Ajker Patrika

প্রবাসীদের ভোট গ্রহণে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে চায় নেপাল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৪৯
প্রবাসীদের ভোট গ্রহণে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে চায় নেপাল
সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ সফররত নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজীব সুব্বা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিদেশে অবস্থানরত নেপালি নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত মডেল অনুসরণের পরিকল্পনা করছে নেপাল নির্বাচন কমিশন। আগামী দেড় বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য নেপালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘আউট-অফ-কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি) বা প্রবাসী ভোটগ্রহণ চালু করতে চায় দেশটি।

বাংলাদেশ সফররত নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজীব সুব্বা এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ওসিভি নিয়ে মতবিনিময় করেন সফররত নেপালের নির্বাচন কমিশনার। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ড. রাজীব সুব্বা বলেন, বাংলাদেশের মতো নেপালেরও বিপুলসংখ্যক নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন, যারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। এসব নাগরিককে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশের তৈরি ‘আইটি-সহায়তাপ্রাপ্ত পোস্টাল ভোটিং’ (আইটি-অ্যাসিস্টেড পোস্টাল ভোটিং) মডেলটি বেশ কার্যকরী ও প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চাই। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর এটি আমাদের তৃতীয় দফার বৈঠক। বাংলাদেশের মডেলটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য একটি সফল উদাহরণ।’

নেপালি নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রবাসীদের ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত করা এবং ডাকযোগে ব্যালট স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ ও সাইবার নিরাপত্তা কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে সঠিক নির্বাচনী প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশে সফলভাবে পরীক্ষিত হওয়ায় নেপাল সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও নির্ভুলভাবে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে ড. রাজীব সুব্বা জানান, ভারত ছাড়াও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ নেপালি নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও অধ্যয়নরত আছেন। তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে কোনো কারিগরি বা লজিস্টিক সহায়তা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে নেপালের নির্বাচন কমিশনার বলেন, গবেষণার ফলাফল এবং রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে কারিগরি সহায়তা পেলে সাদরে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত