Ajker Patrika

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ
আবু সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গত ৫ মার্চ রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ঠিক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয় গত বছরের ২৬ জুন। প্রসিকিউশন পরে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেয়। ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন ৩০ জুন।

এই মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তাঁরা হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত) সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল। বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক।

গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছরের ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার।

আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, রায়ের প্রাক্কালে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে যেমন হত্যা করা হয়েছে, তাকেও তেমনভাবে হত্যা করা হোক—এই দাবি আমার। আমার ছেলে তো কোনো অপরাধ করেনি। আমার নিরস্ত্র ছেলে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার মাধ্যমে আমার সংসারটাই মাটি করে দেওয়া হয়েছে।’

মকবুল হোসেন বলেন, ‘ওই ছেলের ওপর আমার অনেক আশা-ভরসা ছিল—সে চাকরি করবে, বিয়ে-শাদি করবে, বউ-সন্তান হবে—সব দেখব। কিন্তু আমার আগেই সেই ছেলে চলে গেল।’

আবু সাঈদের বড় ভাই বলেন, ‘আমার দাবি, আবু সাঈদের হত্যার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। আর যারা এই মামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে

ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘন’, ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

ইরান হরমুজে টোল বসালে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কী হবে

সচিবালয়ের পক্ষে কথা বলায় এবং নিউজ শেয়ার করায় বিচারকদের শোকজ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত