Ajker Patrika

অর্থবিলের ভোটে আমিনুল হককে অংশ নিতে নিষেধ করলেন স্পিকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ২২: ৪৬
অর্থবিলের ভোটে আমিনুল হককে অংশ নিতে নিষেধ করলেন স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতীয় সংসদে অর্থবিল, ২০২৬-এর দফাভিত্তিক সংশোধনী নিষ্পত্তির সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে ভোটাভুটিতে অংশ না নিতে বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আমিনুল হক, ইউ ক্যান নট ভোট ফর নাইদার ইয়েস নর নো। কারণ, আপনি দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত নন।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিলের বিভিন্ন দফা ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেওয়ার সময় তাঁর উদ্দেশে স্পিকার এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘আপনি সংসদে থাকলে আরও খুশি হতাম। তবে এসব ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন না অনুগ্রহ করে।’

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেনের কাছে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটে পরাজিত হন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট, অর্থাৎ সংসদ সদস্য নন, এমন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আছেন তিনজন; তাঁদের মধ্যে আমিনুল হক একজন প্রতিমন্ত্রী। অন্য দুজন হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ।

কেন ভোট দিতে পারেন না

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৩ক অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক মন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা দিতে ও এর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তবে তিনি যদি সংসদের সদস্য না হন, তবে ভোট দিতে পারবেন না। এই অনুচ্ছেদে ‘মন্ত্রী’ বলতে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির সংজ্ঞা অংশেও ‘মন্ত্রী’ বলতে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন; কিন্তু তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য না হওয়ায় বিল, সংশোধনী বা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারেন না।

অর্থবিলের দফাভিত্তিক সংশোধনী নিষ্পত্তির সময় স্পিকার একেকটি দফা বা তফসিল আলাদাভাবে সংসদে তোলেন। কার্যপ্রণালির ৮৮ বিধিতে বলা হয়েছে, বিল বিবেচনার জন্য গৃহীত হলে স্পিকার বিলটি বা বিলের কোনো অংশ দফাওয়ারি বা তফসিলওয়ারি সংসদে পেশ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনীগুলোর নিষ্পত্তির পর প্রশ্নটি ভোটে দেবেন।

কার্যপ্রণালির ৯৪ বিধিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের কোরাম-সংক্রান্ত বিধানসাপেক্ষে বিলের কোনো দফা বা তফসিল উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হলে তা বিলের অংশে পরিণত হবে।

সাধারণ ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালির ২৯২ বিধিতে বলা হয়েছে, যে বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তা সদস্যের প্রস্তাব আকারে আসে এবং স্পিকার তা সংসদের ভোটে দেন। ২৯৫ বিধি অনুযায়ী, স্পিকার কণ্ঠভোট, বৈদ্যুতিক পদ্ধতি বা বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে ভোট নিতে পারেন।

২৯৬ বিধিতে কণ্ঠভোটের প্রক্রিয়ায় স্পিকার প্রস্তাবের পক্ষে থাকা সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ ও বিপক্ষে থাকা সদস্যদের ‘না’ বলতে বলবেন বলে উল্লেখ আছে। এই প্রক্রিয়ায়ই অর্থবিলের দফা ও সংশোধনী নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নেওয়া হচ্ছিল। সে সময় আমিনুল হকের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পিকারের নজরে এলে তিনি তাঁকে ভোটে অংশ না নিতে বলেন।

এর আগে আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থবিল, ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তোলেন। জনমত যাচাই প্রস্তাব ও বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনা শেষে দফাভিত্তিক সংশোধনী নিষ্পত্তি শুরু হয়। এ সময় স্পিকার ধারাবাহিকভাবে সংশোধনী প্রস্তাবকারী সদস্যদের নাম ডাকেন এবং প্রতিটি প্রস্তাব গ্রহণ বা বাতিলের জন্য সংসদের মত নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত