অরূপ রায়, সাভার

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্থানীয় এমপির পারিবারিক বিমা কোম্পানি হওয়ায় সানলাইফ ইনস্যুরেন্সে গণহারে বিনিয়োগ করেছিলেন এলাকার মানুষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যের মতো বিমা খাতেও খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি ও তাঁর পরিবার। হাজার হাজার মানুষের বিমা দাবি পরিশোধ না করে বিক্রি করে দেন বিমা কোম্পানিটির শেয়ার।
অধিক মুনাফার জন্য ২০০৯ সালে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে ১২ বছরমেয়াদি পলিসি কিনেছিলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের সালেহা বেগম। কিন্তু ১২ বছরের মেয়াদ পেরিয়ে ১৬ বছর হতে চলল, এখনো আমানতের টাকা ফেরত পাননি তিনি।
সালেহা বেগম ২০০৯ সালে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির দড়গ্রাম কার্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকার পলিসি কিনেছিলেন। মেয়াদ পূর্তির এক মাসের মধ্যে তাঁকে লাভসহ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
সালেহা বেগম বলেন, ‘১৯৮৬ সালে আমার স্বামী মারা যায়। এরপর থিকা আমার কষ্টের জীবন শুরু হয়। মাটি কাটছি, সুযোগ পাইলে পিঠা বিক্রি করছি। এইভাবে সংসারের খরচ মিটাইয়া কিছু কিছু সঞ্চয় করছি। এলাকার এক নেতার কথায় হেই ট্যাকা সানলাইফে জমা করছি। আমার এত
কষ্টের ট্যাকা আমি পাইতাছি না। চাইর বছর ধইরা এই অফিস হেই অফিস ঘুইরা জুতার তলি শেষ কইরা ফালাইছি। তাও ট্যাকা তুলবার পারি নাই।’
শুধু সালেহা বেগমই নন, মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলাসহ পাশের ঢাকা জেলার সাভার ও ধামরাই উপজেলার অন্তত ৪০ হাজার গ্রাহক সালেহার মতো সানলাইফের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মানিকগঞ্জেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক। এসব গ্রাহকের কয়েক বছর ধরে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়সহ প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তাঁদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না।
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিটি ছিল মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পারিবারিক বিমা কোম্পানি। কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর বোন রুবিনা হামিদ। ২০২৩ সালে গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্স ও তাঁর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকেরা তাঁদের সব শেয়ার বিক্রি করে দেন। কিন্তু এর আগে থেকেই সানলাইফ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে নানা টালবাহানা শুরু করে।
এদিকে মালিকানা হাতবদল হওয়ার পর গ্রিন ডেলটা কর্তৃপক্ষ সানলাইফের নামেই ওই বিমা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিচ্ছে না।
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ডিপোজিট পেনশন স্কিমে মাসে ৫০০ টাকা করে জমা রাখতেন সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের অমূল্য মণি দাস। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনিও কোনো টাকা পাননি।
অমূল্য মণি দাস বলেন, ‘সানলাইফের দড়গ্রাম অফিসের ম্যানেজার নবীনুর বক্স গোলামের কথায় ২০০৮ সাল থেকে আমি ডিপোজিট পেনশন স্কিমে টাকা জমা করি। ২০১৮ সালে মেয়াদ পূর্তির পর থেকে দড়গ্রাম অফিসসহ ঢাকার হেড অফিসে অনেক ঘোরাঘুরি করেছি। কিন্তু কোনো টাকাই আমি পাই নাই।’
জানতে চাইলে সানলাইফের দড়গ্রাম কার্যালয়ের তৎকালীন ব্যবস্থাপক ও জাতীয় পার্টির সাটুরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি নবীনুর বক্স গোলাম বলেন, ‘মেয়াদ পূর্তির পর কিছু গ্রাহক তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পেলেও অধিকাংশ গ্রাহকই পাননি।’
নবীনুর বক্স গোলাম আরও বলেন,‘শুধু গ্রাহকদের আমানতের টাকাই নয়, আমাদের কমিশনের টাকাসহ কর্মচারীদের বেতন আর দড়গ্রাম কার্যালয়ের ভাড়াও দেয়নি সানলাইফ কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় বছর চারেক আগে দড়গ্রাম কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
সানলাইফের পলিসি কিনে প্রতারিত হয়েছেন সাটুরিয়া উপজেলার পানাইজুরি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ আলী। ২০১৯ সালে মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পর গত ৫ বছরেও তাঁর আমানতের টাকা ফেরত পাননি।
ওয়াহেদ আলী বলেন, ‘সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাটুরিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগমের অনুরোধে ২০০৭ সালে আমি, আমার পরিবারের আরও তিন সদস্যসহ এলাকার অনেকে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি কিনেছিলাম। কিন্তু আমরা কেউ আমানতের টাকা ফেরত পাইনি।’
যোগাযোগ করা হলে মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমি সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের একজন কর্মী হিসেবে পানাইজুরি ও পাশের কমলপুর গ্রামের প্রায় অর্ধশত লোককে পলিসি কিনে দিয়েছিলাম। মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পর তাঁদের ২৭ জন এখনো আমানতের টাকা ফেরত পাননি।’
মমতাজ বেগম আরও বলেন, ‘আমি একাধিকবার কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনো টাকা ফেরত দেন না।’
সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের সাভার শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমার মাধ্যমে ১ হাজারের বেশি লোক সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের কোম্পানির পলিসি কিনেছিলেন। মেয়াদ পূর্তির পর তাঁদের অধিকাংশই আমানতের টাকা ফেরত পাননি। প্রধান কার্যালয় থেকে টাকা না দেওয়ায় আমি গ্রাহকদের চাপের মধ্যে পড়ি। এ অবস্থায় বছর পাঁচেক আগে সাভারের কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অনেক গ্রাহকের আমানতের টাকা আমাকে পরিশোধ করতে হয়েছে।’
সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা নবকুমার মিত্র বলেন, ‘একশ্রেণির কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বছর পাঁচেক আগে মানিকগঞ্জসহ পাশের ধামরাই ও সাভার উপজেলার সব কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পরও হাজার হাজার গ্রাহক তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এর মধ্যে মানিকগঞ্জেরই রয়েছে অন্তত ২০ হাজার গ্রাহক।’
নবকুমার মিত্র আরও বলেন, ‘যেসব গ্রাহকের টাকা যথাযথভাবে জমা হয়েছে এবং প্রধান কার্যালয়ে তাঁর প্রমাণ আছে তাঁরা পর্যায়ক্রমে আমানতের টাকা ফেরত পেতে পারেন।’
যোগাযোগ করা হলে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সদ্য সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম রেজা বলেন, ‘মেয়াদ পূর্তির পর অনেক গ্রাহকই তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে যেসব গ্রাহক আমানতের টাকা ফেরত পাননি, তাঁরা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। এভাবে কেউ কেউ তাঁদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন।’
এ বিষয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সানলাইফের বিরুদ্ধে অনেক গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ না করার অভিযোগ আইডিআরএতে এসেছে। তবে সাভার-মানিকগঞ্জ এলাকার কোনো গ্রাহকের অভিযোগ আসেনি। তারপরও আজ বিষয়টি শুনলাম, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্থানীয় এমপির পারিবারিক বিমা কোম্পানি হওয়ায় সানলাইফ ইনস্যুরেন্সে গণহারে বিনিয়োগ করেছিলেন এলাকার মানুষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যের মতো বিমা খাতেও খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি ও তাঁর পরিবার। হাজার হাজার মানুষের বিমা দাবি পরিশোধ না করে বিক্রি করে দেন বিমা কোম্পানিটির শেয়ার।
অধিক মুনাফার জন্য ২০০৯ সালে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে ১২ বছরমেয়াদি পলিসি কিনেছিলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের সালেহা বেগম। কিন্তু ১২ বছরের মেয়াদ পেরিয়ে ১৬ বছর হতে চলল, এখনো আমানতের টাকা ফেরত পাননি তিনি।
সালেহা বেগম ২০০৯ সালে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির দড়গ্রাম কার্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকার পলিসি কিনেছিলেন। মেয়াদ পূর্তির এক মাসের মধ্যে তাঁকে লাভসহ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
সালেহা বেগম বলেন, ‘১৯৮৬ সালে আমার স্বামী মারা যায়। এরপর থিকা আমার কষ্টের জীবন শুরু হয়। মাটি কাটছি, সুযোগ পাইলে পিঠা বিক্রি করছি। এইভাবে সংসারের খরচ মিটাইয়া কিছু কিছু সঞ্চয় করছি। এলাকার এক নেতার কথায় হেই ট্যাকা সানলাইফে জমা করছি। আমার এত
কষ্টের ট্যাকা আমি পাইতাছি না। চাইর বছর ধইরা এই অফিস হেই অফিস ঘুইরা জুতার তলি শেষ কইরা ফালাইছি। তাও ট্যাকা তুলবার পারি নাই।’
শুধু সালেহা বেগমই নন, মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলাসহ পাশের ঢাকা জেলার সাভার ও ধামরাই উপজেলার অন্তত ৪০ হাজার গ্রাহক সালেহার মতো সানলাইফের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মানিকগঞ্জেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক। এসব গ্রাহকের কয়েক বছর ধরে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়সহ প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তাঁদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না।
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিটি ছিল মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পারিবারিক বিমা কোম্পানি। কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর বোন রুবিনা হামিদ। ২০২৩ সালে গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্স ও তাঁর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকেরা তাঁদের সব শেয়ার বিক্রি করে দেন। কিন্তু এর আগে থেকেই সানলাইফ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে নানা টালবাহানা শুরু করে।
এদিকে মালিকানা হাতবদল হওয়ার পর গ্রিন ডেলটা কর্তৃপক্ষ সানলাইফের নামেই ওই বিমা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিচ্ছে না।
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ডিপোজিট পেনশন স্কিমে মাসে ৫০০ টাকা করে জমা রাখতেন সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের অমূল্য মণি দাস। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনিও কোনো টাকা পাননি।
অমূল্য মণি দাস বলেন, ‘সানলাইফের দড়গ্রাম অফিসের ম্যানেজার নবীনুর বক্স গোলামের কথায় ২০০৮ সাল থেকে আমি ডিপোজিট পেনশন স্কিমে টাকা জমা করি। ২০১৮ সালে মেয়াদ পূর্তির পর থেকে দড়গ্রাম অফিসসহ ঢাকার হেড অফিসে অনেক ঘোরাঘুরি করেছি। কিন্তু কোনো টাকাই আমি পাই নাই।’
জানতে চাইলে সানলাইফের দড়গ্রাম কার্যালয়ের তৎকালীন ব্যবস্থাপক ও জাতীয় পার্টির সাটুরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি নবীনুর বক্স গোলাম বলেন, ‘মেয়াদ পূর্তির পর কিছু গ্রাহক তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পেলেও অধিকাংশ গ্রাহকই পাননি।’
নবীনুর বক্স গোলাম আরও বলেন,‘শুধু গ্রাহকদের আমানতের টাকাই নয়, আমাদের কমিশনের টাকাসহ কর্মচারীদের বেতন আর দড়গ্রাম কার্যালয়ের ভাড়াও দেয়নি সানলাইফ কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় বছর চারেক আগে দড়গ্রাম কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
সানলাইফের পলিসি কিনে প্রতারিত হয়েছেন সাটুরিয়া উপজেলার পানাইজুরি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ আলী। ২০১৯ সালে মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পর গত ৫ বছরেও তাঁর আমানতের টাকা ফেরত পাননি।
ওয়াহেদ আলী বলেন, ‘সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাটুরিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগমের অনুরোধে ২০০৭ সালে আমি, আমার পরিবারের আরও তিন সদস্যসহ এলাকার অনেকে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পলিসি কিনেছিলাম। কিন্তু আমরা কেউ আমানতের টাকা ফেরত পাইনি।’
যোগাযোগ করা হলে মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমি সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের একজন কর্মী হিসেবে পানাইজুরি ও পাশের কমলপুর গ্রামের প্রায় অর্ধশত লোককে পলিসি কিনে দিয়েছিলাম। মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পর তাঁদের ২৭ জন এখনো আমানতের টাকা ফেরত পাননি।’
মমতাজ বেগম আরও বলেন, ‘আমি একাধিকবার কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনো টাকা ফেরত দেন না।’
সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের সাভার শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমার মাধ্যমে ১ হাজারের বেশি লোক সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের কোম্পানির পলিসি কিনেছিলেন। মেয়াদ পূর্তির পর তাঁদের অধিকাংশই আমানতের টাকা ফেরত পাননি। প্রধান কার্যালয় থেকে টাকা না দেওয়ায় আমি গ্রাহকদের চাপের মধ্যে পড়ি। এ অবস্থায় বছর পাঁচেক আগে সাভারের কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অনেক গ্রাহকের আমানতের টাকা আমাকে পরিশোধ করতে হয়েছে।’
সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা নবকুমার মিত্র বলেন, ‘একশ্রেণির কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বছর পাঁচেক আগে মানিকগঞ্জসহ পাশের ধামরাই ও সাভার উপজেলার সব কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পরও হাজার হাজার গ্রাহক তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এর মধ্যে মানিকগঞ্জেরই রয়েছে অন্তত ২০ হাজার গ্রাহক।’
নবকুমার মিত্র আরও বলেন, ‘যেসব গ্রাহকের টাকা যথাযথভাবে জমা হয়েছে এবং প্রধান কার্যালয়ে তাঁর প্রমাণ আছে তাঁরা পর্যায়ক্রমে আমানতের টাকা ফেরত পেতে পারেন।’
যোগাযোগ করা হলে সানলাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সদ্য সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম রেজা বলেন, ‘মেয়াদ পূর্তির পর অনেক গ্রাহকই তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে যেসব গ্রাহক আমানতের টাকা ফেরত পাননি, তাঁরা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। এভাবে কেউ কেউ তাঁদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন।’
এ বিষয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সানলাইফের বিরুদ্ধে অনেক গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ না করার অভিযোগ আইডিআরএতে এসেছে। তবে সাভার-মানিকগঞ্জ এলাকার কোনো গ্রাহকের অভিযোগ আসেনি। তারপরও আজ বিষয়টি শুনলাম, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিসুর রহমান আলমগীর ওরফে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২১ মিনিট আগে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, প্রচারণার অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং গণভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রত্যেকটা ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায়...
৫ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৬ ঘণ্টা আগে