রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে বিএনপির নেতাদের মারধরের শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ ও একজন নারী প্রদর্শক। এ-সংক্রান্ত ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত না হলে বোঝা যেত না, কি রকম নিন্দনীয় কাজ করেছেন এই বিএনপি নেতারা। অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপির এই নেতারা কলেজে এসেছিলেন চাঁদা চাইতে।
এলাকার চাঁদাবাজ চক্রকে খুশি করেই কলেজ চালাতেন আগের দুই অধ্যক্ষ। বলা হচ্ছে, নতুন অধ্যক্ষ চাঁদা দেওয়া বন্ধ করায় চাঁদাবাজ চক্র গোসসা করে। তারই জের ধরে শিক্ষকের গায়ে হাত। শিক্ষকের গায়ে হাত যাঁরা দিয়েছেন এবং যাঁরা সে সময় ঘটনাস্থল বা আশপাশে ছিলেন, তাঁদের নামগুলোও প্রকাশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এদের প্রায় সবাই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী। তাৎক্ষণিকভাবে একজন নেতাকে বিএনপি বহিষ্কারও করেছে।
ঘটনার বিশদ আলোচনায় আমরা এখানে যাব না। শুধু একটি প্রশ্ন তুলতে চাই: বহিষ্কৃত একজনই কি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন? বাকি যে নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে ছিলেন, তাঁরা সে সময় কোন ভূমিকা পালন করেছেন? তা কি খতিয়ে দেখা হয়েছে? তাঁদের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নির্দেশনা দেখা যায়নি। মনে রাখতে হবে, বিএনপি এখন শুধু যে কোনো একটি রাজনৈতিক দল নয়, তারা ক্ষমতাসীন দল। তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। বিতর্কিত কাউকে শুধু দলের কার্যক্রম থেকে বের করে দিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার কোনো সুযোগ নেই তাদের। বহিষ্কার করলেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাত খুন মাফ হয়ে যায় না। যাঁরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের কি প্রচলিত আইনে বিচার হবে না? সরকারকে নিজের ভাবমূর্তির স্বার্থে হলেও সেই নির্দেশ দিতে হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আর দল হিসেবে বলতে হয়, শুধু বহিষ্কার করেই বিএনপির দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভবিষ্যতে যেন কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করতে পারে, সে লক্ষ্যেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেভাবে দেশজুড়ে শিক্ষকেরা নির্বিচারে মবের হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন, সে কথা নিশ্চয়ই মনে আছে পাঠকদের। এখনো কি তা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। সমাজে শিক্ষকের অবস্থান এখনো সম্মানের আসনে। তাদের অপমান করা হলে সে লজ্জা গোটা জাতির। এ কারণে বিএনপি শিক্ষক নিগ্রহের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে বলেই সবার প্রত্যাশা।
শিক্ষাঙ্গনে প্রায়ই শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগত ব্যক্তিরা এসে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিগৃহীত করে চলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। তাতে শিক্ষকের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ হবে বিঘ্নিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও সচেতনতা এবং সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত। শিক্ষালয়ে এ রকম পশুশক্তির আস্ফালন নিশ্চয়ই কেউ দেখতে চায় না।

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর। মানুষের নিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে এই বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত দুই বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে, পুলিশকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়—এটি আস্থার সংকট,
৬ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সময়ে যখন পৃথিবী জ্ঞান-বিজ্ঞানে, তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসরমাণ, তখন সমাজকে বা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। আজ থেকে ২৫ বছর বা ৩০ বছর পর কী হবে, সেই চিন্তা এখনই করতে হবে। আজকের সমস্যার জন্য আজকে চিন্তা করলে সমস্যা দূর তো হবেই না, সমস্যায় জট পাকিয়ে যাবে।
৬ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাস দুয়েক আগে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত এক কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত করেছিল দুর্বৃত্তরা। তাদের ফেলে যাওয়া একটি ব্যাগ থেকে পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা কোথাও হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং পুলিশের ওপর হামলা সেই পরিকল্পনারই অংশ ছিল।
৬ ঘণ্টা আগে
অমানবিকতা কত দূর পর্যন্ত গেলে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারা যায়, সে গল্পই আজ বলা হবে। গল্পটির জন্ম দিয়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)কোডেকের কর্মীরা। ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা শোধ না করায় এক নারীর চুল ধরে টেনে কিলঘুষি ও পেটে লাথি মারেন তাঁরা। আহত নারী কলাপাড়া হাসপাতালে...
১ দিন আগে