ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠকের প্রথম দফা আগামী ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে এমনটাই নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারি সূত্র।
বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চলমান ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট বা শনাক্ত, মুছে ফেলা এবং বহিষ্কার’ অভিযান মূলত নথিপত্রবিহীন তথাকথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। এই নিয়ে যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত ঠিক তখনই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকেরা বৈঠকে বসবেন। মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা স্থগিত করা হয়।
গত এক সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্ত এলাকাগুলো সফরের পরবর্তী ধাপে ৫ ও ৬ জুন ত্রিপুরা এবং ১৪ ও ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফর করবেন। এ সময় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত বিষয়েও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
বিএসএফ বৈঠকে সীমান্তপারের অপরাধ, বাংলাদেশভিত্তিক ‘দুর্বৃত্তদের’ হাতে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ এবং বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো উত্থাপন করতে পারে।
ভারত সরকারের হিসাব অনুসারে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সীমান্তে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত বিএসএফ সদস্যের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৪ ও ৭২ জন। অন্যদিকে, গত দুই দফা মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি অভিযোগ তুলেছিল যে বিএসএফ অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে, এমনকি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদেরও বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে।
ভারতের আরও দাবি, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে দেশ ত্যাগের সময় ১ হাজার ৪৯ জন কাগজপত্রবিহীন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করার সময় বিএসএফ ৪ হাজারের বেশি অনথিভুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে।
সরকারি নথিতে এ ঘটনাকে ‘এক্সফিলট্রেশন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই বিষয়ে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যাতায়াত নতুন কোনো ঘটনা নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা হলো কোনো অবৈধ অভিবাসীকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। তবে যদি কোনো অনথিভুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে যেতে চান, আমরা তাদের বাধা দিই না। দেশত্যাগের আগে তাদের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। যদি তারা কোনোভাবে আধার বা প্যান কার্ডের মতো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে থাকেন, তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেসব নথি বাতিল করার জন্য লিখি এবং তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য কালো তালিকাভুক্ত করি।’
সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বছরে দুবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একবার ভারতে এবং পরেরবার বাংলাদেশে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার স্থল ও নদীসীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার।
গত ১৪ এপ্রিল দ্য হিন্দু পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্চে একটি নতুন বহিষ্কার নীতি (Deportation Policy) প্রণয়ন করেছে। ওই নীতির আওতায় সব রাজ্যকে প্রতিটি জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব টাস্কফোর্সের কাজ হবে ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত, চিহ্নিত এবং বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানো।’ পাশাপাশি নিখোঁজ বিদেশি নাগরিক বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এর আগে, ২০২০ সালের ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোকসভায় এক লিখিত জবাবে বলেছিলেন, ‘কিছু অনুপ্রবেশকারী গোপন ও কৌশলী উপায়ে ভারতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু অংশে জটিল নদীবেষ্টিত ভূপ্রকৃতি রয়েছে, যেখানে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী আরও জানান, প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
২ মিনিট আগে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদকে মাগুরার ডিসি নিয়োগ দিয়ে সোমবার (১ জুন) রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
৯ মিনিট আগে
চলতি জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি হালনাগাদ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর আগামী আগস্টের শেষের দিকে তফসিল দিয়ে অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সিটি করপোরেশনের আরও পাঁচ কর্মকর্তার মশক নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলে-এই পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১০ ঘণ্টা আগে