Ajker Patrika

স্কন্ধকাটা লাশ

সম্পাদকীয়
স্কন্ধকাটা লাশ

আমরা কি বুঝতে পারছি কী ভয়ানক অনিরাপদ সমাজে বেড়ে উঠছে আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা? কোন ঘটনা ছেড়ে কোনটার উদাহরণ দেওয়া যায়—নেত্রকোনার ১১ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া, সিরাজগঞ্জের ৯ বছরের শিশুকে আমের লোভে ধর্ষণ নাকি সিলেটের ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা? এসব ঘটনায় অভিযুক্তরা সবাই ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত। যেমনটা অতিসম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের ঘটনাতেও দেখা গেছে। আজকের পত্রিকার শেষের পাতায় ২০ মে এই ঘটনাটি পড়ে শুধু মা-বাবারাই নন, যেকোনো মানুষ আতঙ্কে আঁতকে উঠবে।

মিরপুরের পল্লবীতে বসবাস ছিল ৮ বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ভুক্তভোগীর। কোমল এই শিশুটির ওপর কুদৃষ্টি দিতে বিলম্ব করেনি প্রতিবেশী সোহেল রানা, যিনি কিনা মাত্র দুই মাস আগে পাশের ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেছিলেন। ১৯ মে বড় বোনের সঙ্গে চাচার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল মেয়েটা। বড় বোন ওকে নিতে চায়নি। বাড়িতে রেখে চলে গিয়েছিল। কিন্তু পেছন পেছন আবার বেরিয়েছিল শিশুটি। শিশুটিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাঁদের বাসায় ডেকে নেন। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেছেন, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করেছেন সোহেল, তিনি ছিলেন সহযোগী। এবং সবচেয়ে রোমহর্ষক ব্যাপার হলো, শিশুটির মৃতদেহ লুকাতে তার মাথা ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। পরিবার দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর সোহেল দম্পতির ফ্ল্যাটের এক ঘরে মাথাহীন বিবস্ত্র দেহ আর শৌচাগারে বালতিতে পায় শিশুটির মাথা।

সোহেলের স্ত্রীকে পুলিশ আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করে খুব অল্প সময়ে মূল অভিযুক্তকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যে বিকৃত মানসিকতার, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। এত বড় অপরাধ করার পর এই দম্পতির কী শাস্তি হয়, তা দেখা দরকার। কিন্তু সেই শাস্তি কি এমন কোনো দৃষ্টান্ত হয়ে দেখা দেবে, যা আগামী দিনের সোহেল রানাদের বিকৃত বাসনা চরিতার্থ করার পথে বাদ সাধবে?

শিশুর প্রতি এমন বিকৃত যৌনাচার কেন বেড়ে চলেছে, কেন তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে ভাবা দরকার। উন্নতমানের তথ্যপ্রযুক্তি সবার হাতে হাতে চলে আসায় প্রত্যেকেই নিজের মধ্যেই গড়ে ফেলতে পারছে জীবন। বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ছে না। অনলাইনে বিকৃত তথ্য-উপাত্তের প্রতি যাদের লোভ আছে, তারা সেগুলো দেখতে দেখতে বিকৃত জগতের দিকে পা বাড়ায়। তারা তখন সমাজ-সংসারকে উপেক্ষা করেই বিকৃত যৌনাচার চালিয়ে যায়।

শিশুর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বাড়ি, শিক্ষালয়, পাড়ার পথেঘাটে সর্বত্রই সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় তরুণেরা দিকনির্দেশনা পেলে নিজের এলাকাকে অপরাধমুক্ত করে তুলতে পারে। কিন্তু তাদের সেই নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান করতে না পারলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। শাস্তি তো হতেই হবে, কিন্তু শাস্তির চেয়েও বড় প্রয়োজন, কেউ যেন অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ খুঁজে না পায়, তা নিশ্চিত করা। সেটা না হলে স্কন্ধকাটা লাশের দুঃস্বপ্ন দূর হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত