Ajker Patrika

উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতি রুখতে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতি রুখতে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর
রাজধানীর ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

অপসংস্কৃতি, উগ্রবাদ আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বুকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের যুবসমাজ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে নজরুল চেতনাকে ধারণ করে আমাদের নতুন করে একটি সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মনস্তত্ত্বে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কেবল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নয়, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সংস্থাকে একসঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ ২২-২৩ বছর ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে আড়াল করার এক হীন ও পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এই আড়াল সংস্কৃতির কারণে তরুণদের সৃজনশীলতার বিকাশ থমকে গিয়েছিল এবং জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তরুণদের হাতে মাদকের মতো মরণব্যাধি তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা আমাদের গোটা যুবসমাজকে ধ্বংসের একদম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। লোকালয়ে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না।’

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে দেশে আজ এক নতুন ও স্বৈরাচারমুক্ত সূর্যের উদয় হয়েছে। অপার সম্ভাবনার এই বাংলাদেশে বর্তমানে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে যে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ও জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা দেশের বুক থেকে যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা, অপসংস্কৃতি আর উগ্রবাদ চিরতরে প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, দর্শন ও সাহিত্যকর্মকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ধরনের সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমেই তরুণদের ভেতরের সুপ্ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রতিভার অন্বেষণ সম্ভব হবে।’

ঢাকার জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাসাসের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক হেলাল খান। বক্তারা দেশব্যাপী এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাকে সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত