Ajker Patrika

জনতা ব্যাংকের ৪৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৮ পরিচালককে তলব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জনতা ব্যাংকের ৪৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৮ পরিচালককে তলব

ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৮ জন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের আয়করসংক্রান্ত ২১৮ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের তলব করা হয়েছে।

সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পৃথক ২০টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠিতে অভিযোগসংশ্লিষ্ট সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নির্ধারিত তারিখে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, ২০ জানুয়ারি যাঁদের তলব করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মাহফুজুর রহমান এবং পরিচালক অজিত কুমার পাল, মেশকাত আহমেদ চৌধুরী, কে এম শামসুল আলম, মুহাম্মদ আসাদ উল্লাহ, মো. জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও মো. হেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া পৃথক দিনে তলব করা হয়েছে ব্যাংকটির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতসহ পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, নজিবুল ইসলাম দীপু, এ এম দেবনাথ, সৈয়দ বজলুল করিম, অধ্যাপক মোহাম্মদ মইনউদ্দিন, মো. আবু নাসের, সঙ্গিতা আহমেদ, নিতাই চন্দ্র নাগ, এ কে এম কামরুল ইসলাম ও মো. মাহাবুবুর রহমান হিরনকে।

দুদকের ওই সূত্র জানায়, কারাগারে আটক থাকায় জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ জুলাই দুদকের করা একটি মামলায় জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাতকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা ওই মামলায় রিমান্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত