Ajker Patrika

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে—জানতে চাইল সংসদীয় কমিটি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৫৩
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে—জানতে চাইল সংসদীয় কমিটি
আজ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: বাসস

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া উদ্যোগ ও অগ্রগতি কমিটিকে জানানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

অজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা আমাদের সরকারের অন্যতম এজেন্ডা। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে থাকা দুই প্রতিমন্ত্রীই জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে মন্ত্রণালয় কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটিতে জানানোর জন্য সুপারিশ করেছি। এ বিষয়ে কমিটি মন্ত্রণালয়কে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, তাও জানাতে বলেছি।’

জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণে করেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী(২) শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সানজিদা ইসলাম। এ ছাড়া কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (১) হুমায়ুন কবির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে তারা সক্রিয় চেষ্টা করছে। শরিফ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত আনার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন কমিটির সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা তাঁকে অবশ্যই ফেরত চাবি, তবে সেটা কোনো শর্তযুক্ত নয়। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়। তাঁকে ফেরত দিতেই হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ বি এম মোশাররফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থান জানতে চেয়েছি। আমাদের জানানো হয়েছে, বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সরকার ভারতকে বারবার তাগাদা দিচ্ছে। এখানে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই।’

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়, বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি আরাকানের আর্মির সঙ্গেও মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করবে সংসদীয় কমিটি। সেখানে তারা একটি সেমিনার করবে। তাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

রোহিঙ্গার বিষয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করি। সেসব জায়গায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।’

এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরও কার্যকরী উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বলেছি।’

বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে। তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান করা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত