Ajker Patrika

বরেণ্য শিল্পীদের স্মৃতিমাখা লোগোয় পরিবর্তন আনছে বিটিভি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৫০
বরেণ্য শিল্পীদের স্মৃতিমাখা লোগোয় পরিবর্তন আনছে বিটিভি
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাস পর যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের। সরকারি এই টেলিভিশন সংক্ষেপে বিটিভি নামে পরিচিত। যাত্রা শুরুর পরপরই দেশজুড়ে কোটি মানুষের মনে ঠাঁই করে নেয় বিটিভির লোগো। সেই লোগোয় পরিবর্তন আনতে চলেছে টেলিভিশনটি। এরই মধ্যে বিটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে বিটিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে, ‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হতে পারেন আপনিও। আপনার আইডিয়া অথবা লোগো ডিজাইন পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়— [email protected] । জমা দেওয়ার শেষ তারিখ—১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।’

বিটিভির যাত্রা শুরু বাংলাদেশের জন্মের আগে, ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তবে সে সময় টেলিভিশনটির নাম বিটিভি ছিল না। ঢাকায় তৎকালীন ডিআইটি ভবনে (বর্তমান রাজউক ভবন) পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হয় টেলিভিশনটির। এটি তখন ছিল পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশনের (পিটিভি) একটি শাখা।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে চ্যানেলটিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রূপান্তর করা হয়। নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। চ্যানেলের লোগো ডিজাইন করেছিলেন শিল্পী ইমদাদ হোসেন। সেই লোগো ডিজাইনে ভূমিকা ছিল বরেণ্য শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ার এবং আর্ট ডিজাইনার মহিউদ্দিন ফারুকের।

বিটিভির লোগোটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল, যেন সবুজ ফ্রেমের টেলিভিশনের পর্দায় উদীয়মান লাল সূর্য সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছে। লাল-সবুজের বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই লোগো।

লোগো পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন আজ সোমবার রাতে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিটিভি এখনো সেই পুরোনো ধাঁচেই আছে। আমরা বিটিভিকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করছি। অর্গানোগ্রাম, শিল্পী সম্মানী, সংবাদ পরিবেশনা থেকে শুরু করে সর্বস্তরে আধুনিকায়ন করতে চাই। এই আধুনিকায়নের পথে যে পরিবর্তনগুলো দরকার, তারই একটি অংশ হলো লোগো পরিবর্তন।’

লাল-সবুজের বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে ওঠা বিটিভির লোগোটি কোটি মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে এটি পরিবর্তন কতটা প্রয়োজন­—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী জেসিন বলেন, ‘আমরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে চাই। আমাদের বরেণ্য শিল্পীদের অবদান সংরক্ষণ করতে চাই। মানুষ যদি না চায়, তাহলে লোগো পরিবর্তন হবে না। তবে যে পরিবর্তনই আনি না কেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করেই আনা হবে। পরিবর্তনগুলো আনা হবে শিল্পীসহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত