
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রথমবারের মতো এ সভার আয়োজন করে।
আইজিপি বলেন, আধুনিক পুলিশিং কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এতে দ্রুত যোগাযোগ, সমন্বয় ও অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি তথ্য বিনিময় ও নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে সহিংস উগ্রবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল জালিয়াতি, মানব পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ডিপফেক ও ভুল তথ্যসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট আন্তর্জাতিক তদন্তে নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, আন্তর্জাতিক তদন্ত ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং অপরাধ দমনে তথ্য বিনিময় ও অংশীদারিভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্রসচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় অবদান রাখছে। তিনি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় কঠিন। তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের পাশাপাশি সাইবার, আর্থিক ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বিদেশি কূটনীতিকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সভায় মানি লন্ডারিং, সাইবার ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

জামুকার কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে আরও জানানো হয়, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তিও অপেক্ষমাণ।
৬ মিনিট আগে
নগরীর ভেতরে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার থেকে রাজধানীসহ তিন শহরে চালু হলো বিআরটিসির বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। গোলাপি রঙের কারণে এ বাসসেবাকে বলা হচ্ছে ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। এর চালক ও কন্ডাক্টর উভয়েই নারী। শুরুতে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রাম মহানগর...
৩৩ মিনিট আগে
সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করতে চায়, সরকার তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্য
১ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে আমাদের প্রিয় দেশকে ‘রেইনবো নেশনে’ রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরে প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে যদি আদিবাসী জনগোষ্ঠী না-ই থেকে থাকে তাহলে তারা রেইনবো নেশন গড়ার অঙ্গীকার করেছেন কি উদ্দেশ্যে?
২ ঘণ্টা আগে