
বিমানের টিকিট কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর কাছ থেকে ৩৪ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতারিত ওই ব্যক্তিকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রথমে যোগাযোগ করে চক্রটি। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা নেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পেরেছে, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া টাকা হুন্ডির মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হতো।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি (পিবিআই) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
পিবিআই কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। মামলার বাদী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর এন সায়েম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে টেলিগ্রামের মাধ্যমে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘এয়ারপাস ওয়ার্কিং গ্রুপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। কম দামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানের টিকিট কিনে বেশি দামে বিক্রি করার কথা বলে সেখানে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রস্তাবে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী লাভের বিভিন্ন স্তর বা র্যাঙ্কিংয়ের কথাও বলা হয়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে সায়েম গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগে দেওয়া শুরু করে। পরে মোট মিলিয়ে প্রথমে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫১ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে বিভিন্ন টিকিট, প্রিমিয়াম, ফার্স্ট ক্লাসসহ নানা ধরনের বিমানসংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে তাঁকে আরও অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়।
একপর্যায়ে তিনি বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত চাইলে চক্রটি জানায়, দুই লাখ টাকার বেশি তুলতে হলে উত্তোলনযোগ্য অর্থের ৫০ শতাংশ নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। এই অর্থও দুই ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়। পরে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে তাঁর কাছ থেকে আরও ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকার মতো নেওয়া হয়।
এরপর ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারেন্সসহ নানা অজুহাতে পর্যায়ক্রমে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩৪ লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে সায়েম টাকা উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন তিনি। মামলাটি পর্যালোচনা করে পিবিআই তাঁকে থানায় জিআর মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি রাজধানীর দারুসসালাম থানায় চলতি বছরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সায়েম মামলা করেন। এর পরদিন থেকে পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, মামলাটি দেশ ও দেশের বাইরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ঢাকাসহ খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে খুলনার হরিণটানা থানা এলাকা থেকে মো. মেহেদী হাসান ওরফে সোহাগ (২৭) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরংঘাটা এলাকা থেকে সুমাইয়া খাতুন ওরফে শান্তা (২৪) এবং খালিশপুর এলাকা থেকে আবুল হাসান ওরফে নাঈম (২৪) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ও ডেবিট কার্ড, টাকা লেনদেনের রসিদের কপি, টেলিগ্রাম গ্রুপ ও ভুয়া সদস্যদের তথ্যসংবলিত স্ক্রিনশট, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিবরণী, পাসপোর্টের কপি, কথোপকথনের সিডিআর এবং বিভিন্ন ছবি-ভিডিও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দেশের বাইরে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হতো। কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি চক্র বাংলাদেশিদের ব্যবহার করে দেশে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করত।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় প্রতারণার জন্য একাধিক দল রয়েছে। এসব দলে নারী ও পুরুষ উভয়েই কাজ করেন।
পিবিআই কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, চক্রটি বিভিন্ন সুন্দরী নারীর ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলত। এরপর সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রথমে হাই-হ্যালোসহ সাধারণ কথাবার্তা বলা হতো। তিন দিনের মধ্যে তাদের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর নেওয়ার চেষ্টা করা হতো। পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হতো।
এরপর পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীকে অনলাইন ব্যবসা বা বিনিয়োগে অর্থ দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা হতো। চক্রটির যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্টও থাকত বলে তদন্তে জানা গেছে। সেই স্ক্রিপ্ট অনুসারে পুরুষ সদস্যরা অনেক সময় নারী সেজে মেসেজ পাঠাতেন। ভিডিও কলে কথা বলার সময় নারী সদস্যদের ব্যবহার করা হতো।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, বাংলাদেশেও চক্রটির সদস্যরা ভুয়া ব্যাংক ও আর্থিক হিসাব খুলতে সহায়তা করত। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর তা দ্রুত অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে তুলে নেওয়া হতো। পরে হুন্ডির মাধ্যমে ওই অর্থ কম্বোডিয়ায় পাঠানো হতো বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে অনলাইনে কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান পিবিআই ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পিবিআই বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত সংস্থা। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে পিবিআই কাজ করছে।

সেবার মান না বাড়িয়ে শুধু ভাড়া বাড়ানোর দাবি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো ব্যবসায় প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ না হলে সেই ব্যবসা চালিয়ে যেতেই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যাত্রীদের ওপর চাপ তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।
৫ মিনিট আগে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা কম। ফলে সেখানে রোগে মৃত্যুর ঘটনাও বেশি দেখা যায়। এ কারণে শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া যেতে পারে।
২ ঘণ্টা আগে
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে