Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

‘না’ বিজয়ী হলে রাষ্ট্রকে গণতন্ত্রায়ণ করার সুযোগ হাতছাড়া হবে: আলী রীয়াজ

‘না’ বিজয়ী হলে রাষ্ট্রকে গণতন্ত্রায়ণ করার সুযোগ হাতছাড়া হবে: আলী রীয়াজ

আলী রীয়াজ বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা), যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গণভোট নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এবং এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান, জুলাই সনদসহ নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার তানিম আহমেদমাসুদ রানা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৯

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার প্রচার করতে পারে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা আছে। আপনি এ বিষয়ে কী বলবেন?

যেকোনো বিষয়ে সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্তভাবে সবাই একটা জায়গায় একমত হবে, সেটাও আমি মনে করি না। আমি মনে করি, তাঁরা তাঁদের চিন্তাধারা থেকে সেটা বলছেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে বারবার বলেছি, আইনগত বিষয়ে একটা ব্যাখ্যার পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যেমন ইসি একভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আবার অন্যরা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আবার অন্য আইনজীবীরা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কিছু আইনজীবী আবার ইসির ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হয়েছেন। আর একটা হলো রাজনৈতিক দিক। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন এবং ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হলো, সেখানে কিন্তু সরকার কিছু চাপিয়ে দেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে। সনদের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, সেখানে আবার ভিন্নমত আছে। কিন্তু তার মধ্য দিয়ে যে জুলাই আন্দোলনের পরে সামগ্রিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাটা তৈরি হয়েছে, সেটা প্রত্যেকের বলা ও মানা উচিত—আমরা সেটাই বলে যাচ্ছি। আমরা এ কারণে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বলছি। কারণ, এটা ছাড়া পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কেউ যদি না চায়, সেখানে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। সেখানে তো কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না বা এ রকমও বলা হচ্ছে না যে, ‘না’ প্রচার করা যাবে না।

আপনারা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যুক্ত করলেন। পরে নির্বাচন কমিশন সে নির্দেশনা রদ করে দিল। এটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

ইসির পক্ষ থেকে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তারা যেহেতু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে আছে, তারা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছে। আমরা যে সমস্ত আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাঁরা একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। সেখানে একটা ব্যাখ্যার ফারাক থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আশা করছি, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিনের মধ্যে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হবে, যাতে এই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

গণভোটে এক প্রশ্নে একটা আবার সেখানে আরও কিছু প্রশ্নের ব্যাখ্যা আছে; মানে চারটা ক, খ, গ ও ঘ অপশন আছে। এটাকে অনেকে অস্পষ্টতা বলছেন। একটা প্রশ্নে এতগুলো প্রশ্ন নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন আছে। এ নিয়ে আপনাদের ব্যাখ্যা কী?

এ বিষয় নিয়ে মানুষের প্রশ্নকে অযৌক্তিক মনে করি না। কিন্তু বিষয়টাকে আমাদের দেখতে হবে এভাবে, প্রথমত চারটা প্রশ্ন নয়। চারটা ব্যাখ্যা আছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ও দ্বিমত তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে জনগণের সমর্থন ও সম্মতি আছে কি না, সেটা নিয়েই ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ প্রশ্ন করা হয়েছে। যেমন বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তাতে কী ঘটনা ঘটবে; জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে কী কী ঘটবে। যেমন ক-তে বলা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা। কিছু বিষয়ে তো ঐকমত্যে আসা গেল না বা অর্ধেক ঐকমত্য হলো। যেমন উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে কারও কোনো ভিন্নমত নেই। এর গঠনের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ, সে জন্য আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটার রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনেক তাৎপর্য আছে, সেটা জেনেই আপনারা ভোটটা দিন—সেটাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কেউ যদি সনদ না পড়ে বিষয়টা বুঝতে চান, সেটা ব্যালটের লেখা পড়ে বুঝতে পারবেন। নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মতপার্থক্য আছে, সেটা আলাদা করে বলা আছে। সর্বোপরি জুলাই জাতীয় সনদে এসব বিষয়ের বাইরেও তো অনেক কিছু আছে। সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কী হবে? ৪৮টি বিষয় হলো সংবিধানসংশ্লিষ্ট। এটা হলো সংবিধান সংস্কার আদেশ। ৩০টার বাইরেও তো অনেক বিষয় আছে, সেগুলোর কী হবে? রাজনৈতিক দলগুলো সে বিষয়ে বিবেচনা করবে। ফলে এর মধ্য দিয়ে আসলে ব্যাখ্যাটা করা হয়েছে। এই যে চারটা বিষয়ে বিভক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সেটা নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে ভোট দিতে হবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখন ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট হয়েছে, যেমন তিউনিসিয়া বা কেনিয়াতে যখন গণভোট হয়েছে, সেখানে কি ব্যালটে সব বিধানের সব ধারা যুক্ত করা হয়েছিল? সেটা তো সম্ভবও না। তবে তুরস্কে ১৮টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। সেটা নিয়েই ভোট হয়েছিল। তুরস্কে প্রথমে ২১টি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছিল। পার্লামেন্টে সেটা নিয়ে দুই দফা আলোচনা হয়। তারপর সেটা একটা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেই কমিটি বিরোধীদের আপত্তির মুখে ২১ থেকে ১৮টি বিষয়কে গণভোটে নিয়ে যায়। সেখানে ৫১ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল।

পৃথিবীর অন্যত্র কিন্তু তা-ই হয়। আমাদের ক্ষেত্রে যাঁরা বলছেন, এতগুলো কেমন প্রশ্ন? তাতে মনে হয় একটা ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে গেছে। আসলে কোনো ভয়াবহ কাণ্ড ঘটেনি। কারণ, পৃথিবীর যেখানেই সংবিধান নিয়ে গণভোট হয়েছে, সেখানে পুরো খসড়া সংবিধান প্রকাশ করে শুধু একটা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে সংবিধান অনুমোদন করেছে কি না, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আমি তিউনিসিয়া ও কেনিয়ার কথা বলেছি। আপনারা তুরস্কের প্রসঙ্গ এনেছেন। সেখানে ১৮টি বিষয়ে গণভোট হয়ে সংবিধান অনুমোদিত হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

আমি পুরোনো বাংলাদেশের ইতিহাসের মধ্যে যাব না। ১৯৯১ সালে যখন গণভোট হয় সেখানে বলা হয়েছিল আমরা রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় যাব। সেখানে কিন্তু এত কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি—কতগুলো অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে আমি বলব, প্রশ্নটা আসলে কী? এখানে যাঁরা খানিকটা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, প্রশ্নটা কিন্তু খুব সহজ। সহজ প্রশ্নটা হচ্ছে, আপনি পরিবর্তন চান কি, চান না? এই পরিবর্তন এই সরকারের অ্যাজেন্ডা নয়। এই পরিবর্তন দিয়ে সরকার কোনো সুবিধা লাভ করবে না। তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবে, বিষয়টি সে রকম না। তারা বাস্তবায়ন করবে, তা-ও নয়। তারা তৈরি করে সবাইকে বাধ্য করছে, বিষয়টি তা-ও নয়। বলা হচ্ছে যে রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে জায়গায় এসেছে, সেটা আপনারা অনুমোদন দিন অথবা না দিন। এই জায়গায় আমাদের কথা হলো, আমরা পরিবর্তন চাই কি চাই না? এটা শুধু সংবিধান পরিবর্তনের বিষয় না। এর বাইরেও তো অনেক বিষয় আছে। অধ্যাদেশ জারি করা আছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন যখন বসবে, তখন সেসব নিয়ে আলোচনা করা হবে।

গণভোটে আর একটা বিষয় হলো, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়। এটা তো খুব সুনির্দিষ্ট। কারণ আমরা সবাই জানি। সংসদে আপনি শুধু অ্যামেন্ডিং পাওয়ার (সংশোধনের ক্ষমতা) দিয়ে যদি মৌলিক সংস্কার যেমন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস ও মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান, তবে সমস্যা হবে। এগুলো তো মৌলিক বিষয়। এগুলো শুধু অ্যামেন্ডিং পাওয়ার দিয়ে করলে আদালতে প্রশ্ন উঠতে পারে, সে জন্য জনগণই মতামত দিক। জনগণই বলুক, তারাই অ্যামেন্ডিং পাওয়ারের বাইরে একটা বিশেষ ক্ষমতা দিচ্ছে এসব বিষয় নিয়ে।

কেউ যেন পরে প্রশ্ন তুলতে না পারে, তখন বলা যাবে জনগণ সম্মতি দিয়েছিল বলেই সংবিধানের বড় ধরনের সংস্কার করা সম্ভব হয়েছে। আলোচনার সময় কনস্টিচুয়েন্ট পাওয়ার দেওয়া নিয়ে কথা উঠেছিল। সেই পাওয়ার দিতে হবে। জনগণ কী পাওয়ার দিচ্ছে, সেটা যেন তারা জানতে পারে। আবার সংসদকে কিন্তু আনলিমিটেড পাওয়ারও দেওয়া হচ্ছে না, সীমার মধ্যে ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। মানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে সংবিধানের মৌলিক দিক নিয়ে তারা কাজ করবে।

বিশেষ করে বিএনপির অনেক নোট অব ডিসেন্ট ছিল। যদি ক্ষমতায় বিএনপি চলে যায়, তাহলে গণভোটের মানে কী দাঁড়াতে পারে?

আমি শুধু বিএনপির কথা বলতে চাই না। অন্য দলেরও নোট অব ডিসেন্ট ছিল। নোট অব ডিসেন্টকে আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু যেকোনো রাজনৈতিক দল তো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। জনগণ যদি কিছু চায় তাহলে যেকোনো রাজনৈতিক দল সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তারা নিশ্চয়ই সেটাকে বিবেচনায় নেবে। বিবেচনা করার জন্য একধরনের বাধ্যবাধকতা তো তৈরি হয়।

প্রচলিত আইনকে কোনোভাবেই আক্ষরিক অর্থে বিবেচনা করা যাবে না। স্পিরিট, নৈতিকতা, রাজনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যাবে সংবিধানের সংশোধন, সংযোজন, সংস্কার শুধু আইনি বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটাকে কোনোভাবেই কেবল আইনি বিষয়ের মধ্যে রাখা যাবে না। আইনি বিষয়ের বাইরে একটা বিশেষ প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তার ভিত্তিতে প্রক্রিয়ার কথাটা মনে রাখতে হবে। তারপরে জনগণের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে সম্মিলিতভাবে দেখলে বোঝা যাবে, এত কিছুর পরেও কি এটার বাস্তবায়ন যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?

সরকার তো শুধু ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার করছে। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ জয়যুক্ত হলে কী হতে পারে?

প্রথমেই ধরে নিই যদি ‘না’ জয়যুক্ত হয় তাহলে কী হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি না যে ‘না’ জয়ী হবে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। রাজনৈতিক দলগুলোও পরিবর্তন চায়। সেটার মাত্রাগত পার্থক্য আছে। ফলে কেউই ‘না’-এর কথা বলে নিজেকে জনগণ থেকে এমন অবস্থায় নিতে পারবে না বা চাইবেও না যেন এ প্রক্রিয়াটা বাতিল হয়ে যায়। যদি তাত্ত্বিকভাবে বিষয়টা বিবেচনায় নেওয়া যায়, তাহলে ‘না’ জয়ী হলে বিদ্যমান সংবিধান যা আছে, তা-ই থাকবে।

বড় ধরনের সংস্কারের দাবি নিয়ে একটা বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে; প্রায় সাড়ে ১৬ বছর ধরে আন্দোলন হয়েছে। উদাহরণ দিই, সংস্কারের প্রয়োজন ছিল বলেই সরকার পতনের অনেক আগেই বিএনপি সংস্কারের ৩১ দফা দিয়েছিল। কিংবা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন তো এই দাবি নিয়েই রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে। হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক আমল থেকেই সংস্কারের ক্ষেত্রটা তৈরি হয়েছে। এখন যদি জনগণ সেটা প্রত্যাখ্যান করে বা অন্য কোনো কারণে সেটা না হয়, তাহলে বিদ্যমান ব্যবস্থাটা বহাল থাকবে। বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটি আমরা জানি। ত্রুটি তো কমবেশি সবাই জানে। দলগুলোও জানে। ফলে ‘না’ বিজয়ী হলে সেই ত্রুটিগুলো থাকবে, রাষ্ট্রকে গণতন্ত্রায়ণ করার সুযোগ হাতছাড়া হবে। তাতে এককেন্দ্রিক শাসন ফিরে আসার দরজা খোলা থাকবে।

আইন আর সংবিধান পরিবর্তন করলে সব দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি সে রকমও না। এখন যেটা খোলা আছে, সেটা বন্ধ হবে। ‘না’ জিতলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন থাকবে না। ১৬ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। রাষ্ট্রের যেসব ভিত্তি, সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন এই রাষ্ট্র সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। রাষ্ট্রকে এখন কেউ সে জায়গায় দেখতে চায় না।

আর ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এই ব্যাপারগুলোকে উল্টো করে দেখতে হবে। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে অকস্মাৎ বা ছয় মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে সব সংবিধান পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে—এ রকম মনে করার কোনো কারণ নেই। মাত্র প্রক্রিয়াটা শুরু হবে। একটা রাষ্ট্র গঠনপ্রক্রিয়া এক দিনের বিষয় না। এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো দলের নেতা বা প্রেসিডেন্ট তাঁদের ভাষণে বলেন, আমরা এখনো একটা পারফেক্ট ইউনিয়ন তৈরি করার চেষ্টা করছি। মানে এখনো পুরোপুরি হয়নি। আড়াই শ বছর পরেও তা হয়নি। রাষ্ট্র আসলে এভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হবে এবং তার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের যে গণতন্ত্রায়ণ এবং একটা শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে অগ্রযাত্রা, সে ক্ষেত্রে এই গণভোট বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।

গত ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এর আগে অনেক আন্দোলন ও রক্তপাতের পরেও কাঙ্ক্ষিতভাবে কোনো কিছুই সম্ভব হয়নি। এখন হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ার পরেও সেটার আশাবাদ কতটুকু?

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলো হয়ে গেলে একেবারে পরদিনই আমরা বলতে পারব না এটা একটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। কিন্তু এটা না করে একেবারেই এগোনো যাবে না। আমি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিই। আমার পেশাগত দিক, পড়ানো ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছাড়া রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হয় না। তার মানে এই নয়, এটা হলেই সবকিছু হয়ে যাবে। আমাদের শাসনকাঠামো বদলের জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক অর্থনীতিও বদলাতে হবে। সেটা বদলানোর তাগিদটা তৈরি হয়, যখন প্রতিষ্ঠানটা তৈরি হয়ে যায়।

আমাদের যদি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকে, তাহলে দুর্নীতিপরায়ণতা কমে যাবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাঁরা কর্মরত রয়েছেন, তখন তাঁরা প্রত্যেকে ভাববেন, ‘আমাকে যেকোনো সময় প্রশ্নের সম্মুখীন করা হতে পারে। আমিও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারি।’ এই বোধ দুর্নীতিকে অনেক কমিয়ে আনবে। এই চর্চাটা যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব।

আমি মনে করি, এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় অবদান হলো প্রতিটি দলের শীর্ষ নেতারা বুঝতে পেরেছেন রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করে পরস্পরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, সহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে তো আমরা গণতান্ত্রিক হতে পারব না।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, তারা শুধু যেন বিবেচনা করে যে নির্বাচনে একটা দল যখন বিজয়ী হয়, ক্ষমতায় যায়, তখন আসলে কী হয় বা জনগণ কী বলে? জনগণ একটা ম্যান্ডেট দেয়। দেশ শাসন করার ম্যান্ডেট তারা পায়—‘ম্যান্ডেট টু গভর্ন’; সেটা কিন্তু ‘লাইসেন্স টু রুল’ নয়। তারা যা ইচ্ছে করবে, সেই লাইসেন্স নয়। আমরা গত ১৬ বছরে সেটাই দেখেছি। তারা বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রটাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি সেই বিবেচনা থেকে বলতে চাই যে আমরা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যা কিছু শিখলাম, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই সেটা সম্ভব। শুরুটা করতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করে।

শেখ হাসিনার আমলে ১৬ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সেটার কোনো পরিবর্তন আমরা দেখতে পেলাম না। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে যত দূর সম্ভব সংস্কার করার চেষ্টা করেছে। সবকিছুতে সাফল্য অর্জন করা গেছে, সে দাবি আমরা করব না। রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অকস্মাৎ কোনো কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তৎক্ষণাৎ সবকিছু করা সম্ভব, বিষয়টা সে রকম নয়। তদুপরি রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে যাঁরা থাকেন, যাঁদের আমরা আমলাতন্ত্র বলে চিহ্নিত করি, তাঁদের তো একটা প্রতিরোধ থাকে। এবারও সেটা ছিল। আবার পুলিশ তো ৫ আগস্টের পর সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিল। পুলিশ বাহিনী ছাড়া অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। ফলে এককভাবে সরকারকে এই বিষয়টি মোকাবিলা করতে হয়েছে, সেটাকে নিশ্চিত করতে হয়েছে। আবার যারা এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত, তাদের বিচারের সম্মুখীনও করতে হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে কেউ কেউ চাকরিচ্যুত হয়েছেন। চেষ্টা তো ছিল। একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে কিছু করা সম্ভব হয়েছে। সরকার এর বেশি করতে পেরেছে দেখলে আমি নিজে খুশি হতে পারতাম।

কিন্তু বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বিষয়গুলোকে দেখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। চাপসহ সবকিছু নিয়ে দাবি তোলা এবং অতি দ্রুত নির্বাচনের দাবি তোলা—এ সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতিটা এ জায়গায় দাঁড়িয়েছে।

আপনি বলেছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এটা নিয়ে আইনজ্ঞরা সমালোচনা করছেন। আপনি বিষয়টাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

তারা ইচ্ছে করে না বুঝে করছেন, নাকি আলোচনাটাকে শুধু সমালোচনার জন্য করছেন—এটা আমার প্রশ্ন। আমি যেটা বারবার ব্যাখ্যা করেছি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে যেটা এসেছে, সেটা হলো জাতীয় সংসদের অ্যামেন্ডিং পাওয়ার ছাড়া অন্য কোনো পাওয়ার নেই। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের আলোচনার সময় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একমত হয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন করতে হবে। সেটার জন্য অ্যামেন্ডিং পাওয়ার যথেষ্ট নয়। কনস্টিচুয়েন্ট পাওয়ার দিতে হচ্ছে ১৮০ কার্যদিনের জন্য। এতে সংসদের কোনো সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে না।

আর একটা জরুরি কথা হলো, সংসদ কোনোভাবেই সার্বভৌম নয়। সংসদকে যাঁরা সার্বভৌম বলেন তাঁরা আসলে ভুল বলেন। জনগণই একমাত্র সার্বভৌম। কিন্তু সংসদের যে অ্যামেন্ডিং পাওয়ার, সেটা কেউ খর্ব করতে পারবে না। কোথাও বলা হয়নি, সেটা খর্ব করা হবে। কিন্তু তাদের কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা দিতে হবে, যেটা জাতীয় সংসদের চেয়ে বেশি। অকস্মাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সে ক্ষমতা কোথা থেকে পাবে? তাহলে চতুর্দশে থাকবে না কেন? সে কারণে ১৮০ দিনের কথা বলা হয়েছে। এবং সেটা জনগণের সম্মতি নিয়েই করা হচ্ছে। এমন না যে সরকার সেটা বলে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, ১৮০ দিন, মানে ছয় মাসের জন্য তারা কনস্টিচুয়েন্ট পাওয়ার চর্চা করবে। এটা তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা। এটার সঙ্গে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য অপপ্রচার করছেন। কেউ কেউ বলছেন, তখন নাকি সংসদ অধিবেশন বসবেই না। প্রধানমন্ত্রীও কেউ থাকবে না। যাঁরা এসব বলেন, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবেই বলেন।

জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে যারা প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ওই সংসদের ৩০০ জন সদস্য দুটি শপথ গ্রহণ করবেন। একটি জাতীয় সংসদের, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের। জাতীয় সংসদের শপথ গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংসদ হিসেবে তাঁদের যা করণীয় অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার নির্বাচন থেকে বাজেট তৈরি—সব করতে হবে। সর্বোপরি ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া অধ্যাদেশগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেগুলো আইনে পরিণত করতে হবে। আর যদি না করে তাহলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এর মধ্যে অনেক কিছু আছে। যেমন জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির ব্যাপার আছে। এর বাইরে আরও অনেক বিষয় আছে। এসব কাজ করা তাদের দায়িত্ব। সেগুলো না করে কোনো উপায় আছে? সে জন্যই তো তারা নির্বাচিত হয়েছে। ফলে এসব কথা যারা বলার চেষ্টা করছে তারা তো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়।

তাঁরা আরও বলছেন, সরকার নাকি আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকতে চায়। এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ আছে কি না, তা আমার জানা নেই।

১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এ কাজগুলো করা সম্ভব কি?

এ সময়ের মধ্যে এটা করা সম্ভব। কারণ হলো, ইতিমধ্যে আলাপ-আলোচনাগুলো একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই সনদ করার সময় রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করেছে। কিছু বিষয় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিটা রাজনৈতিক দল কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনসহ অন্যান্য সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো জানে, এইগুলো তৈরিতে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে তাঁরা জানেন কোন কোন বিষয়ে সংস্কার করতে হবে। এগুলো সুনির্দিষ্ট করা। এগুলো সংবিধানে যুক্ত করার জন্য আসলে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। এগুলোকে আবার ভাগ করেও করা সম্ভব। যেমন ধরুন, তারা যদি চায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ বসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কমিটি করে দিতে পারে। বিচার, নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা প্রভৃতি নিয়ে কমিটি করে দিলে কাজ আরও সহজ হবে। সংবিধানে সেই বিষয়গুলো কীভাবে যুক্ত করবে, তার জন্য কমিটিগুলো আগে খসড়া তৈরি করবে। সেই খসড়া পরিষদের ফ্লোরে নিয়ে এসে আলাপ-আলোচনা করলেই তো কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কমিটিগুলো যদি সেই কাজগুলো দ্রুত করে নিতে পারে তাহলে সুবিধা হবে।

অন্য দেশে কিন্তু এভাবে সংবিধান সংস্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশে গণপরিষদ ১৯৭২ সালে একটা কমিটি করেই তো করেছে। আবার অন্য দেশগুলোতে আমরা এটাও দেখেছি, পাঁচটা কমিটি করে সবার মতামত নিয়ে করা হয়েছে। ফলে এটাতে কোনো সময়ক্ষেপণ হবে না। কাজটা খুব সহজ নয়, কিন্তু আমি এটাকে অসম্ভব মনে করি না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যেকের এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা আছে। কারণ তারা জানে, তারা কী করতে চায়। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও সেসবের অনেক কিছু থাকবে।

কেউ কেউ আবার সংবিধান পুরোপুরি পরিবর্তনের আশঙ্কা করছে। তা ছাড়া জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট সেখানে কতটা প্রতিফলিত হবে?

বিদ্যমান সংবিধান সংস্কার করা গেলে অনেকটা পথ অগ্রসর হওয়া যাবে। বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষ থেকে সংবিধান নিয়ে সাধারণভাবে সব পক্ষ আলোচনা করেছে। সে রকম কোনো উদাহরণ গত ৫০ বছরে সম্ভব হয়নি। আমি কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে বলেছিলাম, সংবিধান পুনর্লিখিত হওয়া দরকার। লক্ষ করে দেখুন, আগস্ট মাসের ২৭-২৮ তারিখ পর্যন্ত খুবই সীমিত আকারে সংবিধান নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল।

সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং যারা এই আন্দোলনের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, তারা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছিল। আমি সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলাম, আমাদের এই সংবিধান অক্ষুণ্ন রেখে সেটা করা সম্ভব হবে না। সেটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত প্রস্তাব ছিল। কিন্তু আমি যখন কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছি তখন সবার মতামতের ভিত্তিতে কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। নিজস্ব মতামত সেখানে চাপানোর চেষ্টা করিনি। আমার অবস্থান তো চূড়ান্ত হতে পারে না।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং যেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, সেগুলোর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেটা বাস্তবায়িত হলে পুরো আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হয়ে যাবে, তা আমি মনে করি না। কিন্তু আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যতটুকু অগ্রসর করা যায়, সেটা সম্ভব।

গণভোট নিয়ে দুটি পক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। এর আগে যে গণভোট হয়েছে সেখানে ভোট কাস্টের পরিমাণ খুব কম ছিল। এবার সরকার ৬০ শতাংশ ভোটের প্রত্যাশা করছে। এবারের গণভোটে খুব কম কাস্ট হলে সেটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ আছে কি?

১৯৯১ সালে যে গণভোটের মাধ্যমে আমাদের দেশ সংসদীয় পথের দিকে অগ্রসর হয়েছে, সেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। কেউ কি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে? এখনো কিন্তু আমরা সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যে আছি। তার অন্যতম কারণ ছিল সেই গণভোট। তাহলে এখানে যদি কম হয়? যদিও আমি তা মনে করছি না, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ জানাতে চাই, গণভোটে অংশ নিয়ে আপনি আপনার মতামত প্রদান করুন, সংস্কারের বিষয়ে আপনার মতামত দিন। আমার দিক থেকে বলছি, এটা যেন ইতিবাচকভাবে হয়। তারপরেও জনগণের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু মাত্রায় হেরফের ঘটে, তাহলে এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার তো কোনো সুযোগেই আমি দেখি না। ১৯৯১ সালের গণভোট এত দিন ধরে প্রশ্নাতীতভাবে আছে, একইভাবে কম ভোটও যদি কাস্ট হয় তাতেও এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাদেরও ধন্যবাদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পুকুরে লুকিয়ে রাখা ছিল বিপুল অস্ত্র-গুলি, পানি সেচে জাল ফেলে উদ্ধার

এপস্টেইনের ই-মেইল ইনবক্স দেখতে পারেন আপনিও, কীভাবে দেখবেন

বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদের লিভ টু আপিল

এপস্টেইনের কাছে ‘লম্বা, স্বর্ণকেশী সুইডিশ তরুণী’ চেয়েছিলেন আম্বানি

১৩ অস্ত্রসহ সুব্রত বাইনের সহযোগী দীপু গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত