Ajker Patrika

পদ্মার ইলিশ ভারতে, গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে—দ্বিমুখী পাচার রুখতে সীমান্তে বাড়তি নজরদারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পদ্মার ইলিশ ভারতে, গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে—দ্বিমুখী পাচার রুখতে সীমান্তে বাড়তি নজরদারি
ফাইল ছবি

অবৈধভাবে গরু ও মানুষের সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে অভ্যস্ত ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের এখন চোখ-কান খোলা রাখতে হচ্ছে ইলিশের চোরাচালান ঠেকাতেও। উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে পদ্মার ইলিশ ভারতে এবং গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে পাচার বন্ধ করতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সহায়তা চেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল রোববার বিএসএফের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত সীমান্ত সমন্বয় বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে পদ্মার ইলিশ পাচারের বিষয়টি উত্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে ইলিশের চাহিদা এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ বছর ইলিশের আহরণ কম হওয়ায় চোরাচালানের কারণে মাছটির দাম বেড়েছে।’

ঢাকার নতুন সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দিলেও পাল্টা চিত্র দেখা গেছে নয়াদিল্লির ক্ষেত্রে। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি শুরু করে ভারত। এসব মাছের অধিকাংশই ছিল গুজরাটের ইলিশ। তবে গুজরাটের ইলিশের নিম্নমানের কথা উল্লেখ করে গত সপ্তাহে ভারত থেকে মাছটির আমদানি বন্ধ করে দেয় ঢাকা।

বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে বিজিবি দাবি করেছে, অবৈধ পথে গুজরাটের ইলিশ এখনো বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করছে। বিএসএফের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইলিশের অবৈধ দ্বিমুখী পাচার বন্ধ করতে নদীপথ ও স্থলসীমান্তজুড়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে বিজিবি।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ৫৫৩ টন গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করে দেয় ঢাকা। একই সঙ্গে আমদানিকারকদের দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে, ‘আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করা প্রতিরোধ করা, কম মূল্য দেখিয়ে সম্ভাব্য অর্থপাচার বন্ধ করা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানো।’

বাংলাদেশের কয়েকজন বিক্রেতা গুজরাটের ইলিশকে প্রতারণার মাধ্যমে পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করছিলেন। ভাজার সময় মাছটি ভেঙে টুকরো হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে দৃশ্যত বিস্ময় সৃষ্টি হয়। তাজা পদ্মার ইলিশের বৈশিষ্ট্য হলো, ভাজার সময় মাছটি থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক তেল বের হয়, যা মাছটিকে নিজস্ব তেলেই ভাজতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, গুজরাটের ইলিশে প্রাকৃতিক চর্বির পরিমাণ কম এবং এর গঠন তুলনামূলকভাবে শুষ্ক। ফলে মাছটি সহজেই ভেঙে যায়।

বিএসএফের সূত্র জানিয়েছে, ইলিশ পাচারের ক্ষেত্রে পদ্মা নদীর নেটওয়ার্ক এবং মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলার বিভিন্ন ট্রানজিট পয়েন্টের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে পাচারকারীরা। এসব এলাকার মধ্যে পেট্রাপোলের সমন্বিত চেকপোস্টও রয়েছে।

পাচারকারীরা নিয়মিত মাছ ধরার আড়ালে ছোট ছোট দেশি নৌকা ব্যবহার করে। গোধূলির সময় নদীপথে সীমান্ত পার করে নিয়ে যাওয়া হয় বড় বড় ব্যাগে লুকিয়ে রাখা ইলিশ। স্থলপথে মোটরযন্ত্রাংশের মতো বৈধ পণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক পরিবহনযানগুলো প্রায়ই তল্লাশির মুখে পড়ে। এসব যানবাহনে বৈধ পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ পরিবহন করা হয়।

এদিকে, ইলিশ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শনিবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন বর্ণাঢ্য ইলিশ উৎসবের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ এবং দেশটির সংস্কৃতিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ভারতের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ এতে অংশ নেন। উৎসবে ইলিশের নানা পদ পরিবেশন করা হয়।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইলিশের পাঁচটি অভয়াশ্রম রয়েছে। মাছটির প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর ফলে ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত