Ajker Patrika

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটেও ছিল ঝুঁকি, বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ নিয়ে তদন্তে অনিয়মের তথ্য

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২: ৪৬
তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটেও ছিল ঝুঁকি, বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ নিয়ে তদন্তে অনিয়মের তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে দফায় দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এই ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল।

বিমানের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা পড়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর এয়ারক্রাফটটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ বিমানের জন্য অস্বাভাবিক কম সময়। কমিটির মতে, ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং জনবল রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারা একটি গুরুতর প্রশাসনিক ও কারিগরি অনিয়ম।

তদন্তে দেখা গেছে, ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি’ (Repetitive Defect) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এমনকি বিমানের সিস্টেম যেখানে শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে, সেখানে তদন্তের সময় পর্যাপ্ত ডেটা পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েব বা সংরক্ষণে অবহেলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি আকাশে থাকা অবস্থায় আবারও ভিএফএসজি (Variable Frequency Starter Generator) বিকল হয়ে যায়। তদন্ত কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড্ডয়ন অবস্থায় অগ্নিকাণ্ড কিংবা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। প্রকৌশল বিভাগের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিমানকে ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা এবং অতিরিক্ত জনবল ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে রাষ্ট্রের প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এটিকে কেবল কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার ‘সমন্বিত ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছে কমিটি।

তদন্ত কমিটি বিমানের দুই প্রকৌশলী—হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। কম ফুয়েল প্রেশারে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তাঁরা বিমানটিকে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, যা একটি ‘মারাত্মক সিদ্ধান্তগত ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কমিটি তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত: দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান, হামলা কি রাতেই

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

অতিথির রণতরি ডুবল মার্কিন হামলায়, প্রশ্নের মুখে ‘মহাসাগরের রক্ষক’ মোদি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত