Ajker Patrika

অনিয়মে নিয়োগ

সম্পাদকীয়
অনিয়মে নিয়োগ

শাহানারা আক্তার নামের একজন এনজিওকর্মীকে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিয়েছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও কলেজটির পরিচালনা -পর্ষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। অভিযোগ উঠেছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপাধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে অন্তত ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থী এক শিক্ষকের অভিযোগ, পদটিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ করে ছয়জন শিক্ষক আবেদন করলেও তাঁদের মধ্যে দুজন ছাড়া কাউকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি।

প্রশ্ন হলো, যাঁর শিক্ষকতা করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তিনি কীভাবে একটি কলেজের উপাধ্যক্ষ হতে পারেন? এই নিয়োগপ্রক্রিয়া যে পুরোপুরি অবৈধ, সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট। এখন জরুরি হলো, পটুয়াখালীর ডিসি সাহেবকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা। তাঁর কাছ থেকে জানতে হবে যে কেন তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হয়ে এই অপকর্মটি করতে পারলেন? অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এই নিয়োগ বাতিল করে নতুনভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিও কোনোভাবে ছাড় পেতে পারেন না। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি পূর্বপরিচিত হওয়ায় অন্য প্রার্থীদের যাচাই না করার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভিজ্ঞতাশূন্য ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া আসলে কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে, তা সভাপতি মহোদয়ই ভালো বলতে পারবেন! যিনি নিয়োগ পেয়েছেন তাঁকেও অভিযুক্ত বলতে হয় সুযোগের অপব্যবহারের জন্য।

শিক্ষাক্ষেত্রে এমন অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন পরিচালিত বা স্থানীয় পরিচালনা পর্ষদের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মনীতি চালু করা। অন্যথায় এ ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ জরুরি।

শিক্ষাদান কোনো সাধারণ দাপ্তরিক কাজ নয়। এটি একটি বিশেষায়িত পেশা, যেখানে অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তির নিয়োগ শিক্ষার গুণগত মানকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নিরপেক্ষ, সৎ ব্যক্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরিচালনা পর্ষদের একক সিদ্ধান্তে কোনো অনিয়ম আশ্রয় না পায়। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যেসব প্রার্থীর আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়েছে, তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নয়তো একদিন অনিয়মই নিয়োগের নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে।

পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নজরদারি করতে হবে। এনটিআরসিএ বা অনুরূপ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক সমন্বিত নিয়োগ নীতি কার্যকর করা গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের এমন অনৈতিক হস্তক্ষেপ রোধ করা সম্ভব।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার জায়গা নয়। শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে এ ধরনের অনিয়মের মূলোৎপাটন করে মেধা ও সততার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত