স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে এসে অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ব্যবহার করেছে, কিন্তু পাঠকক্ষে ফিরিয়ে নিতে চায়নি। কোনো অভিভাবকও ভূমিকা নিতে পারেননি। আজকের দিনে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, সেল ফোন যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও একটা সামাজিক চেতনার জরুরি প্রয়োজন ছিল।

আমার এক বন্ধু বাংলা সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র এবং খুবই পড়ুয়া। তার নিজস্ব লাইব্রেরিটিও খুবই সমৃদ্ধ। দুর্লভ সব বই সংগ্রহ করে থাকে। খুঁজে খুঁজে বড় বড় বইমেলায় যায়। এ বাংলার উৎসাহী বন্ধুদেরও নিজ খরচে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসাটি করে গার্মেন্টস শিল্পের। ব্যবসাটিও ভালোই। কথায় কথায় যখন একসময় তাকে প্রস্তাব করলাম একটা বইয়ের দোকান করো না, যেখানে দুর্লভ সব বই পাওয়া যাবে। শুধু বিক্রির জন্য নয়, সব রকমের পাঠকেরা এখানে এসে পড়তেও পারবে। বন্ধুটি প্রস্তাবটিতে শুধু শুধু সায় দিল না, অংশ নিয়েও পড়ল। নতুন দেশি-বিদেশি বই তো সংগ্রহে লেগে পড়ল, সেই সঙ্গে অনেক লেখক এবং যাঁদের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ বই আছে, সেসবও জোগাড় হয়ে গেল। গার্মেন্টসের কারখানাটা সরিয়ে নতুন একটা জায়গায় নিয়ে গেল। পরিত্যক্ত কারখানাটি তিনতলার। দ্বিতীয় তলায় বইয়ের দোকান এবং পাঠাগার, তিনতলায় আর্ট গ্যালারি, ছোট্ট একটা মিলনায়তন, নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ কোকো বলা যায়। বেশ ঘটা করেই উদ্বোধন হয়ে গেল। অনেক গুণী মানুষের পদধূলি পড়ল। শুরুতে ক্রেতা এবং পাঠকও এল। নিচতলার খাবারের দোকানটিও চলল মোটামুটি। কিন্তু বছর দুয়েকের অনেক আগে থেকেই বইয়ের দোকানটায় ক্রেতা এবং পাঠকের সমাবেশ কমতে শুরু করল। লাখ লাখ টাকা লগ্নি করার পর ছয় মাস শেষে ভর্তুকিটা দিন দিন বাড়তেই থাকল। তার মধ্যে গার্মেন্টস কারখানায়ও আগের মতো অর্ডার আসছে না। সারা মাসের কাজের উপযোগী অর্ডারের অভাবে সেখানেও ভর্তুকি দেওয়ার আর উপায় থাকল না। কখনোই ঋণ ছিল না। ঋণ বাড়তে শুরু হলো। বাধ্য হয়ে বইয়ের দোকানটাকে নিচতলায় রেস্তোরাঁর পাশে নিয়ে আসা হলো। তিনতলা ছেড়েই দিতে হলো।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বেশ একটা প্রকাশনা শিল্প গড়ে উঠেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরেও ছোট-বড় নানা ধরনের বইয়ের দোকান গড়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে একুশের বইমেলা ঘিরে যে অনিশ্চয়তা গড়ে উঠেছিল, তাতেও বই প্রকাশনা শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জায়গাটি মিরপুরের এমন একটা জায়গায় অবস্থিত, যেখানে একটা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠতে পারত এবং তার জন্য আমরা প্রস্তুতও হয়েছিলাম। সেখানে বড় একটা হতাশার সৃষ্টি হলো। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় একটা দুর্ঘটনাও ঘটে গেল। এই ব্যবসাটিতে বেশ প্রবৃদ্ধিও হয়েছিল। সেটাতে আঘাত মানে শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, বেকারত্বও দেশের ওপর চেপে বসবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই এই সংকটগুলো শুরু হয়েছে। আমরা বহু ক্লায়কেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নাটককে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেখানেও বড় ধরনের আঘাত এসেছে। অবশ্য নাট্যকর্মীদের প্রবল প্রাণশক্তি এবং কোনো ধরনের আর্থিক আকাঙ্ক্ষা নেই বলে এখনো চলছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও আগের মতো অনুষ্ঠান করতে পারছে না। শিল্পীরা সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে এত দিন যেভাবে চলছিল তা আর চলতে পারছে না। একটা অন্ধকারের পথযাত্রা শুরু হয়েছে। বন্ধুটির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, প্রতিদিনই সে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের সঙ্গে দেনদরবার করেছে, কিন্তু সংগঠন বা সরকার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। সব ক্ষেত্রেই সরকার সম্ভবত 'ধীরে চলো' নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু আজকের দিনে ধীরে চলো নীতিতে কি কাজ হবে?
বন্ধুটির যদি কারখানাটা ঠিকঠাকভাবে চলত, তাহলে বইয়ের দোকান এবং তিনতলার সংস্কৃতির জায়গাটা রক্ষা করতে পারত। এ রকম সমস্যা সব ক্ষেত্রেই। গ্যাস, তেল সব ক্ষেত্রেই একটা অচলাবস্থা চলছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে কিন্তু সমাজে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হবে। অস্থিরতার একটা ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু যে নৈরাজ্য দেখতে পাওয়া যায় তাই নয়, অশ্লীলতার একটা জীবন্ত কারখানায় পরিণত হয়েছে।
মাননীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, এক মাসে আমাদের দেশে ১১৮টি ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। আইনগতভাবে তিনি দাবি করতেই পারেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে যেভাবে যৌনতাকে উসকে দেওয়ার জন্য যেসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, সেসব বন্ধ করার কোনো উপায় কি সরকার বের করতে পারে না? নিশ্চয়ই সেসব উপায় বিজ্ঞানীরা বের করেছেন। কিন্তু দায়িত্বহীনভাবে এসব চলছে, তার কোনো ব্যবস্থা সরকার কি নেবে না?
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে এসে অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ব্যবহার করেছে, কিন্তু পাঠকক্ষে ফিরিয়ে নিতে চায়নি। কোনো অভিভাবকও ভূমিকা নিতে পারেননি। আজকের দিনে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, সেল ফোন যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও একটা সামাজিক চেতনার জরুরি প্রয়োজন ছিল। ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব সঠিকভাবে গ্রহণ করা উচিত ছিল। সেখানেও বড় দায়িত্বহীনতা ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে। দেশটাকে বাসযোগ্য করার জন্য আমার বন্ধুটি যে উদ্যোগটা নিয়েছিল, সেসব দিক থেকে বিপদগ্রস্ত না হলে একটা সুস্থির অবস্থা হতে পারত। সংস্কৃতির চর্চাটা মানুষকে নতুন একটা চিন্তার দিগন্তে নিতে পারত। আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন একসঙ্গে মিশে বড় একটা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখাতে পারত।
লেখক: নাট্যব্যক্তিত্ব

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে এমপিও ও সরকারি স্বীকৃতি
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজগুলো নিয়ে গঠিত হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটা প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি (অধ্যাদেশ জারি হয় ৮ ফেব্রুয়ারি, তবে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়)।
৩ ঘণ্টা আগে
স্কুলে যাওয়ার নাম করে তিন বান্ধবী পার্কে যাচ্ছিল। পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত পোশাক। দুপুরের খাবারও ছিল সঙ্গে। পার্কে একটা দারুণ সময় কাটাবে বলে প্রস্তুত ছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিবেশন করে কাজের জায়গায় ফিরছিলেন
৩ ঘণ্টা আগে
সেবার মান ও দক্ষতা ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরেরও যে কিছুটা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। একটি সফল বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসের নিয়মিতভাবে নতুন উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন করা, নতুন লাভজনক রুট চালু করা এবং যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বাড়ানো অপরিহার্য
১ দিন আগে