Ajker Patrika

অধিবেশনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার আগেই বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
অধিবেশনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার আগেই বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ করে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

নিয়মিত সংসদীয় দলের বৈঠকের বাইরে আগেভাগে এই সভা ডাকায় এর আলোচ্যসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সভায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র। সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল একক প্রার্থী দেবে। এরপরও অনেক জায়গায় একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করতে চাইবেন। সেই সব জায়গায় আলোচনার মধ্য দিয়ে একক প্রার্থী দিতে হবে। অন্যথায় জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে। ইতিমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব সমস্যার সমাধান করবেন। নেতা কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ নিয়ে জনগণের কাছে যেতে চায় না বিএনপি। এ জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একক প্রার্থীর পক্ষে কীভাবে কাজ করা যায়-সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের সূত্রগুলো বলছে, সভার নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।

সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরুর এক-দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা হয়। এবার পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ এবং এসব ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, এসব ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক জবাবদিহি এবং অপরাধে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংসদীয় দলের সভায় এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করা এবং নিজ নিজ এলাকায় নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে।

কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের মতো বিষয়ে সংসদে দলের অবস্থান তুলে ধরতে সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

এ দিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা এবং দলীয় কোন্দল সামলানো বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। প্রার্থী বাছাইয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া ক্ষমতায় থাকার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের ধারণা, সংসদীয় দলের এ সভায় সরকারের নীতিগত অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা এবং সামনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসতে পারে। তবে সভার আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি জানা গেলে এর উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত