Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদিসহ সব দেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলো জনসম্মুখে আনা দরকার: দিলারা চৌধুরী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদিসহ সব দেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলো জনসম্মুখে আনা দরকার: দিলারা চৌধুরী
জাতীয় প্রেসক্লাবে আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজের আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি কিংবা সৌদি আরবসহ ১১ দেশের সঙ্গে সামরিক ও অন্য চুক্তিগুলো জনসম্মুখে আনা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে সংসদেও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত। জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি করা উচিত নয়।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজের আয়োজিত ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। দিলারা বলেন, সরকারের মধ্যে সবকিছু গোপনে করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে হলে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

অধ্যাপক দিলারা বলেন, বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র। দেশটি অত্যন্ত সংকটময় সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। চাণক্য নীতিতে বলা হয়েছে—‘তোমার যে প্রতিবেশী, সে তোমার বন্ধু নয়; তাকে সব সময় অস্থির করে রাখবে, যাতে সে তোমার ক্ষতি করতে না পারে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে এনে দিলারা চৌধুরী বলেন, এই বিভাজন থেকে দেশকে বের করে আনা, রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের পরও রাজনৈতিক বিভাজন পুরোপুরি দূর হয়নি।

আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবা কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক মুনাফা ও সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও চীনকে ঘিরে আঞ্চলিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যুদ্ধ-বিগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা-সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো উচিত।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আধিপত্য মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা দেশ ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শক্তিশালী গণতন্ত্র, বিরোধী দলের রাজনৈতিক পরিসর, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মানবাধিকারকর্মী ও চিত্রসাংবাদিক ড. শহিদুল আলম বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তন হলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। রাজনৈতিক ও সামাজিক চরিত্রের পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং জুলাই জাদুঘর থেকে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত প্রদর্শনী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও জবাবদিহি প্রয়োজন।

এ সময় গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত