একদম ঠিক শুনছেন। জি, ১৩ মাস বয়সী শিশুটির বাবার কথাই বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, বাবা। আপনারা বিন্দুমাত্র ভুল করেননি শুনতে। মায়ের কোল থেকে এই বাবা শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিস্কুট কিনে দেবেন বলে। তারপর লাপাত্তা! লাপাত্তা হওয়ার আগে অবশ্য স্ত্রীকে একটা ফোন করেছিলেন তিনি। তা-ও আবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর। মেয়ে হারালে মায়েদের কেমন লাগে, তা নিশ্চয়ই জানতেন এই বাবা। তাই দুই দিন পর ফোন করেছিলেন বুঝি। না না, আপনি যদি এখন মনে করে থাকেন, শিশুটির মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তিনি ফোন করেছেন, তাহলে ভুল করবেন। এবার বাবা হামিদুল ফোন করে স্ত্রীকে বলেছেন, ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেবেন তিনি। জি, এবারও ঠিক শুনেছেন। মেয়ে শিশুটির বাবা নিজেই শিশুটির মায়ের কাছে এই দাবি জানান।
মা রুমানা আক্তার এত টাকা পাবেন কোথায়? ২০২৪ সালে বিয়ের পর থেকেই তো এই হামিদুলকে দেখে আসছেন তিনি। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য নিয়মিত স্ত্রীকে মারধর করতেন গাইবান্ধার এই নেশাখোর। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বাপের বাড়ি চলে যান রুমানা আক্তার। কিন্তু বাবার হাত থেকে রেহাই পায়নি তাঁর কোলের শিশু ফাতেমা। সত্যিই ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করে উধাও হয়ে যান হামিদুল। রুমানা দ্বারস্থ হন পুলিশের। গাইবান্ধা ও রংপুর থেকে বাবাসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনা এটুকুই। আর কোনো নাটকীয়তা নেই। শুধু এই কথাটাই বলার আছে যে মাদক আত্মার আত্মীয়ও মানে না। মাদক সংগ্রহের জন্য নিজ কন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাই বলে দেয়, কীভাবে এই নেশাদ্রব্য মানুষকে গ্রাস করে নেয়। কোনো আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা যেন কাজই করে না তখন আর। নিজ কন্যাকে যিনি বিক্রি করতে পারেন, তাঁকে তো পাষণ্ডই বলতে হয়। কিন্তু দূর থেকে এই উষ্মা জানিয়ে কি সত্যিই কোনো কাজ হবে? মাদকের বিচরণ হবে অবাধ, অথচ নেশাগ্রস্ত হবে না সুযোগসন্ধানীরা—এ রকম যাঁরা ভাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।
মাদককে ‘না’ বলার কথা মুখে বললে হবে না, আসলেই মাদক কোত্থেকে আসে, কারা আনে, কারা বিক্রি করে, কারা টাকা খেয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে, কারা মাদক গ্রহণ করে—তার একটা পরিষ্কার চিত্র থাকা উচিত চোখের সামনে। আমরা যখন মাদকের ভয়াবহতার কথা বলি, তখন মাদকের অপকারিতাকে যতটা গুরুত্ব দিই, তার সিকিভাগ গুরুত্বও দিই না কীভাবে মাদক আসছে, সে বিষয়ে। এর কারণ কী? দেশ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভরে গেলে কি এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? নাকি মাদক নিয়ে যে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে দেশজুড়ে, তা নির্মূল করার মাধ্যমে আসবে সমাধান? যে কেউ বুঝতে পারবেন, উত্তরটা সহজ। কিন্তু এই সহজ বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে টাকার খেলার কারণে।
মাদক কারবার নির্মূল করতে না পারলে কত হামিদুল যে আশপাশে ঘুরে বেড়াবেন, তার কি হিসাব আছে?

২০ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনটি যখন জারি হলো, তখন ঢাকার পাম্পগুলোতে গাড়ির লম্বা সারি হচ্ছিল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল লিটারে ১১৫ থেকে ১৩৫, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার পণ্যেই এক রাতে ২০ টাকা বৃদ্ধি।
২ ঘণ্টা আগে
ধরে নিন, আপনি প্রিয় কোনো সুরসাধক বা শিল্পীর জমকালো কনসার্ট দেখতে মাঠে ঢুকলেন। আপনার টিকিটের গায়ে কোনো আসন নম্বর লেখা নেই, তবে আপনি নিশ্চিত জানেন টিকিটগুলো পর্যায়ক্রমে ১ নম্বর থেকে বিক্রি শুরু হয়েছিল। এখন মাঠে বসে আপনি কি নিজেকে ১ নম্বর কিংবা একেবারে শেষের টিকিটধারী দর্শক বলে দাবি করবেন? নিশ্চয়ই না।
২ ঘণ্টা আগে
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি কেবল দশম শ্রেণিতে উঠেছি। ১৯৭১ সালের শুরুতে ক্লাস ঠিকমতো শুরু হয়নি। আমরা সেভাবে ক্লাস করতে পারিনি। আমার প্রথম অভিজ্ঞতা হয় ১ মার্চে। সেদিন আমি একরকম ঘটনাক্রমেই এর সঙ্গে জড়িয়ে যাই। স্কুলে যাচ্ছিলাম, পথে স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছিল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ।
১ দিন আগে
মানবসভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কৃষির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে জানতে ইচ্ছে হয়, কে প্রথম জমির মাটি আলগা করতে লাঙল আবিষ্কার করেছিল? সেই লাঙল আবিষ্কারের মাধ্যমেই কৃষিতে প্রথম যন্ত্রের ছোঁয়া লেগেছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে কৃষির ধরনেও এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
১ দিন আগে