিবাসী-ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সবার। কথা ছিল, লড়াইটা হবে ভাত-কাপড়ের, রুটি-রুজির, মানুষের জীবনমান ও মর্যাদার। রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়ে, যেখানে ধর্ম, জাতিসত্তা কিংবা শ্রেণি নয়—মানুষই হবে রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু।
২১ ঘণ্টা আগে