
এবারের ঈদযাত্রায় ২৬টি রুটের বাসে ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বাস মালিক সমিতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সমিতি বলছে, নৌপথের বেশির ভাগ রুটে এমন নৈরাজ্য দেখা গেছে। তবে সরকার ও বাস মালিক সমিতি অভিযোগ অস্বীকার করছে। এতে একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় করে তুলেছে।
ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও মানুষের যাতায়াত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা তুলে ধরে আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই অভিযোগ করেন।
সংগঠনটি বলছে, এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। কিন্তু ঢাকাসহ দেশের সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলতে দেখা যাচ্ছে। মূলত পরিবহনশ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় এমন নৈরাজ্যে বাধ্য হচ্ছেন বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক-সহকারীরা অভিযোগ করেছেন।
সমিতির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঈদে সারা দেশে দূরপাল্লার প্রায় ৮৫০ রুটের মধ্যে ২৭টি রুট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৬টি রুটে ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ যাত্রী সারা দেশে যাতায়াত করছেন। এ ছাড়াও আন্তজেলায় আরও কমবেশি ৩ কোটি ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত হয়ে থাকতে পারে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা-খুলনা রুটে ৫১ আসনের বাসে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা, একই রুটে বিআরটিসি দোতলা বাসে ৭০০ টাকা, ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১ হাজার ১৯৭ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ৫২০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-যশোর রুটে ৫০০ টাকার ৬০০ টাকা, ঢাকা-শিবচর রুটে ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা, ঢাকা-ঝালকাঠি রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা, ঢাকা-ঝিনাইদহ রুটে ৫০১ টাকার ভাড়া ৮৩০ টাকা, ঢাকা-মাগুরা রুটে ৬৫০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা, ঢাকা-কুষ্টিয়া রুটে ৭৫০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা, ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা, চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১ হাজার টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা, চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১ হাজার ১০০ টাকার ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৫৫২ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা, ঢাকা-চুয়াডাঙ্গা রুটে ৭০০ টাকার ৮৫০ টাকা, ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ২০০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা, ঢাকা-নড়াইল ৩৮৬ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফেনী রুটে ৪৪০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা, ঢাকা-কুমিল্লা রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা, ঢাকা-টেকেরহাট রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা, ঢাকা-পিরোজপুর রুটে ৫৯০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা আদায় করতে দেখা গেছে।
পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেছে, ৫২ আসনের বাসে ভাড়ার তালিকা জালিয়াতি করে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা লাগানো হয়েছে। এ ছাড়াও স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান ও বাস মালিক সমিতির নানামুখী তৎপরতার কারণে বিগত ঈদুল ফিতরের থেকে এবার নৈরাজ্য কিছুটা সীমিত রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) স্থাপন করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাটি রাশিয়া প্রথমবারের মতো নিজ দেশের বাইরে বাস্তবায়ন করল।
২৭ মিনিট আগে
ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ঢলে উত্তরের পথে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের কারণে দূরপাল্লার বাস চলছে প্রায় হাঁটার গতিতে।
১৭ ঘণ্টা আগে
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং এর অধীনস্থ সব দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাসমালিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং সড়ক-রেলপথে অব্যবস্থাপনার কারণে মৃত্যুর মিছিল চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
১৯ ঘণ্টা আগে