Ajker Patrika

প্রাণবৈচিত্র্য, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার

পাভেল পার্থ
প্রাণবৈচিত্র্য, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার
লাউয়াছড়া বনকে ছিন্নভিন্ন করেছে অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল ও শেভরন নামক বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। ছবি: সংগৃহীত

মাতৃদুনিয়ার রক্তাক্ত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমরা নিদারুণভাবে ‘প্রাণবৈচিত্র্য ও টেকসই উন্নয়ন’ ও ‘সবুজ অর্থনীতি’ নিয়ে কথা তুলছি। আমাদের কিষানিরা যখন বলেছিল, বীজ আমাদের বংশরক্ষার হাতিয়ার, রাষ্ট্র তা কানে তোলেনি। গ্রামের শিশি-বোতল-ডুলি-কলস-রাও-হাঁড়ি—সব শূন্য করে বীজসম্পদ তুলে দেওয়া হলো বহুজাতিক কোম্পানির জিম্মায়। হাজারো নামের ধান কি শস্যের বৈভব এক এক করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। বিল থেকে বাদাবনের গ্রামে ঢুকে পড়ল হাইব্রিডের মতো সংহারী বীজ। এসব বীজ চাষ করে দিনকে দিন কৃষকের সঙ্গে কোম্পানির সংঘর্ষ তৈরি হলো।

গ্রামের বাচ্চা থেকে বুড়ো—সবাই চোখের পানি আর বুকের দরদ ঢেলে হাত-পা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, এই নদীটি আমাদের মেয়ে। নদীটিকে বাঁচান সরকার বাহাদুর। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কি ব্যবসায়ীরা তা শুনল না। নদীকে দূষণ ও দখল করে কারখানার পর কারখানা গড়ে তুলল। কলিজার সর্বশেষ রক্তবিন্দু ঢেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা বলেছিল, জঙ্গলকে বাঁচাও, জঙ্গল না বাঁচলে আমরাও মরে যাব। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক কি অক্সিডেন্টাল-ইউনোকল বা শেভরনের মতো দুনিয়া ঝাঁকানো কোম্পানিগুলো তা শুনল না।

শালবন উপড়ে রাবারবাগান তৈরি করা হলো। প্রাকৃতিক বন কেটে আগ্রাসী গাছের বাণিজ্যিক বাগান তৈরি করা হলো। পাহাড় খুন করে তৈরি করা হলো ক্যাম্প, অরণ্য হত্যা করে বানানো হলো বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জ। তেল-গ্যাসের লোভে সুন্দরবনে ঢুকল শেল। লাউয়াছড়া বনকে ছিন্নভিন্ন করেছে অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল ও শেভরন নামক বহুজাতিক কোম্পানিগুলো।

মাটির তলার পানি টেনে তুলে, বিষ আর সংহারী বীজ-বাণিজ্যকে চাঙা রাখতে ‘খাদ্যনিরাপত্তার’ সাইনবোর্ড সামনে ঝুলিয়ে চালু করা হলো ‘সবুজবিপ্লব’। ঔপনিবেশিক জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামমুখর যে দেশ, ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য যে দেশ জীবন বাজি রেখে রুখে দাঁড়িয়েছিল, সেই দেশ আজ এক নয়া উদারবাদী মুনাফালোভী করপোরেট ব্যবস্থাকে বেছে নিল, যা দেশের প্রাণ-প্রকৃতির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি এখনো। তারপরও ৩০টি কৃষিপ্রতিবেশ, ১৭টি হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চল, ১ হাজার ৫০০টি নদ-নদী, দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, হাজারো ধানের জাত, ৫০ জাতিসত্তা নিয়ে টিকে থাকার লড়াই করে চলেছে বাংলাদেশ।

২. দেখা-অদেখা, জানা-অজানা, দৃশ্য কি অদৃশ্যমান সব প্রাণের বৈচিত্র্যকে এককভাবে বোঝানোর জন্য বলা হয় ‘প্রাণবৈচিত্র্য’। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদে (সিবিড ১৯৯২) প্রাণবৈচিত্র্য বলতে বোঝানো হয়েছে স্থল, সমুদ্র, জলভাগ প্রতিবেশসহ সব এলাকার জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্যকে। প্রাণবৈচিত্র্য সাধারণভাবে প্রাণের বিভিন্ন ধরনকে বোঝায়। অন্য কথায় এটা উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের অগণিত উপস্থিতি। বিস্তার ও উপাত্তে প্রাণের বৈচিত্র্য ও রূপ এতই ব্যাপক যে এখন পর্যন্ত উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে সর্বনিম্ন ১ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ৮ কোটি বিভিন্ন ধরনের প্রাণের উপস্থিতি রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদ (১৯৯২) অনুযায়ী, প্রজাতির মধ্যকার বৈচিত্র্য, প্রজাতিতে প্রজাতিতে বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ পদ্ধতির বৈচিত্র্যকে একত্রে বোঝায়। যেমন মানুষ, কাছিম, গরু, শামুক, শূকর, মাকড়সা, ধান, তুলা, আম, কচু—এরা প্রতিটিই একেকটি আলাদা প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এটা হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। আবার জিন বা প্রাণকণিকার বৈচিত্র্য আছে। যেমন ধানের বিভিন্ন ধরন আছে, প্রজাতির নানা রং আছে, বাংলাদেশে এক কচুই আছে বহু জাতের। আবার পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশ পদ্ধতি আছে এবং প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীব এরা নিবিড়ভাবে পরিবেশ পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন, সুন্দরবন, শালবন, জলাবন, কাশবন, পাহাড়ি বন এক রকম নয়। এটাই পরিবেশ পদ্ধতির বৈচিত্র্য।

বাংলাদেশে প্রাণবৈচিত্র্য বা বায়োডাইভার্সিটিকে কেবল ‘জীববৈচিত্র্য’ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। যিনি বা যাঁরা এর বাংলা করেছেন, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিগত ভুল ছিল। প্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ে তাঁদের ধারণার পরিসর খুব সীমিত এবং বাইনারি। জীববৈচিত্র্য দিয়ে কোনোভাবেই বায়োডাইভার্সিটি বোঝা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার ও রাষ্ট্র এবং বহু বিদ্যায়তন কেন এখনো ‘জীববৈচিত্র্যের’ মতো এক খণ্ডিত এবং ভুল শব্দকে ‘বায়োডাইভার্সিটি’ হিসেবে ব্যবহার করছে? হয়তো এর উত্তরের সঙ্গে যোগসূত্র আছে ক্ষমতার রাজনীতি কিংবা জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর বাহাদুরির।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক কায়দায় এবং বিদ্যায়তনিক পরিসরে অধিকাংশ সময় বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যের খতিয়ান বর্ণনা করতে বরাবরই বাংলাদেশের গাছ-পাখি-মাছের প্রজাতির সংখ্যা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত বাঘ, হাতি, ডলফিনের উদাহরণ দেওয়া হয়। কিন্তু বায়োডাইভার্সিটি হুমকির মুখে এর উদাহরণ কখনোই দেশি ধানের জাত দিয়ে দেওয়া হয় না। কেন হয় না? কারণ দেশি ধানের বৈচিত্র্য খুন করেছে সরাসরি বহুজাতিক কোম্পানি-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। আর এর সঙ্গী হয়েছে রাষ্ট্র এবং সরকার। আর প্রমাণগুলো কোনোভাবেই গোপন করা যায়নি। তাই দেখা যায়, দেশে বায়োডাইভার্সিটি কমছে এর উদাহরণ হিসেবে দেশে ধানের জাত কমছে এই উদাহরণ কখনোই বলা হয় না।

দেশে ভিন্ন ভিন্ন ৩০টি কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলে এখনো অসংখ্য প্রজাতির ধানজাত চাষ হলেও ধানবিজ্ঞানী ড. হেক্টর দেখিয়েছেন, একটা সময় এ দেশে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি ধানের চাষ হতো। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশি ধানের জাত নামে একটা পুস্তক প্রকাশ করে, যার ভেতর বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, পাবনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, বরিশাল, যশোর—এই ২০টি জেলার ৪৬৭টি থানার ভেতর ৩৫৯টি থানার ইউনিয়ন থেকে ১২ হাজার ৪৮৭টি স্থানীয় জাতের ধানের কেবল নাম দেওয়া আছে।

আরেক চরম বিস্ময় হলো প্রাণবৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশের অধিকাংশ বিবরণে ‘মানুষকে’ এর হিসাব ও প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি বাদ রাখা হয়। আবার যখন পরিবেশ বিপর্যয় বা সংরক্ষণের কথা চিন্তা করা হয়, তখন ‘মানুষকে’ কেন্দ্রে রেখেই বলা হয় মানুষের সমস্যা হচ্ছে বা মানুষেরা অধিকার হারাচ্ছে।

৪. প্রাণ ও প্রকৃতির জটিল সম্পর্ক এবং পরিসরকে বিবেচনা করে বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গৃহীত হতে দেখা যায়নি। বৃহৎ বাঁধ, সেতু, রেললাইন, সড়কপথ, বৃহৎ অবকাঠামো, কারখানা স্থাপন, বর্জ্য নিষ্কাশন, বাণিজ্যিক কৃষি খামার, চুক্তিবদ্ধ চাষ, ইকোপার্ক, সামাজিক বনায়ন, বহুজাতিক খনন, তেল-গ্যাস প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, আধুনিক কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি, সবুজবিপ্লব, বিনোদন পার্ক ইত্যাদি নানা কিসিমের উন্নয়ন প্যাকেজ নিদারুণভাবে দেশের প্রাণের বৈচিত্র্যময় উৎস ও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করেছে এবং করে চলেছে। পাশাপাশি আশির দশকের শেষে উন্নয়ন-মারদাঙ্গা প্রবল ধাক্কা খেলে ‘বিকল্প’ ধারণাটি বেশ প্রভাব নিয়ে হাজির হয় নানা এজেন্সির প্যাকেজ কর্মসূচি হিসেবে, রাষ্ট্র যার চূড়ান্ত বৈধতা দেয়। আমরা ‘বিকল্প রাজনীতি’, ‘বিকল্প উন্নয়ন’, ‘বিকল্প রাস্তা’, ‘বিকল্প পেশা’, ‘বিকল্প খাদ্য’, ‘বিকল্প পরিবেশ’ শুনতে শুনতে কাহিল হয়ে পড়েছি। প্রাণ-প্রকৃতির নিরাপত্তা এবং প্রাণবৈচিত্র্যের সুরক্ষা প্রশ্নে কোনো বিকল্প হতে পারে না। মৌমাছির বিকল্প কি শিয়াল দিয়ে হবে? শেওড়াগাছের বিকল্প কি একাশিয়া দিয়ে হয়?

৫. শ্রেণিবিভাজিত সমাজে নিম্নবর্গের দিকেই ঐতিহাসিকভাবে বারবার প্রশ্নহীন তাক হয় রাজার হুকুম, জমিদারের চাবুক, রাষ্ট্রের বন্দুক আর উন্নয়নের বিপর্যয়। উন্নয়ন বিপর্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উথলে ওঠে আবার ‘বিকল্প’ নামের দরদি প্যাকেজসমূহ। পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ে এই বিকল্প কর্মসূচি তাই বরাবরের মতোই ক্ষমতাকাঠামোর প্রশ্নহীন নিপীড়ন হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে নিম্নবর্গের দুনিয়ায়। যেমন, রাষ্ট্র গলা বাজিয়ে কৃষির দশাসই উন্নয়নের কথা বলে। মাটির তলার পানি জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে টেনে তুলে, জমিতে সিনথেটিক সার ও ফসলে নির্দয় বিষ ব্যবহার করে এবং হাইব্রিড বীজের বাজারকে চাঙা করে যে কৃষির উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে, তা আদতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে মহাবিপদে ফেলেছে। নিজের চাষাবাদ ও ফসলের ওপর মানুষের বিশ্বাস নেই, যেকোনো খাবারকেই মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে। সবুজবিপ্লবের নামে প্রবর্তিত এই মহা কৃষি উন্নয়নপ্রক্রিয়া মূলত মাটি, পানি, মাকড়সা, প্রজাপতি, শামুক, কেঁচো, পতঙ্গ—সব হত্যা করে চলেছে। ‘আগাছানাশকের’ ব্যবহারের নামে নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে অগণিত শাক ও ঔষধি লতাগুল্ম।

৬. ভূমি, জলাধার, অরণ্য কি প্রাণ ও প্রকৃতির ওপর এই নিরবচ্ছিন্ন অন্যায় ভোগদখল ও পণ্যকরণের ওপরই টিকে আছে চলতি দুনিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নয়া উদারবাদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আর প্রাণ ও প্রকৃতিবিনাশী এই অন্যায় উন্নয়নধারার সাফাই গাওয়ার ওপরই নির্ভর করে গরিব জাতি রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌম অস্তিত্ব ও রাজনৈতিক পালাবদল। করপোরেট বিশ্বায়নের এই বিস্তৃত অসম বাজারের দুনিয়ায় ‘সার্বভৌমের’ রূপ ও রীতি পাল্টে গেছে। সবুজ অর্থনীতির বিশ্লেষকেরা ‘সভ্যতার দশাসই উন্নয়নের’ সামনে গোলার্ধব্যাপী প্রাণ ও প্রকৃতির রক্তাক্ত শরীরকে টেনে এনে দেখাচ্ছেন, মাতৃদুনিয়ার এই করুণ পরিণতির জন্য প্রচলিত পুঁজিবাদী নয়া উদারনৈতিক ব্যবস্থাই দায়ী। এই ব্যবস্থা প্রশ্নহীনভাবে দুনিয়ার বুক-পিঠ ফালি ফালি করে কেটে-ছিঁড়ে মুনাফা আর উদ্বৃত্ত লুণ্ঠনের ভেতর দিয়ে সভ্যতাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক মুমূর্ষু ক্রান্তিকালের কিনারায়।

৭. নিসর্গপ্রেমী দ্বিজেন শর্মা পরিবেশগত ঝুঁকি ও করণীয় বিষয়সমূহ রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে এক বক্তব্যে বলেছিলেন, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিকাশের ভেতর দিয়ে পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব নয়, একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন পরিবেশবান্ধব পৃথিবীর জন্য দরকার রাজনৈতিক বিপ্লব। প্রাণ, প্রকৃতি ও প্রতিবেশের ন্যায়বিচার সুরক্ষায় দরকার রাষ্ট্রব্যাপী মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক জাগরণ। উন্নয়ন কি বিকাশের শর্তকে আজ প্রাণবৈচিত্র্যের অসীম বিস্তার ও শক্তির চোখে দেখা অভ্যাস করতে হবে। জনগণ, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সংঘ, এজেন্সি কি বাস্তুসংস্থান সবাইকেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত