Ajker Patrika

বিটিআরসি ভবনে হামলায় ৫৫ জনের নামে মামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ২৯
ছবি: আজকের পত্রিকা
ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংস্থাটি ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। এতে অজ্ঞাতনামা ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাংলাদেশে ফোন ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় নানা দাবিতে আন্দোলন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের নিয়ে একাধিকবার তাঁদের দাবিদাওয়ার বিষয় সুরাহার জন্য বৈঠক করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার) সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল বিকেলে বিটিআরসি ভবনের সামনে রাস্তায় জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আন্দোলন করতে থাকেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে জনগণের সম্পদ ধ্বংস, কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর করেন।

এতে ভবনের কাচের দেয়াল ভেঙে গেছে। আনুমানিক দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া বিটিআরসি ভবনের সামনে রাস্তার ওপর থাকা ৫১ সিটের বিটিআরসির এসি স্টাফ বাস ভাঙচুর করেছেন। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা অন্তর্ঘাতমূলক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করাসহ ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঘটান। এ সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে দুষ্কৃতকারীদের অনেকে পালিয়ে যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৪৫ জনকে ধরতে সক্ষম হন।

মামলায় ৪৫ জনের নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, এই ৪৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও ১০ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে আটক হওয়া আসামিরা স্বীকার করেছেন। এই ১০ জনের নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৫০০-৬০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এই হামলা ও ভাঙচুরের ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করেছেন বলে এজাহারে জানানো হয়।

এদিকে, এনইআইআর ব্যবস্থা স্থগিত ও আটক সহকর্মীদের মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকান ও ব্যবসা বন্ধের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। আজ সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোবাইল আমদানিতে করহার কমানো, আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। গতকাল তাঁরা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত, দেশের বাজারে অবৈধ ও অননুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করেছে বিটিআরসি। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর (শনাক্তকরণ নম্বর) জাতীয় ডেটাবেইসে যুক্ত করা হচ্ছে।

তবে শুরু থেকেই মোবাইল ব্যবসায়ীদের একাংশ এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছেন। এনইআইআর কার্যকর হওয়ার পর গতকাল বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিটিআরসি ভবন ঘেরাও ও সেখানে ভাঙচুর চালান তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত