Ajker Patrika

জ্বালানি সংকট: ফুয়েল পাসের পরিকল্পনা করছে সরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জ্বালানি সংকট: ফুয়েল পাসের পরিকল্পনা করছে সরকার
জ্বালানি সংকটে রাজধানীর পেট্রলপাম্পগুলোয় গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি পাচ্ছেন না অনেকে। গতকাল রাজধানী বিজয় সরণি এলাকায় একটি পাম্পে তেল নিতে জেনারেটর আনেন এক গ্রাহক। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকার বলছে, জ্বালানির মজুত ও সরবরাহে কোনো সংকট নেই। কিন্তু এরপরও ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে যানবাহনের সারি কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এই অবস্থায় ‘ফুয়েল পাস’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। দু-একটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি দেওয়া শুরু হয়ে গেছে।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সোমবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। ‘ফুয়েল পাস’ চালু করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ঠাকুরগাঁওসহ বেশ কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কিছু এলাকায় মোটরসাইকেল-চালকদের মধ্যে ফুয়েল কার্ড বা ফুয়েল পাস দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত করার চিন্তা রয়েছে। এতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি বাদ পড়ে পাম্পে ভিড় কমবে।

সারা দেশে অভিযানে অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে মনির হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ টন জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। ১ হাজার ৫৩টি মামলায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড এবং প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেচ মৌসুম বিবেচনায় কৃষি খাতে ডিজেল সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের তালিকার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি জ্বালানি পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৮০০ টন বেশি ছিল। অকটেনের ক্ষেত্রে ২২৫ টন বেশি এবং পেট্রলের ক্ষেত্রে ২৯ টন কম সরবরাহ করা হয়েছে। এসব তথ্য তুলে ধরে জ্বালানি বিভাগ দাবি করছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো মৌলিক সংকট নেই।

ব্রিফিংয়ে মনির হোসেন বলেন, মাঠে সংকট দেখা গেলেও বিপণন তথ্য বলছে, সরবরাহ কিছু ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। তবে মাসের শুরুতে ফিলিং স্টেশনগুলো বেশি তেল উত্তোলন করায় শেষ দিকে তাদের বরাদ্দ কমেছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এই যুগ্ম সচিব বলেন, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যেখানে এখন পর্যন্ত কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেলের উদ্বৃত্ত মজুত রয়েছে। মার্চ মাসে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে এবং ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সামনের দিনগুলোর পরিকল্পনা তুলে ধরে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল আসা দুটি কার্গো থেকে প্রায় ৫৪ হাজার ৬০০ টন জ্বালানি দেশে পৌঁছাবে। এ ছাড়া এনআরএল থেকে ৭ হাজার টন এবং মালয়েশিয়ার পিএসপি, ইউনিপ্যাকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এপ্রিল মাসে মোট প্রায় ১ লাখ টনের বেশি জ্বালানি যোগ হবে।

সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববাজারের বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে জানিয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আলোচনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি: জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গতকাল ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে ২ লাখ ১৮ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতায় সংকট কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। সীমান্তে কিছু কুচক্রী মহল জ্বালানি তেল পাচারে জড়িত। সরকার জনগণকে নিয়ে কঠোর হস্তে এগুলো দমন করতে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এপ্রিলে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার টন পাওয়া যাবে।

মজুতের তথ্য দিলে পুরস্কার

এদিকে অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে সঠিক তথ্য সরবরাহকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যদি জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত কিংবা পাচারের নির্ভরযোগ্য তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তুলে দেয়, তবে যাচাই শেষে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত