Ajker Patrika

১২ সংসদে বেসরকারি সদস্যদের আনা বিল পাস হয়েছে ৯টি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ১৯: ৪০
১২ সংসদে বেসরকারি সদস্যদের আনা বিল পাস হয়েছে ৯টি
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নন এমন সংসদ সদস্যদের (এমপি) বেসরকারি সদস্য বলা হয়। তাঁরা যেসব বিল পেশ করেন, তা বেসরকারি বিল হিসেবে পরিচিত। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ থেকে দ্বাদশ সংসদ পর্যন্ত বেসরকারি সদস্যদের উপস্থাপিত ৯টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিরোধী দলের সদস্যের, বাকি আটটি ক্ষমতাসীন দল বা জোটের সংসদ সদস্যদের আনা বিল।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব’ সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এমন বিবরণী তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে। সূত্র বলেছে, অতীতের ১২টি সংসদের মধ্যে প্রথম, ষষ্ঠ এবং দ্বাদশ সংসদে বেসরকারি সদস্যরা কোনো বিল উত্থাপন করেননি। এর মধ্যে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন। প্রথম জাতীয় সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৭ মাস এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ছিল ৬ মাস ৮ দিন।

বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো বেসরকারি সদস্যরা ৪৭টি বিল আনেন। এর মধ্যে ২০টি উত্থাপিত হয় এবং পাস হয় দুটি। এই দুটি বিল তুলেছিলেন বিএনপির এমপি দৌলতননেছা খাতুন এবং মুসলিম লীগের এমপি আওছাফুর রহমান।

তৃতীয় সংসদে পাঁচটি বিল আনেন বেসরকারি সদস্যরা। এর মধ্যে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭ পাস হয়, যা উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী। চতুর্থ সংসদে ছয়টি বিল আনেন বেসরকারি সদস্যরা। এর মধ্যে দুটি উত্থাপিত হলেও পাস হয়নি কোনোটি। পঞ্চম সংসদে আনা ৭৪টি বিলের মধ্যে ১২টি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য ফরিদা রহমানের বিল পাস হয়।

সপ্তম সংসদে আনা ৫১টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৯টি সংসদে উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজীর আনা জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন আইন, ২০০১ পাস হয়। অষ্টম জাতীয় সংসদে আনা ৫৪টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৯টি উত্থাপিত হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য সামসুল আলম প্রামাণিকের আনা জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন (রহিতকরণ) আইন-২০০২ পাস হয়।

নবম জাতীয় সংসদে সর্বশেষ বেসরকারি সদস্যদের আনা তিনটি বিল পাস হয়। এর মধ্যে দুটি ছিল আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরীর, বাকিটা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন তৎকালীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর। ওই সংসদে বেসরকারি সদস্যদের ২১টি বিল আনা হলেও উত্থাপন হয় ১৪টি। দশম সংসদে আনা ১৬টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৫টি উত্থাপিত হয় এবং একাদশ জাতীয় সংসদে আনা ১০টি বেসরকারি বিলের মধ্যে একটি উত্থাপিত হয়। এগুলোর কোনোটিই পাস হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয়েছে গত ৩০ এপ্রিল। প্রথম দিনের বৈঠকে ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব’ সম্পর্কিত কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি মো. শাহজাহানকে। বিএনপির এই এমপির সভাপতিত্বে কমিটির প্রথম বৈঠক আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বৈঠকে বেসরকারি সদস্যদের বিলের খসড়া প্রস্তুতকরণে সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং ইউনিটকে সচেষ্ট হওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান ছাড়াও বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাহসিনা রুশদীর, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, শাহজাহান চৌধুরী এবং নূরুল ইসলাম।

বৈঠকে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ করা হয়। এ ছাড়া কমিটির কার্যপরিধি, বেসরকারি বিল এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বেসরকারি বিল উত্থাপনে সকল সংসদ সদস্যকে সচেতন করতে কমিটির সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে বৃহস্পতিবারকে বেসরকারি সদস্যদের কার্যাবলি হিসেবে প্রাধান্য পায়। এই হিসেবে বৃহস্পতিবার বেসরকারি দিবস হিসেবে পরিচিত। অবশ্য স্পিকার চাইলে বৃহস্পতিবারকে সরকারি দিবস হিসেবে পরিচালনা করতে পারেন। পাশাপাশি অন্য কোনো দিন বেসরকারি সদস্যদের কার্যক্রম প্রাধান্য দিতে পারেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত