
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে ছাত্রলীগকে (নিষিদ্ধঘোষিত) নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের—এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিনে এই কল রেকর্ড জমা দেওয়া হয়। পরে তা ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়।
কল রেকর্ডে শোনা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ মাত্র শেষ করলাম। আর ওদের প্রোগ্রাম চলতেছে। তিন হাজারের মতো স্টুডেন্ট আছে। তারা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করবে। সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি মনে হয় ঘোষণা করবে। এই দুই দিন জনসংযোগ করবে। এরপর তারা আলটিমেটাম দেবে।’ কাদের জানতে চান, ‘কে?’ জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা।’ তখন কাদের বলেন, ‘পেটাও না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দেও কেন ওদের? সুযোগ দাও কেন? তোমরা বললে, আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে। কই হালকা হলো?’
সাদ্দাম জবাবে বলেন, ‘জামায়াত আজকে বেশি ছিল।’ কাদের বলেন, ‘তাহলে কী বললা তোমরা? বাস্তবে কী হচ্ছে? জামায়াত মানে? এখানে জামায়াত আর বিএনপি যোগ হইছে। এটার কিছু করার নেই?’ সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করতে পারব। আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে আমরা সেটা করতে পারব। কিন্তু শাহবাগের দিকে যেতে তো আমাদের নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে, শাহবাগের দিকে, অন্যদিকে আমরা যেন না যাই। মানে, ওদের মুখোমুখি যেন না হই। এটাই তো বারবার বলতেছিল।’
কাদের জানতে চান, ‘কে বলেছে?’ সাদ্দাম জবাবে বলেন, ‘ফোন দিয়েছিল সবাই। আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দাও যোগাযোগ করেছিল।’ কাদের বলেন, ‘বিপ্লবের তো এটা বলার কথা না।’ তখন সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশই যোগাযোগ করতেছিল। মুখোমুখি হতে না করেছে।’
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের ওই কথোপকথনের রেকর্ডটি সিআইডির মাধ্যমে ফরেনসিক করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধীনস্থ কাউকে ‘পেটাও না কেন ওদের, মারো না কেন, বাড়তে দাও কেন’—এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে স্পষ্টত উসকানি দেওয়ার অপরাধ।
এই মামলায় গত রোববার (২ আগস্ট) সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) থেকে।
এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।
গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। সে সঙ্গে পলাতক থাকা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল রাতে প্রশাসন ক্যাডারের এই চার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের কারাগারে থাকা বিদেশি বন্দীদের সাজা শেষ হলেও ফেরত নেয় না তাদের দেশ। এমনকি মারা গেলেও অনেকের মরদেহ নিতে আগ্রহ দেখায় না। গত দুই বছরে বিভিন্ন কারাগারে ১৭ জন বিদেশি বন্দীর মৃত্যু হলেও কেবল ভারত দুজনের মরদেহ ফেরত নিয়েছে। ফেরত না নেওয়া মরদেহ তিন মাস অপেক্ষা করে যার যার ধর্ম অনুযায়ী দাফন/সৎকার করা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
চলন্ত অবস্থায় বাসে উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশের গণপরিবহনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গণপরিবহনে যাত্রীদের জন্য উন্নত ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন...
১০ ঘণ্টা আগে
বিশেষ করে, রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু ও ২০১৭ সালের পর রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হওয়া নতুন আগত ব্যক্তিদের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ তাদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের পূর্ববর্তী সংখ্যার বাইরের রোহিঙ্গাদের ...
১২ ঘণ্টা আগে