ব্যর্থতায় সেকশন প্রধানের পদের আয়ু হবে ৫ মিনিট, রেলের কর্মকর্তাদের মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

রেলওয়ের সেবা, নিরাপত্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রেল, সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, দায়িত্বে থেকে কাজ না করলে কাউকে এক মিনিটও সহ্য করা হবে না। আর কোনো শাখা ব্যর্থ হলে তাঁর প্রধানের দায়িত্বে থাকার আয়ু হবে মাত্র পাঁচ মিনিট।
রেলওয়ের যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও চলমান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করাসহ সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত রোববার মতবিনিময় সভা করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মন্ত্রী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সতর্ক করে দেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, রেলমন্ত্রী বলেছেন, ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কথা বলা হয়, কিন্তু তিনি ৪০ হাজার কোটি টাকার কাজও খুঁজে পান না। এটি শুধু পরিকল্পনার ঘাটতি নয়, বাস্তবায়নে গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার স্পষ্ট প্রমাণ। মাঠপর্যায়ে তদারকির বড় ধরনের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে রবিউল আলম বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হলে আমার আর প্রতিমন্ত্রীর আয়ু আছে ৫ মিনিট। জবাবদিহি আমাদেরও করতে হয়।...যে সেকশন ব্যর্থ হবে, সেই সেকশনের প্রধানেরও আয়ু থাকবে মাত্র পাঁচ মিনিট। কোনো অজুহাত চলবে না। ...কারণ ব্যর্থ হলে আমার এবং প্রতিমন্ত্রীর যেহেতু ৫ মিনিটের বেশি থাকার সুযোগ নেই, অতএব আপনারা এই বড় বড় জায়গায় ৫ মিনিটও থাকবেন না। ...কাজ করতে না পারলে সুন্দরভাবে দুই-তিন লাইনের আবেদন লিখে সরে দাঁড়ান।’
মন্ত্রী একই ধরনের রেল দুর্ঘটনা একাধিকবার ঘটার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। লোকবল সংকটের বিষয় স্বীকার করে নিয়েও তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই ব্যর্থতার অজুহাত হতে পারে না।
উৎসবের সময় বাড়তি যাত্রী চাপ মোকাবিলার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন। তবে নিরাপত্তা ও সেবা সারা বছরই নিশ্চিত করতে হবে। লেভেল ক্রসিংসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রেলের ওয়াশিং প্ল্যান্ট প্রকল্প নিয়ে সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রেলমন্ত্রী। তখন রেলসচিব ও প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রায় ৩৫-৩৬ কোটি টাকার এই প্রকল্প যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে প্রকল্পটি পূর্ণমাত্রায় চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী বলেন, ব্যয় বেশি হলেও প্রয়োজন থাকলে প্রকল্প চালু রাখতে হবে। বন্ধ রাখা কোনো সমাধান নয়। যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধ করা হয়, তাহলে সেটি নীতিগতভাবে জানাতে হবে, গোপনে বন্ধ রাখা যাবে না।








-052a4e-256x144.webp)
