Ajker Patrika

পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক
ফাইল ছবি

পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রধান বন সংরক্ষকের কার্যালয় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও অন্যান্য বিষয় অনুসন্ধান করা হবে।

এ দিকে বন অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়নে ঘুষের নির্ধারিত দর এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ঝুলে আছে দুদকে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য পায় সংস্থাটি। তবে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ হয়নি।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির নথি অনুযায়ী, পরদিন বন ভবনে অভিযান চালিয়ে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, উপপ্রধান বন সংরক্ষক ও টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সংগ্রহ করা হয় অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথিপত্র।

অভিযানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ, চেকপোস্ট ও বিভাগীয় কার্যালয়ে পদায়নের জন্য পদভেদে ঘুষের হার নির্ধারিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পদে পদায়নে ৫০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া দুই বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির রেঞ্জ কর্মকর্তা পদে ১৫ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ লাখ ও তৃতীয় শ্রেণিতে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির চেকপোস্টে স্টেশন কর্মকর্তা পদে ২০ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ লাখ ও তৃতীয় শ্রেণিতে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্যও উঠে আসে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাসিক মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বন অধিদপ্তরের দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫১০ হেক্টর এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৬২ হেক্টর এলাকায় বনায়ন ও নার্সারি সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দুদকের অভিযানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫১০ হেক্টর বাগান সৃজনের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে আনুমানিক ১৬০ হেক্টরে চারা লাগানো হয়েছিল। বাকি এলাকায় বনায়ন না করেই বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পরের অর্থবছরের ৩৬২ হেক্টর বনায়নেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বাগানের সাইনবোর্ড থাকলেও ভেতরে গাছের অস্তিত্ব ছিল না। আবার রোপণ করা চারারও যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সুফল প্রকল্পের পরিচালক গোবিন্দ রায় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন জমা দেয় দুদক।  

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন–নতুন কমিশন যোগ দিয়েছে অল্প কিছুদিন আগে। ফলে প্রতিটি বিষয়ে কমিশন নজরে রাখছে। ফলে অনুসন্ধান পর্যায়ে আটকে থাকা বিষয়গুলো দেখবে দুদক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত