নারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষা, মেধাবী ছাত্রীরা পাবে বৃত্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।
আজ সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাটাজোড় অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউশন মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারপ্রধান বললেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করবে। যেসব ছাত্রী ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের নারীপ্রধানদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা সংসারের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে বাজেট পেয়েছিল, তাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। তবে নতুন বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী জুনের মধ্যে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। গড়ে প্রতিটি উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে। পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।
মতবিনিময় সভায় কয়েকজন উপকারভোগী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারুল আক্তার উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সহজ হয়েছে এবং পরিবারের খাদ্যসংকট অনেকটাই কমেছে। তিনি ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
আরেক উপকারভোগী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ দিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালনও শুরু করেছেন।
আরেক নারী উল্লেখ করেন, এই সহায়তার অর্থে তিনি সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারছেন এবং সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনও মেটাতে সুবিধা হচ্ছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে কয়েকজনকে নির্বাচন করে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।









