আজকের পত্রিকা ডেস্ক

বিশ্বের ভূরাজনীতিকে টালমাটাল করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক প্রথাগত নিয়ম ভেঙে ফেলছেন। তাঁর আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং একের পর এক আকস্মিক সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপে এখন সবাই তটস্থ। ভেনেজুয়েলার সরকার পতন, গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা এবং ইরানে পরমাণু কর্মসূচিতে বাংকার বাস্টার ফেলার পর সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র আবারও সামরিক হামলার হুমকি—সবই পেশিশক্তির প্রদর্শন। এসবের মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ‘নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে’ কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির রূঢ় প্রয়োগে আমেরিকার দীর্ঘদিনের শত্রুরা যেমন শঙ্কিত, তেমনি মিত্ররাও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন, দেশটির বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি এমনকি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। আর পশ্চিম গোলার্ধের বাইরে, তিনি ইরানকে সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আবারও হামলা চালাতে পারে।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার বছরপূর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বেশ কিছু আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং অগ্নিগর্ভ বক্তব্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি এক শৃঙ্খলিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিধ্বংসী আঘাত হেনেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যেই বিশ্বব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রই গড়ে তুলেছিল।
এটি বিশ্বের একটি বড় অংশকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে; বন্ধু এবং শত্রু উভয় পক্ষই পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। ট্রাম্প এরপর কী করবেন এবং সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে—নাকি কোনো প্রথাগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্বারা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—তা নিয়ে অনেকেই অনিশ্চিত।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘গ্লোবাল সিচুয়েশন রুম’ কনসালটেন্সির প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ‘সবাই জানত যে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে এলে তার তর্জন-গর্জন থাকবেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার যে স্তম্ভগুলো এত দিন ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, সেগুলো যেভাবে দ্রুত ও বিপজ্জনকভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক।’
প্রভাব বলয়
এখনো অনেক কিছু অস্পষ্ট থাকলেও, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তি প্রয়োগের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছেন। উদাহরণ হিসেবে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা এবং ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের কথা বলা যায়।
নতুন কোনো সামরিক ঝামেলা এড়ানোর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অ্যাজেন্ডা নিয়ে প্রচারণা চালালেও, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি আবারও হস্তক্ষেপ করতে পারেন। বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধে, যেখানে তিনি মার্কিন আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্প এমন এক পুরোনো বিশ্বদর্শনকে পুনরুজ্জীবিত করছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রত্যাখ্যাত সেই দর্শন হলো বড় শক্তিগুলো নিজেদের পছন্দমাফিক বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল ভাগ করে নেওয়া, যাকে ‘প্রভাব বলয়’ নামেও ডাকা হয়।
এর অনুপ্রেরণা হলো উনিশ শতকের ‘মনরো ডকট্রিন’, যা পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্যকে অগ্রাধিকার দেয়। ট্রাম্প একেই নিজের মতো করে সাজিয়ে নাম দিয়েছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতির পুনর্জাগরণ মার্কিন মিত্রদের আতঙ্কিত করলেও এটি ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রাশিয়া এবং তাইওয়ানের ওপর নজর দাগানো চীনের স্বার্থে আসতে পারে।
ওপেক সদস্য ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের লালসা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। এতে আমেরিকার পাঁড় মিত্ররাও বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মূলত গত আট দশক ধরে মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাটি এখন ঝুঁকির মুখে, যা মুক্তবাণিজ্য, আইনের শাসন এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সংঘাত ঠেকিয়ে রেখেছিল।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আমেরিকা ফার্স্ট নীতি, সামরিক শক্তির প্রদর্শন, সীমান্তে কড়াকড়ি এবং শুল্ক আরোপ—এসবের জন্যই ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিশ্বনেতারা সে অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার ৫ জানুয়ারি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশাসনের বিশ্বদর্শন সংক্ষেপে তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বর্তমানে এমন এক পৃথিবীতে বাস করি...যা সামরিক শক্তি, বলপ্রয়োগ ও উলঙ্গ ক্ষমতা দিয়ে পরিচালিত হয়।’
রাশিয়ার কবল থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করার ব্যাপারে ট্রাম্পের অনিচ্ছা নিয়ে ইউরোপীয়রা আগেই শঙ্কিত ছিল। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের আসক্তি নিয়ে তারা এখন আরও খোলাখুলি কথা বলছেন। জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মূল্যবোধের বিপর্যয়ে’র জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি একই সঙ্গে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন যাতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ‘ডাকাতদের আস্তানায়’ পরিণত না হয়।
ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, রাশিয়া বা চীন যাতে দখল করতে না পারে সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক দ্বীপটির (গ্রিনল্যান্ড) মালিকানা প্রয়োজন। যদিও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো মার্কিন পদক্ষেপ হবে ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের সমাপ্তি।
এই অস্থিরতার মধ্যে কিছু ইউরোপীয় নেতা পরামর্শ দিয়েছেন, মার্কিন নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে ন্যাটোর উচিত আর্কটিক অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করা।
নিজ স্বার্থ রক্ষা
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আগেই কিছু মার্কিন মিত্র ট্রাম্পের খামখেয়ালি নীতি থেকে বাঁচতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এশীয় অংশীদারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছেন।
জাপানের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইৎসুনোরি ওনোদেরা এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের’ একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের তিরস্কার এবং গত বসন্তে রাশিয়ার প্রতি ঝোঁক দেখে জাপানের একদল জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা এমনকি নিজেদের পারমাণবিক বোমা তৈরির চিন্তাও করতে শুরু করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রগতিশীল ‘রিবিল্ডিং কোরিয়া পার্টি’র আইনপ্রণেতা কিম জুন-হিউং বলেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আক্রমণ প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
বিপরীতে, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা রয়টার্সকে বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপকে বিশ্বব্যবস্থার জন্য খুব বড় কোনো বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না। তবে পশ্চিম গোলার্ধের দিকে ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগ ইউরোপকে ‘নিজের রাস্তা নিজে মাপো’ ধরনের কোনো বার্তা কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
বেশির ভাগ বন্ধুভাবাপন্ন সরকার ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে অনেকটা চুপচাপ ছিল। কারণ, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চটাতে চায় না। একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে তিরস্কার করলে সেটা আমাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনেই সহায়ক হবে না।’
মেক্সিকোর বামপন্থী সরকার ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সমালোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণে তারা কেবল ‘বলপ্রয়োগের নিন্দা’ করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মেক্সিকান কর্মকর্তা।
ট্রাম্প মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার ভেতরে ‘ড্রাগ কার্টেল’ আছে দাবি করে একনাগাড়ে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে তাঁর কর্তৃত্ব কেবল ‘নিজের নৈতিকতা’ দিয়ে চালিত, আন্তর্জাতিক আইন নয়।
নতুন সাম্রাজ্যবাদ?
এদিকে সমালোচকেরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকায় নতুন সাম্রাজ্যবাদের অভিযোগ তুলছে। অপর দিকে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, এটি অনেক আগেই করা উচিত ছিল, বিশেষ করে এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প ‘যথাযথভাবে আমেরিকান প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছেন’, বিশেষ করে ‘মাদকসম্রাট’ মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো আলেকজান্ডার গ্রে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন মার্কিন আক্রমণ বিশ্বকে হতবাক করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বেইজিং, মস্কো, হাভানা ও তেহরানকে শক্ত বার্তা দিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই পদ্ধতির ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ব্রাজিল বা কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো ট্রাম্পের চাপের মুখে নিজেদের রক্ষায় আরও চীনমুখী হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ট্রাম্পের খুল্লামখুল্লা লালসা। ওয়াশিংটন আপাতত ক্ষমতাচ্যুত মাদুরোর অনুগতদের ক্ষমতায় রাখলেও মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে তাঁদের ওপর চাপ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মার্কিন শক্তির এই ব্যবহার চীন ও রাশিয়াকে তাদের প্রতিবেশীদের ওপর আরও বেশি বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে।
সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ঝাও মিংহাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় ‘চীন ভীতি’ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্প পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার কথা বলেছেন এবং কৌশলগত এই জলপথের কাছে চীনা স্থাপনাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে পানামা সরকারকে চাপ দিচ্ছেন।
রাশিয়ার ধারণা, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা এবং মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা নিছক ক্ষমতার খেলা। ক্রেমলিনের সাবেক উপদেষ্টা সের্গেই মারকভ রয়টার্সকে বলেন, ‘ট্রাম্প যে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে একপ্রকার “অপহরণ” করলেন, তা প্রমাণ করে যে আসলে কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই, কেবল পেশিশক্তিই টিকে আছে।’
ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের আকাঙ্ক্ষা পশ্চিম গোলার্ধের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ভেনেজুয়েলা সংকটের মধ্যেই তিনি ইরানে বিক্ষোভকারীদের বাঁচাতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সেখানে (ইরানে) যা ঘটছে, তার কারণে আমাদের হয়তো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’

বিশ্বের ভূরাজনীতিকে টালমাটাল করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক প্রথাগত নিয়ম ভেঙে ফেলছেন। তাঁর আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং একের পর এক আকস্মিক সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপে এখন সবাই তটস্থ। ভেনেজুয়েলার সরকার পতন, গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা এবং ইরানে পরমাণু কর্মসূচিতে বাংকার বাস্টার ফেলার পর সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র আবারও সামরিক হামলার হুমকি—সবই পেশিশক্তির প্রদর্শন। এসবের মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ‘নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে’ কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির রূঢ় প্রয়োগে আমেরিকার দীর্ঘদিনের শত্রুরা যেমন শঙ্কিত, তেমনি মিত্ররাও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন, দেশটির বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি এমনকি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। আর পশ্চিম গোলার্ধের বাইরে, তিনি ইরানকে সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আবারও হামলা চালাতে পারে।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার বছরপূর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বেশ কিছু আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং অগ্নিগর্ভ বক্তব্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি এক শৃঙ্খলিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিধ্বংসী আঘাত হেনেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যেই বিশ্বব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রই গড়ে তুলেছিল।
এটি বিশ্বের একটি বড় অংশকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে; বন্ধু এবং শত্রু উভয় পক্ষই পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। ট্রাম্প এরপর কী করবেন এবং সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে—নাকি কোনো প্রথাগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্বারা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—তা নিয়ে অনেকেই অনিশ্চিত।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘গ্লোবাল সিচুয়েশন রুম’ কনসালটেন্সির প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ‘সবাই জানত যে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে এলে তার তর্জন-গর্জন থাকবেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার যে স্তম্ভগুলো এত দিন ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, সেগুলো যেভাবে দ্রুত ও বিপজ্জনকভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক।’
প্রভাব বলয়
এখনো অনেক কিছু অস্পষ্ট থাকলেও, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তি প্রয়োগের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছেন। উদাহরণ হিসেবে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা এবং ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের কথা বলা যায়।
নতুন কোনো সামরিক ঝামেলা এড়ানোর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অ্যাজেন্ডা নিয়ে প্রচারণা চালালেও, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি আবারও হস্তক্ষেপ করতে পারেন। বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধে, যেখানে তিনি মার্কিন আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্প এমন এক পুরোনো বিশ্বদর্শনকে পুনরুজ্জীবিত করছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রত্যাখ্যাত সেই দর্শন হলো বড় শক্তিগুলো নিজেদের পছন্দমাফিক বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল ভাগ করে নেওয়া, যাকে ‘প্রভাব বলয়’ নামেও ডাকা হয়।
এর অনুপ্রেরণা হলো উনিশ শতকের ‘মনরো ডকট্রিন’, যা পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্যকে অগ্রাধিকার দেয়। ট্রাম্প একেই নিজের মতো করে সাজিয়ে নাম দিয়েছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতির পুনর্জাগরণ মার্কিন মিত্রদের আতঙ্কিত করলেও এটি ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রাশিয়া এবং তাইওয়ানের ওপর নজর দাগানো চীনের স্বার্থে আসতে পারে।
ওপেক সদস্য ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের লালসা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। এতে আমেরিকার পাঁড় মিত্ররাও বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মূলত গত আট দশক ধরে মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাটি এখন ঝুঁকির মুখে, যা মুক্তবাণিজ্য, আইনের শাসন এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সংঘাত ঠেকিয়ে রেখেছিল।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আমেরিকা ফার্স্ট নীতি, সামরিক শক্তির প্রদর্শন, সীমান্তে কড়াকড়ি এবং শুল্ক আরোপ—এসবের জন্যই ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিশ্বনেতারা সে অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার ৫ জানুয়ারি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশাসনের বিশ্বদর্শন সংক্ষেপে তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বর্তমানে এমন এক পৃথিবীতে বাস করি...যা সামরিক শক্তি, বলপ্রয়োগ ও উলঙ্গ ক্ষমতা দিয়ে পরিচালিত হয়।’
রাশিয়ার কবল থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করার ব্যাপারে ট্রাম্পের অনিচ্ছা নিয়ে ইউরোপীয়রা আগেই শঙ্কিত ছিল। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের আসক্তি নিয়ে তারা এখন আরও খোলাখুলি কথা বলছেন। জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মূল্যবোধের বিপর্যয়ে’র জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি একই সঙ্গে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন যাতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ‘ডাকাতদের আস্তানায়’ পরিণত না হয়।
ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, রাশিয়া বা চীন যাতে দখল করতে না পারে সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক দ্বীপটির (গ্রিনল্যান্ড) মালিকানা প্রয়োজন। যদিও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো মার্কিন পদক্ষেপ হবে ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের সমাপ্তি।
এই অস্থিরতার মধ্যে কিছু ইউরোপীয় নেতা পরামর্শ দিয়েছেন, মার্কিন নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে ন্যাটোর উচিত আর্কটিক অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করা।
নিজ স্বার্থ রক্ষা
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আগেই কিছু মার্কিন মিত্র ট্রাম্পের খামখেয়ালি নীতি থেকে বাঁচতে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এশীয় অংশীদারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছেন।
জাপানের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইৎসুনোরি ওনোদেরা এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের’ একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের তিরস্কার এবং গত বসন্তে রাশিয়ার প্রতি ঝোঁক দেখে জাপানের একদল জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা এমনকি নিজেদের পারমাণবিক বোমা তৈরির চিন্তাও করতে শুরু করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রগতিশীল ‘রিবিল্ডিং কোরিয়া পার্টি’র আইনপ্রণেতা কিম জুন-হিউং বলেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আক্রমণ প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
বিপরীতে, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা রয়টার্সকে বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপকে বিশ্বব্যবস্থার জন্য খুব বড় কোনো বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না। তবে পশ্চিম গোলার্ধের দিকে ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগ ইউরোপকে ‘নিজের রাস্তা নিজে মাপো’ ধরনের কোনো বার্তা কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
বেশির ভাগ বন্ধুভাবাপন্ন সরকার ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে অনেকটা চুপচাপ ছিল। কারণ, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চটাতে চায় না। একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে তিরস্কার করলে সেটা আমাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনেই সহায়ক হবে না।’
মেক্সিকোর বামপন্থী সরকার ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সমালোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণে তারা কেবল ‘বলপ্রয়োগের নিন্দা’ করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মেক্সিকান কর্মকর্তা।
ট্রাম্প মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার ভেতরে ‘ড্রাগ কার্টেল’ আছে দাবি করে একনাগাড়ে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে তাঁর কর্তৃত্ব কেবল ‘নিজের নৈতিকতা’ দিয়ে চালিত, আন্তর্জাতিক আইন নয়।
নতুন সাম্রাজ্যবাদ?
এদিকে সমালোচকেরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকায় নতুন সাম্রাজ্যবাদের অভিযোগ তুলছে। অপর দিকে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, এটি অনেক আগেই করা উচিত ছিল, বিশেষ করে এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প ‘যথাযথভাবে আমেরিকান প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছেন’, বিশেষ করে ‘মাদকসম্রাট’ মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো আলেকজান্ডার গ্রে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন মার্কিন আক্রমণ বিশ্বকে হতবাক করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বেইজিং, মস্কো, হাভানা ও তেহরানকে শক্ত বার্তা দিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই পদ্ধতির ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ব্রাজিল বা কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো ট্রাম্পের চাপের মুখে নিজেদের রক্ষায় আরও চীনমুখী হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ট্রাম্পের খুল্লামখুল্লা লালসা। ওয়াশিংটন আপাতত ক্ষমতাচ্যুত মাদুরোর অনুগতদের ক্ষমতায় রাখলেও মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে তাঁদের ওপর চাপ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মার্কিন শক্তির এই ব্যবহার চীন ও রাশিয়াকে তাদের প্রতিবেশীদের ওপর আরও বেশি বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে।
সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ঝাও মিংহাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় ‘চীন ভীতি’ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্প পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার কথা বলেছেন এবং কৌশলগত এই জলপথের কাছে চীনা স্থাপনাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে পানামা সরকারকে চাপ দিচ্ছেন।
রাশিয়ার ধারণা, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা এবং মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা নিছক ক্ষমতার খেলা। ক্রেমলিনের সাবেক উপদেষ্টা সের্গেই মারকভ রয়টার্সকে বলেন, ‘ট্রাম্প যে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে একপ্রকার “অপহরণ” করলেন, তা প্রমাণ করে যে আসলে কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই, কেবল পেশিশক্তিই টিকে আছে।’
ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের আকাঙ্ক্ষা পশ্চিম গোলার্ধের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ভেনেজুয়েলা সংকটের মধ্যেই তিনি ইরানে বিক্ষোভকারীদের বাঁচাতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সেখানে (ইরানে) যা ঘটছে, তার কারণে আমাদের হয়তো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’

ইরানিদের আন্দোলনকে যুক্তিসংগত বলেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হামিদ দাবাসি। তবে উপনিবেশোত্তর তত্ত্বের অন্যতম এই তাত্ত্বিক মনে করেন, ইরানে চলমান আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ আছে। আর তাদের লক্ষ্য মূলত ইরানকে ভেঙে ছোট ছোট জাতি রাষ্ট্রের পরিণত করা এবং ইসরায়ে
৯ ঘণ্টা আগে
তুরস্ক ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। আঙ্কারার আশঙ্কা, এই বিক্ষোভ অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। আঙ্কারা ও তেহরান কয়েক দশক ধরেই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী। সিরিয়া, ইরাক, লেবাননসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের স্বার্থ বারবার মুখোমুখি হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইতিহাস বলে, শক্তিশালী দেশগুলোর সাধারণত বন্ধু কম থাকে। রাশিয়ার উত্থানে তার প্রতিবেশীরা ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে, চীনের উত্থানে এশিয়ায় ভারত-জাপান-ভিয়েতনাম একে অপরের কাছাকাছি এসেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে গত ৮০ বছর ধরে চিত্রটি ছিল ভিন্ন।
১ দিন আগে
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনী। তবে বিক্ষুব্ধ জনগণের দাবি দাওয়ার চেয়ে তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এক কঠোর বিভাজনরেখা। তিনি ‘বৈধ’ দাবি এবং ‘বিদ্রোহের’ মধ্যে পার্থক্য টেনে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
১ দিন আগে