
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাস হয় বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ)। আইনটি যে প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতকে দমনের জন্য যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে, তা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একাধিকবার স্বীকার করেছেন। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি রহিত করে এর কিছু ধারা সংশোধনের পর ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ নামে নতুন আইন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই আইনে আগে যত মামলা হয়েছে এবং এর ভুক্তভোগী যারা, সেই পরিসংখ্যানের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক।
গত ৫ জুন আইনমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৭ হাজার মামলা হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী এ-ও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ উদ্বিগ্ন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত ডিএসএর অধীনে করা মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই মামলায় ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ সাংবাদিক। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন দল বা তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের লোকেরা। চার বছরে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা এই আইনের অধীনে সপ্তাহে গড়ে একটি মামলা করেছেন। এগুলোর মধ্যে ১৪০টি মামলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে।
এই মামলায় আসামিদের তিনজনের একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অধিকাংশ মামলায় আসামি সাংবাদিক এবং রাজনীতিক। আর ৬০ শতাংশ মামলাই হয়েছে ফেসবুকে কোনো কিছু লেখা, শেয়ার করা বা সমর্থন জানানোর অভিযোগে।
সিজিএস আরও দেখেছে, এই সময় দায়ের হওয়া ১ হাজার ১০৯টি মামলায় মোট ২ হাজার ৮৮৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে ২০২২ সালের আগে। অর্থাৎ মামলাগুলোতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি সময়সীমা অতিক্রম করেছে।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২৬ মাসে ডিএসএ আইনে যত মামলা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই করেছেন ক্ষমতাসীন দল বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অধিকারকর্মী, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাংবাদিকেরা এসব আইনের বেশির ভাগ ভুক্তভোগী। এই সময়ে মোট দায়ের হওয়া ৮৯০ মামলার মধ্যে ২০৬টি মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া পুলিশ, র্যাব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও এই আইনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা করেছে।
সিজিএসের হিসাব অনুযায়ী, এই ২৬ মাসে র্যাব ১৯টি, পুলিশ ৮৭টি, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৫টি, ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠন ২০৬টি, সরকারি কর্মকর্তা ৪৩টি, বেসরকারি কর্মচারী ৩০টি, এনজিও কর্মী ৫টি, ব্যবসায়ী ১৪টি, শিক্ষাবিদ ১৮টি, সাংবাদিক ২৫টি, আইনজীবী ২২টি, অন্যান্য ২১, শিক্ষার্থী ১৩ এবং ৩৮২ জনের পেশা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি সিজিএস।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের মধ্যে ১৬৭ জন বা ৮১ শতাংশ সরাসরি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগকারীদের মধ্যে ৩৭ জন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত পদে অধিষ্ঠিত। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সংসদ সদস্য।
সিজিএসের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২০৭ জন সাংবাদিক, ৪১ জন শিক্ষাবিদ, ১০ এনজিও ও অধিকারকর্মী, ২৫৪ জন রাজনীতিক, ৭৯ জন ছাত্র, ৩২ জন সরকারি কর্মচারী, ৫৩ জন বেসরকারি কর্মচারী, ৭৯ জন ব্যবসায়ী, ২১ জন আইনজীবী, ৮ জন ধর্মীয় নেতা, ৩৬ জন অন্যান্য পেশার। ১ হাজার ৪২৪ জনের পেশা জানা যায়নি।
যাঁদের পেশা জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে ৩০ দশমিক ৯৮ শতাংশই রাজনীতিক। আর এক-চতুর্থাংশের বেশি সাংবাদিক। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ডিএসএ আইনের অধীন মামলা বেড়েছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাস হয় বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ)। আইনটি যে প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতকে দমনের জন্য যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে, তা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একাধিকবার স্বীকার করেছেন। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি রহিত করে এর কিছু ধারা সংশোধনের পর ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ নামে নতুন আইন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই আইনে আগে যত মামলা হয়েছে এবং এর ভুক্তভোগী যারা, সেই পরিসংখ্যানের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক।
গত ৫ জুন আইনমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৭ হাজার মামলা হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী এ-ও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ উদ্বিগ্ন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত ডিএসএর অধীনে করা মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই মামলায় ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ সাংবাদিক। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন দল বা তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের লোকেরা। চার বছরে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা এই আইনের অধীনে সপ্তাহে গড়ে একটি মামলা করেছেন। এগুলোর মধ্যে ১৪০টি মামলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে।
এই মামলায় আসামিদের তিনজনের একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অধিকাংশ মামলায় আসামি সাংবাদিক এবং রাজনীতিক। আর ৬০ শতাংশ মামলাই হয়েছে ফেসবুকে কোনো কিছু লেখা, শেয়ার করা বা সমর্থন জানানোর অভিযোগে।
সিজিএস আরও দেখেছে, এই সময় দায়ের হওয়া ১ হাজার ১০৯টি মামলায় মোট ২ হাজার ৮৮৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে ২০২২ সালের আগে। অর্থাৎ মামলাগুলোতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি সময়সীমা অতিক্রম করেছে।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২৬ মাসে ডিএসএ আইনে যত মামলা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই করেছেন ক্ষমতাসীন দল বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অধিকারকর্মী, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাংবাদিকেরা এসব আইনের বেশির ভাগ ভুক্তভোগী। এই সময়ে মোট দায়ের হওয়া ৮৯০ মামলার মধ্যে ২০৬টি মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া পুলিশ, র্যাব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও এই আইনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা করেছে।
সিজিএসের হিসাব অনুযায়ী, এই ২৬ মাসে র্যাব ১৯টি, পুলিশ ৮৭টি, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৫টি, ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠন ২০৬টি, সরকারি কর্মকর্তা ৪৩টি, বেসরকারি কর্মচারী ৩০টি, এনজিও কর্মী ৫টি, ব্যবসায়ী ১৪টি, শিক্ষাবিদ ১৮টি, সাংবাদিক ২৫টি, আইনজীবী ২২টি, অন্যান্য ২১, শিক্ষার্থী ১৩ এবং ৩৮২ জনের পেশা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি সিজিএস।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের মধ্যে ১৬৭ জন বা ৮১ শতাংশ সরাসরি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগকারীদের মধ্যে ৩৭ জন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত পদে অধিষ্ঠিত। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সংসদ সদস্য।
সিজিএসের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২০৭ জন সাংবাদিক, ৪১ জন শিক্ষাবিদ, ১০ এনজিও ও অধিকারকর্মী, ২৫৪ জন রাজনীতিক, ৭৯ জন ছাত্র, ৩২ জন সরকারি কর্মচারী, ৫৩ জন বেসরকারি কর্মচারী, ৭৯ জন ব্যবসায়ী, ২১ জন আইনজীবী, ৮ জন ধর্মীয় নেতা, ৩৬ জন অন্যান্য পেশার। ১ হাজার ৪২৪ জনের পেশা জানা যায়নি।
যাঁদের পেশা জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে ৩০ দশমিক ৯৮ শতাংশই রাজনীতিক। আর এক-চতুর্থাংশের বেশি সাংবাদিক। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ডিএসএ আইনের অধীন মামলা বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমের জট কমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কমিশনের চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৯ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফোনালাপে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
১০ ঘণ্টা আগে
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান (অস্ত্রধারী দেহরক্ষী) পাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
১১ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১০০৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতার অভাবকে এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
১১ ঘণ্টা আগে