Ajker Patrika

পিকে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা দুদকের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২২
পিকে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা দুদকের

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মো. নওশেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন, সম্পদবিবরণীতে ৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৮ টাকার তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা একাধিক মামলায় প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের সহযোগী হিসেবে আসামি হন নওশেরুল ইসলাম। ওই অভিযোগের অনুসন্ধানের সময় তাঁর সম্পদের হিসাব চায় দুদক। ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি দুদকে সম্পদবিবরণী জমা দেন।

দুদকে জমা দেওয়া হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের মূল্যে পার্থক্য শনাক্ত হয়। নওশেরুল স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছিলেন ৫ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ৮৬১ টাকা। যাচাইয়ে স্থাবর সম্পদের মূল্য পাওয়া যায় ৫ কোটি ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টাকা।

শেয়ার, ব্যাংক আমানত, এফডিআর, ডিপিএস, বিমা, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, নগদ অর্থসহ নওশেরুলের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় ১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭১২ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ টাকা।

সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি আয়ের উৎসও খতিয়ে দেখে দুদক। এজাহারে বলা হয়, জমি বিক্রির অগ্রিম হিসেবে ১৩ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪৭ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়ে সংশোধিত সম্পদবিবরণী দেন নওশেরুল। ওই অর্থ বাদ দিয়ে তাঁর নিট সম্পদ হিসাব করা হয় ১২ কোটি ৭১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪ টাকা।

১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০২২-২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ব্যয় হিসেবে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ১৩০ টাকা যোগ করে নওশেরুলের মোট অর্জিত সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৫৪ টাকা। বিপরীতে আয়কর নথি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন খাত থেকে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৫৪ টাকার বৈধ আয় পেয়েছে দুদক। দুই হিসাবের ব্যবধান ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

সম্পদবিবরণীতে অসংগতির আরও দুটি উদাহরণ পেয়েছে দুদক। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা মৌজায় ১০৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে অবকাঠামো নির্মাণে ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা জানান নওশেরুল। গণপূর্ত বিভাগের নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর পরিমাপে ব্যয় পাওয়া যায় ৪১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টাকা। এ ঘটনায় ৯১ হাজার ৯৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়েছে।

বনানী ডিওএইচএসের গ্রিন হ্যাভেনে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ মালিকানায় থাকা ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে নিজের বিনিয়োগ ৩০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেখান নওশেরুল। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি কিনতে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেডকে ৭৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। এতে নওশেরুলের অংশের ব্যয় দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ আট লাখ টাকা কম দেখানোর তথ্য পেয়েছে দুদক।

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নওশেরুল। ১৯৯৬ সালে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিভাগের পরিচালক পদে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যাংকের চাকরি ছাড়েন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত