Ajker Patrika

পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ গণ-অভ্যুত্থান: রাষ্ট্রপতি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ গণ-অভ্যুত্থান: রাষ্ট্রপতি
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আগামীকাল বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ কথা বলেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। প্রবল গণরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ফ্যাসিস্ট সরকার। জাতি অর্জন করে এক ঐতিহাসিক বিজয়।

জুলাই শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তাঁদের এই বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রয়াত সাবেক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও কারাগারে তাঁর দুঃসহ জীবন, বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য গায়েবি মামলা-হামলা, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন, মিথ্যাচার, নির্বিচার দমন-পীড়নের ফলে মানুষের মনে তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল তীব্র ক্ষোভ। এরই সঙ্গে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যাংক-বিমাসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে করা হয়েছিল দুর্বল, অচল ও জনবিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্রকে পরিণত করা হয়েছিল ভঙ্গুর, তাঁবেদার আর মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত। এসব অনাচারের ফলে জনমনে সঞ্চিত হয়েছিল ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ। ফলে কোটা সংস্কারের আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এই ঘনীভূত ক্ষোভ ও জনরোষ দ্রুত রূপ নেয় সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে।

গণ-অভ্যুত্থানে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মানবজাতির ইতিহাসে এমন গণজাগরণ বিরল। জাতি জনমানুষের এই ভূমিকা ও অবদান চিরকাল স্মরণে রাখবে, গর্ববোধ করবে, হবে উজ্জীবিত। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস-গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে-যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান ঘটবে। যেখানে ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হবে।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্র শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে।’ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত