Ajker Patrika

পরীক্ষক বটে!

সম্পাদকীয়
পরীক্ষক বটে!

ঘরে ডেকে নিয়ে শিক্ষক ছাত্রকে দিয়ে পরীক্ষার খাতায় করা ভুল উত্তর শুদ্ধ করালেন, খাতার সাদা জায়গায় নতুন উত্তর লেখালেন, তারপর পরীক্ষায় প্রাপ্ত ২৫ নম্বরকে পরিবর্তন করলেন ৫০-এ। এ রকম সদাশয় মাস্টারমশাই খুঁজে পাওয়া কি কম ভাগ্যের কথা! তিনি হয়তো ঠিক করেছেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই কাটিয়ে দেবেন গোটা জীবন। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা যে রকম পরীক্ষাই দিক না কেন, চিন্তা নেই। খাতায় শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর দিয়ে দিলেই কেল্লা ফতে। তিনি নিজে যোগাযোগ করে সেই শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দেবেন। বিনিময়ে মাত্র ২ হাজার টাকা নেবেন। যে শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষকের হাত ধরে ‘নবজন্ম’ পাচ্ছে, তাদের কাছে পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো বড় নাকি ২ হাজার টাকা বড়? এই প্রশ্নের উত্তর সবারই জানা।

এইচএসসি পরীক্ষার সব পরীক্ষকই যদি এই তরিকায় চলতে চান, তাহলে তো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে যাবে! শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং এঁকে খাতার শেষ পাতায় নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে আসবে। পরীক্ষক আগে থেকে ঠিক করা জায়গায় এসে ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাবেন নিজের বাড়িতে। শুধরে নিতে দেবেন তার ভুলগুলো। কবি লিখেছিলেন, ‘যদি ভালোবাসা পাই শুধরে নেব জীবনের ভুলগুলো।’ শিক্ষার্থীরা উচ্চৈ স্বরে গাইবে, ‘যদি খাতাটা আবার পাই শুধরে নেব পরীক্ষার ভুলগুলো।’ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই যুগলবন্দী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘উন্নতি’র শিখরে নিয়ে যাবে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী আলম ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় নিজের মোবাইল নম্বর লিখে এসেছিল। সে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। পরীক্ষা কেমন দিয়েছে, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। পরীক্ষক তাকে কোনোভাবেই ২৫ নম্বরের বেশি দিতে পারেননি। কিন্তু পরীক্ষক সেই খাতায় পেয়েছেন পরীক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর। এই পরীক্ষক হচ্ছেন রাজশাহী নগরের হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলী। প্রভাষক কী কারণে সেই ফোন নম্বর দেখে ছাত্রটিকে ডেকে নিলেন, তা তাঁর কাছ থেকেই জানতে হবে। তিনি কি মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন করার জন্যই ওকে ডেকে এনেছিলেন? তা-ই হবে। কারণ তিনি এ রকম অনেক পরীক্ষার্থীকে নিয়ে আসতে বলেছেন।

ওপরের কথাগুলো যে ব্যঙ্গ করে বলা হলো, সেটাও যদি সম্পাদকীয়তেই বলে দিতে হয়, তাহলে তার চেয়ে দুর্ভাগ্যের কিছু হয় না। কিন্তু পড়াশোনার যে হাল হচ্ছে দিনের পর দিন, তাতে ব্যঙ্গ, রসিকতা করতে হলেও তা সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের মতো দিতে হবে কি না, কে জানে। ২ হাজার টাকার বিনিময়ে যে শিক্ষক নম্বর বদলে দেওয়ার কসরত করতে পারেন, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্মান পাবেন বলে কী করে আশা করেন? এই ধরনের শিক্ষকদের কারণে সৎ শিক্ষকেরাও প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন।

গোটা শিক্ষকতা পেশার সম্মান খোয়ানোর এই সাহস আপনি কোথায় পেলেন সেকেন্দার আলী সাহেব?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত