আলী আজম, ঢাকা

নানা অস্থিরতার মধ্যেও দেশজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন কিছুটা ব্যতিক্রমী। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে প্রথম নির্বাচন, যেখানে ভোটাররা এক ব্যালটে তাঁদের পছন্দের সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন, অন্য ব্যালটে গণভোটে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ রায় দেবেন। ভোটে যে দল বা জোট বেশি আসনে জিতবে, তারাই সরকার গঠন করবে; দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হবে বিরোধী দল—সংসদীয় গণতন্ত্রের সূত্র অনুযায়ী এটাই সহজ হিসাব।
কিন্তু সহজ হিসাব অনেক সময় সহজে মেলানো যায় না। ভূরাজনীতির গ্যাঁড়াকলে তৃতীয় বিশ্বে রাজনীতির সরল অঙ্কও মাঝেমধ্যে জটিল হয়ে পড়ে। এই যেমন—বাংলাদেশে এই সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘জাতীয় সরকার’ প্রসঙ্গ। গুঞ্জন উঠেছে, নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠিত হতে পারে। সেই সরকারই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।
কেন আবার জাতীয় সরকার প্রসঙ্গ
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা নতুন নয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই এ ধরনের একটি সরকার গঠনের আলোচনা উঠেছিল, যাতে রাষ্ট্রকাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলা যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাতে ‘সম্মত হননি’ বলে দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের। তখন বিএনপির চাওয়া ছিল, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হোক এবং সেই সরকার সবার সহযোগিতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচনের আয়োজন করুক। বিএনপিসহ দেশবাসীর কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন এখন দোরগোড়ায়।
এমন সময় আবার জাতীয় সরকার প্রসঙ্গ সামনে আসার আড়ালে থাকা কোনো বিশেষ শক্তির কলকাঠি নাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি?
জামায়াতের বক্তব্যে নতুন বার্তা
জাতীয় সরকারের আলোচনাটি নতুন করে এসেছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে। এনসিপিকে জোটে টানার পরে নিজের বাসভবনে এ সাক্ষাৎকার দেন জামায়াত আমির। ওই সাক্ষাৎকার ধরে সম্প্রতি রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘ঐকমত্যের সরকার গঠনে রাজি বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল’। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজ দলের পরিকল্পনার বিষয়েও রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন শফিকুর রহমান; শুনিয়েছেন ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশটা স্থিতিশীল দেখতে চাই। যদি দলগুলো একমত হয়, তাহলে আমরা সবাই মিলে দেশটা চালাব।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াত নেতারা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকাহত তারেক রহমান ও দলের নেতাদের সমবেদনা জানানোই এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হলেও সেখানে তাঁদের আলোচনায় রাজনৈতিক কিছু বিষয়ও উঠে এসেছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াত আমির সাংবাদিকদের জানান, ওই বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়েও আলোচনা করেছেন তাঁরা। জামায়াত আমির বলেন , ‘আমরা বলেছি, আগামী পাঁচ বছর সুন্দর পরিবেশের জন্য আমরা সবাই মিলে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও চিন্তা করা দরকার । আমরা এ-ও বলেছি, নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে আমরা আবার বসব। খোলামনে চিন্তা করে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।’
শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যে এটা অনেকটাই স্পষ্ট—জামায়াত নির্বাচনের পর সরকারেও ভূমিকা রাখতে চায়। দলটি ক্ষমতার ভাগ চায়।
জামায়াত আমিরের প্রস্তাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কী বলেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির ভাবনাই হলো আসল কথা।
বিএনপি কী ভাবছে
বিএনপি ভোটে জিতলে মিলেমিশে দেশ পরিচালনা করবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারাও অনেক সময় বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে জাতীয় সরকার গঠন করবে।
গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ তারেক রহমানের এই প্ল্যান কী হবে, তা নিয়ে এখনো জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তিনি জাতীয় সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কি না, সে আলোচনাও চলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।
জাতীয় সরকার হলে বা না হলে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে ঘোলাটে হয়েছে, দক্ষিণপন্থী শক্তির যে উত্থান চোখে পড়ছে, তা মোটেও উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের পক্ষে সহায়ক নয়। উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অসংখ্য মাজারে ভাঙচুর চালিয়েছে, কোথাও কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়েছে, আবার কোথাও সুস্থ মানুষকে পিটিয়ে মেরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে শিল্প-সংস্কৃতির ওপরও। এমন বাস্তবতায় বিএনপি নির্বাচনে সরকার গঠন করার সুযোগ পেলেও এককভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে পারবে কি না—এমন আলোচনাও আছে নানা মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একলা চললে বিএনপির সামনে এখন অনেকগুলো বিরোধী শক্তি। দেশের ভেতর এনসিপি, জামায়াত ও সমমনা ইসলামি দলগুলো যেমন নানাভাবে বিরোধিতা করবে, তেমনি দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ নিতে চাইবে।
নির্বাচনে জিতলে বিএনপির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে বলে সতর্ক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতে, ‘ইলেকশনই পুলসিরাত নয়। আসল পুলসিরাত শুরু হবে ইলেকশনের পর এবং সেটা হবে দীর্ঘ।...মনে রাখতে হবে, আগামী সরকার পরিচালনা সহজ কিছু হওয়ার কোনো সুযোগই নাই। এ জন্যই কবি বলে ওঠেন, কোনো কোনো নির্বাচনে জেতা পরাজয়ের মতোই হয়ে উঠতে পারে।’
যে যা-ই বলুক, চিরায়ত সত্যটি হলো—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কখনো শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়ে যায়, আবার কখনো শত্রুর বন্ধুকেও শত্রু গণ্য করা হয়। ফলে রাজনীতিবিদদের শত্রু-মিত্রের সমীকরণ বোঝা সর্বসাধারণের পক্ষে দুরূহ ব্যাপার। কদিন পর নির্বাচন। ভোটের পর সরকার গঠনের সমীকরণ কেমন হবে, তার জন্য নাহয় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা যাক।
লেখক: বার্তা সম্পাদক, আজকের পত্রিকা।

নানা অস্থিরতার মধ্যেও দেশজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন কিছুটা ব্যতিক্রমী। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে প্রথম নির্বাচন, যেখানে ভোটাররা এক ব্যালটে তাঁদের পছন্দের সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন, অন্য ব্যালটে গণভোটে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ রায় দেবেন। ভোটে যে দল বা জোট বেশি আসনে জিতবে, তারাই সরকার গঠন করবে; দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হবে বিরোধী দল—সংসদীয় গণতন্ত্রের সূত্র অনুযায়ী এটাই সহজ হিসাব।
কিন্তু সহজ হিসাব অনেক সময় সহজে মেলানো যায় না। ভূরাজনীতির গ্যাঁড়াকলে তৃতীয় বিশ্বে রাজনীতির সরল অঙ্কও মাঝেমধ্যে জটিল হয়ে পড়ে। এই যেমন—বাংলাদেশে এই সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘জাতীয় সরকার’ প্রসঙ্গ। গুঞ্জন উঠেছে, নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠিত হতে পারে। সেই সরকারই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।
কেন আবার জাতীয় সরকার প্রসঙ্গ
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা নতুন নয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই এ ধরনের একটি সরকার গঠনের আলোচনা উঠেছিল, যাতে রাষ্ট্রকাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলা যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাতে ‘সম্মত হননি’ বলে দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের। তখন বিএনপির চাওয়া ছিল, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হোক এবং সেই সরকার সবার সহযোগিতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচনের আয়োজন করুক। বিএনপিসহ দেশবাসীর কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন এখন দোরগোড়ায়।
এমন সময় আবার জাতীয় সরকার প্রসঙ্গ সামনে আসার আড়ালে থাকা কোনো বিশেষ শক্তির কলকাঠি নাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি?
জামায়াতের বক্তব্যে নতুন বার্তা
জাতীয় সরকারের আলোচনাটি নতুন করে এসেছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে। এনসিপিকে জোটে টানার পরে নিজের বাসভবনে এ সাক্ষাৎকার দেন জামায়াত আমির। ওই সাক্ষাৎকার ধরে সম্প্রতি রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘ঐকমত্যের সরকার গঠনে রাজি বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল’। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজ দলের পরিকল্পনার বিষয়েও রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন শফিকুর রহমান; শুনিয়েছেন ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশটা স্থিতিশীল দেখতে চাই। যদি দলগুলো একমত হয়, তাহলে আমরা সবাই মিলে দেশটা চালাব।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াত নেতারা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকাহত তারেক রহমান ও দলের নেতাদের সমবেদনা জানানোই এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হলেও সেখানে তাঁদের আলোচনায় রাজনৈতিক কিছু বিষয়ও উঠে এসেছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াত আমির সাংবাদিকদের জানান, ওই বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়েও আলোচনা করেছেন তাঁরা। জামায়াত আমির বলেন , ‘আমরা বলেছি, আগামী পাঁচ বছর সুন্দর পরিবেশের জন্য আমরা সবাই মিলে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও চিন্তা করা দরকার । আমরা এ-ও বলেছি, নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে আমরা আবার বসব। খোলামনে চিন্তা করে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।’
শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যে এটা অনেকটাই স্পষ্ট—জামায়াত নির্বাচনের পর সরকারেও ভূমিকা রাখতে চায়। দলটি ক্ষমতার ভাগ চায়।
জামায়াত আমিরের প্রস্তাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কী বলেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির ভাবনাই হলো আসল কথা।
বিএনপি কী ভাবছে
বিএনপি ভোটে জিতলে মিলেমিশে দেশ পরিচালনা করবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারাও অনেক সময় বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে জাতীয় সরকার গঠন করবে।
গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ তারেক রহমানের এই প্ল্যান কী হবে, তা নিয়ে এখনো জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তিনি জাতীয় সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কি না, সে আলোচনাও চলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।
জাতীয় সরকার হলে বা না হলে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে ঘোলাটে হয়েছে, দক্ষিণপন্থী শক্তির যে উত্থান চোখে পড়ছে, তা মোটেও উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের পক্ষে সহায়ক নয়। উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অসংখ্য মাজারে ভাঙচুর চালিয়েছে, কোথাও কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়েছে, আবার কোথাও সুস্থ মানুষকে পিটিয়ে মেরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে শিল্প-সংস্কৃতির ওপরও। এমন বাস্তবতায় বিএনপি নির্বাচনে সরকার গঠন করার সুযোগ পেলেও এককভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে পারবে কি না—এমন আলোচনাও আছে নানা মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একলা চললে বিএনপির সামনে এখন অনেকগুলো বিরোধী শক্তি। দেশের ভেতর এনসিপি, জামায়াত ও সমমনা ইসলামি দলগুলো যেমন নানাভাবে বিরোধিতা করবে, তেমনি দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ নিতে চাইবে।
নির্বাচনে জিতলে বিএনপির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে বলে সতর্ক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতে, ‘ইলেকশনই পুলসিরাত নয়। আসল পুলসিরাত শুরু হবে ইলেকশনের পর এবং সেটা হবে দীর্ঘ।...মনে রাখতে হবে, আগামী সরকার পরিচালনা সহজ কিছু হওয়ার কোনো সুযোগই নাই। এ জন্যই কবি বলে ওঠেন, কোনো কোনো নির্বাচনে জেতা পরাজয়ের মতোই হয়ে উঠতে পারে।’
যে যা-ই বলুক, চিরায়ত সত্যটি হলো—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কখনো শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়ে যায়, আবার কখনো শত্রুর বন্ধুকেও শত্রু গণ্য করা হয়। ফলে রাজনীতিবিদদের শত্রু-মিত্রের সমীকরণ বোঝা সর্বসাধারণের পক্ষে দুরূহ ব্যাপার। কদিন পর নির্বাচন। ভোটের পর সরকার গঠনের সমীকরণ কেমন হবে, তার জন্য নাহয় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা যাক।
লেখক: বার্তা সম্পাদক, আজকের পত্রিকা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার প্রমাণ করলেন, তাঁর রাজনীতি স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে না, অর্থাৎ মুখে যা বলেন, করেন তার বিপরীত। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, ‘বিদেশি যুদ্ধে জড়াব না’, ‘মাগা মানেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান’— এত দিনের এসব গালভরা প্রতিশ্রুতি আর শান্তির স্লোগান এক মুহূর্তে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
বহুল চর্চিত ওয়ান-ইলেভেন সরকার ও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় তারা কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনেছিল। এসব পরিবর্তনের কিছু প্রশংসিত হয়েছে, কিছু হয়েছে সমালোচিত।
১ ঘণ্টা আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য কোনো হল নেই, যদিও ছাত্রীদের জন্য একটি হল রয়েছে। ফলে হাজারো শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়েই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেসে থেকে পড়াশোনা করতে হয়।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক গভীর সংকটকাল অতিক্রম করছে। এটি কোনো একক খাত বা সাময়িক ধাক্কার ফল নয়; বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে অর্থনীতি যেন একযোগে বহু দিক থেকে চাপে পড়েছে।
১ ঘণ্টা আগে