কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠাতে জাতিসংঘ যে প্রস্তাব দিয়েছে, সরকার তাতে নীতিগতভাবে সম্মত আছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গতকাল রোববার ঢাকায় সরকারের এ ভাবনার কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এটি একটি মানবিক প্যাসেজ হবে। কিন্তু আমাদের কিছু শর্তাবলি আছে।...যদি শর্তাবলি পালিত হয়, তবে অবশ্যই আমরা সহায়তা করব।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অবশ্য ‘মানবিক প্যাসেজের’ শর্তাবলি প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, মিয়ানমারের একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যা কিছু করা প্রয়োজন, সেটা করতে হবে।
রাখাইনের অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পুরো সীমান্তে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একটি ‘নন-স্টেট অ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে পুরো সীমান্ত। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করতে পারছে না।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ চাইলেও বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে না। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের মুখে দেশটির রাখাইনের মুসলমানপ্রধান রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১০ লক্ষাধিক মানুষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
রাখাইনে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে খাদ্যাভাবসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার সংকট দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের কাছে ‘মানবিক প্যাসেজ’ চায়। বিশ্ব সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মার্চে ঢাকা ও কক্সবাজারে সফরের সময় বাংলাদেশকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানান।
রাখাইন ও আশপাশের এলাকার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংগ্রামরত ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের (ইউএলএ) অস্ত্রধারী শাখা উইং আরাকান আর্মি ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গত বছর (২০২৪) ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে। রাজধানী সিটোয়ে ও বন্দরনগরী চকপু ছাড়া রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রায় সমগ্র রাখাইন অঞ্চলে চাষাবাদ বিঘ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিদেশি মিশনগুলো ও বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা বছরখানেক আগেই রাখাইন থেকে নিজেদের কার্যক্রম খুব সীমিত করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ছাড়া অন্যদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় সেখানে খাদ্যাভাব প্রকট আকার ধারণ করছে। অসুস্থ মানুষের জন্য চিকিৎসা সুবিধা খুব সীমিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত এক বছরে সীমান্তে বাংলাদেশের সতর্কতার মধ্যেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে।
কূটনীতিকেরা বলছেন, রাখাইনে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত আছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশ ও সাহায্য সংস্থাগুলো মনে করছে, রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়ায় সেখানে ‘ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রম’ চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতসংলগ্ন সীমান্ত তুলনামূলকভাবে দুর্গম হওয়ায় রাখাইনে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে স্থল ও নৌপথে বিশেষ ব্যবস্থায় মানবিক সহায়তার পণ্য পৌঁছানো সহজ হতে পারে, এমনটা মনে করছে এসব সংস্থা।
আরও খবর পড়ুন:

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠাতে জাতিসংঘ যে প্রস্তাব দিয়েছে, সরকার তাতে নীতিগতভাবে সম্মত আছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গতকাল রোববার ঢাকায় সরকারের এ ভাবনার কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এটি একটি মানবিক প্যাসেজ হবে। কিন্তু আমাদের কিছু শর্তাবলি আছে।...যদি শর্তাবলি পালিত হয়, তবে অবশ্যই আমরা সহায়তা করব।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অবশ্য ‘মানবিক প্যাসেজের’ শর্তাবলি প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, মিয়ানমারের একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যা কিছু করা প্রয়োজন, সেটা করতে হবে।
রাখাইনের অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পুরো সীমান্তে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একটি ‘নন-স্টেট অ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে পুরো সীমান্ত। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করতে পারছে না।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ চাইলেও বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে না। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের মুখে দেশটির রাখাইনের মুসলমানপ্রধান রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১০ লক্ষাধিক মানুষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
রাখাইনে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে খাদ্যাভাবসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার সংকট দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের কাছে ‘মানবিক প্যাসেজ’ চায়। বিশ্ব সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মার্চে ঢাকা ও কক্সবাজারে সফরের সময় বাংলাদেশকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানান।
রাখাইন ও আশপাশের এলাকার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংগ্রামরত ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের (ইউএলএ) অস্ত্রধারী শাখা উইং আরাকান আর্মি ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গত বছর (২০২৪) ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে। রাজধানী সিটোয়ে ও বন্দরনগরী চকপু ছাড়া রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রায় সমগ্র রাখাইন অঞ্চলে চাষাবাদ বিঘ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিদেশি মিশনগুলো ও বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা বছরখানেক আগেই রাখাইন থেকে নিজেদের কার্যক্রম খুব সীমিত করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ছাড়া অন্যদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় সেখানে খাদ্যাভাব প্রকট আকার ধারণ করছে। অসুস্থ মানুষের জন্য চিকিৎসা সুবিধা খুব সীমিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত এক বছরে সীমান্তে বাংলাদেশের সতর্কতার মধ্যেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে।
কূটনীতিকেরা বলছেন, রাখাইনে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত আছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশ ও সাহায্য সংস্থাগুলো মনে করছে, রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়ায় সেখানে ‘ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রম’ চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতসংলগ্ন সীমান্ত তুলনামূলকভাবে দুর্গম হওয়ায় রাখাইনে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে স্থল ও নৌপথে বিশেষ ব্যবস্থায় মানবিক সহায়তার পণ্য পৌঁছানো সহজ হতে পারে, এমনটা মনে করছে এসব সংস্থা।
আরও খবর পড়ুন:

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমের জট কমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কমিশনের চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফোনালাপে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান (অস্ত্রধারী দেহরক্ষী) পাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
৮ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১০০৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতার অভাবকে এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
৮ ঘণ্টা আগে