Ajker Patrika

২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে থাইল্যান্ডের তীরে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সেনা, যৌনকর্মীদের সতর্ক করল পাতায়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে থাইল্যান্ডের তীরে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সেনা, যৌনকর্মীদের সতর্ক করল পাতায়া
রাতের আলো ঝলমলে পাতায়া শহর। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পৌঁছানোর আগে যৌন ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রণতরীটিতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন রয়েছেন। তারা টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ পাবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ জানায়, আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের রিসোর্ট শহর পাতায়ার কাছে লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের। এর সঙ্গে থাকবে আরও দুটি মার্কিন নৌযান। বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাসদস্যের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার প্রত্যাশা করছেন।

তবে মার্কিন সেনাদের আগমনের আগে শহরের প্রধান সমুদ্রসৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে চালানো অভিযানে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক স্রাথংইউ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে যৌনকর্মীরা কর্তৃপক্ষের অগোচরে বিভিন্ন জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারেন—এ কারণে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হলেও দেশটির প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে, বিশেষ করে ব্যাংকক ও পাতায়ার কিছু এলাকায় যৌন ব্যবসা প্রকাশ্যেই চলে।

গত বছরের নভেম্বরে সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। পরে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানকে সহায়তার জন্য রণতরীটিকে সেখানে পাঠানো হয়। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে এটি আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড তৈরি করেছে।

দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েনের কারণে জাহাজে থাকা সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে দুটি সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম রণতরীটিতে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং মনোবল কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।

পাতায়ার মেয়র পরামাসে নগামপিচেস বলেন, একজন মার্কিন সেনাসদস্য দিনে প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার থাই বাত ব্যয় করতে পারেন। তারা কতক্ষণ তীরে থাকছেন এবং রাতে অবস্থান করছেন কি না, তার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে। তবে সবাই একসঙ্গে তীরে নামবেন না; পর্যায়ক্রমে তাদের শোর লিভ দেওয়া হবে।

ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পিপাটপং ফাকফারে সতর্ক করে বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ক্রেতার আগমন যৌন শোষণ এবং যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি নৌসদস্যদের মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার চেষ্টার খবরও উদ্বেগের আরেকটি কারণ।

পাতায়ার পর্যটন ব্যবসায়ীরা অবশ্য এই সফরকে অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেত্রী লিসা হ্যামিলটন বলেন, ২০ বছরের মধ্যে চলতি বছরই পাতায়ার ব্যবসা সবচেয়ে ধীর গতির। তাই মার্কিন নৌবাহিনীর এই সফর তাদের জন্য নতুন আশার উৎস হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত