মানুষ জ্বর না হলেও যে ‘জ্বরে কাঁপে’, তার নাম বিশ্বকাপ ফুটবল। খুব সম্ভবত, পৃথিবীর সবচেয়ে গোমড়া মুখের মানুষটির মনেও কখনো কখনো দোলা দিয়ে যায় বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। যাঁরা মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পাননি, কিংবা খেলাটির প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ না থাকলেও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ আছে, বিশ্বকাপের এই উত্তাল সময়ে তাঁরা ঘুরে আসতে পারেন ব্রিটিশ মিউজিয়াম। কেন? বলছি সে কথা।
আজকের ফুটবল অনেক শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিয়মবদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগের খেলা। একই সঙ্গে এই মহাযজ্ঞ নিজেই এক মহাবাণিজ্য বটে। ফুটবল খেলা শত শত বছরের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের পরিশীলিত জায়গায় এসে উপস্থিত হয়েছে। ফলে সাধারণভাবে প্রশ্ন আসে, তাহলে কেমন ছিল এই খেলার অতীত? আরে হ্যাঁ, সেটা জানার জন্যই তো আপনি যাবেন জাদুঘরে। তা-ও আবার বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে।
আধুনিক ফুটবলের জন্মের বহু আগে ইংল্যান্ডের শহর ও গ্রামগুলোতে অনুষ্ঠিত হতো কখনো বিশৃঙ্খল, কখনো সহিংস, আবার কখনো উৎসবমুখর এক খেলা। নাম ছিল ‘মব ফুটবল’। না, এই খেলা যাঁরা খেলতেন, তাঁরা নামটি দেননি। নাম দিয়েছেন আধুনিক গবেষকেরা। এ ধরনের ফুটবল খেলার এক প্রাচীন এবং বিরল চিত্র নিদর্শন সংরক্ষিত আছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে— যেটিকে এ খেলার ইতিহাস গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।
মধ্যযুগীয় ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, মব ফুটবল ছিল জনসাধারণের উৎসবের অংশ। এটি ছিল শত শত মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক বিশৃঙ্খল, প্রায় নিয়মহীন এবং প্রায়ই সহিংস হয়ে ওঠা খেলা। দুই গ্রামের কিংবা দুই পাড়ার শত শত মানুষ একটি চামড়ার বল বা পশুর মূত্রথলি দিয়ে তৈরি বল নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামত। খেলার মাঠ বলতে ছিল পুরো শহর অথবা গ্রামের রাস্তাঘাট। লক্ষ্য ছিল বলটিকে প্রতিপক্ষের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া। খেলাটিতে খেলোয়াড়ের সংখ্যা, সময়সীমা কিংবা স্পষ্ট নিয়ম ছিল না।
জানিয়ে রাখা জরুরি, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত যে চিত্র নিয়ে গবেষকেরা আলোচনা করেন, সেটি মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপির অলংকরণ। সেখানে ধারাবাহিক তিনটি দৃশ্যে একদল মানুষকে একটি বড় চামড়ার বল নিয়ে লড়াই করতে দেখা যায়। বলটির গায়ে সেলাইয়ের দাগ স্পষ্ট, যা প্রমাণ করে, এটি চামড়া দিয়ে তৈরি ছিল। শেষ দৃশ্যে একজন ব্যক্তিকে আহত বা হাত ভাঙা অবস্থায় দেখানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গবেষকদের মতে, এই চিত্র শুধু খেলার দৃশ্য নয়; বরং মব ফুটবলের সহিংস ও ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রও তুলে ধরে।
মব ফুটবল এতটাই উচ্ছৃঙ্খলতায় পূর্ণ ছিল যে ইংল্যান্ডের রাজারা একাধিকবার এটি নিষিদ্ধের চেষ্টা করেন। ১৩১৪ সালে রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড লন্ডনে ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ করেন। পরে তৃতীয় এডওয়ার্ড এবং অন্য শাসকেরাও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এই খেলা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করে এবং মানুষের মধ্যে সহিংসতা উসকে দেয়।
মব ফুটবলের চিত্রটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত। এটি এই জাদুঘরের ব্রিটেন, ইউরোপ অ্যান্ড প্রিহিস্ট্রি বিভাগের সংগ্রহভুক্ত মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল-সম্পর্কিত চিত্র। তবে এই বিভাগের প্রদর্শনী মূলত ৩৮ থেকে ৫১ নম্বর গ্যালারিতে বিস্তৃত।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সেই ছোট্ট চিত্র নিদর্শন ফুটবলের শৈশবের দলিল। এখনকার আধুনিক স্টেডিয়ামে মেসি-এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়েরা যখন আলো ছড়াচ্ছেন, তখন এই গল্প শোনা বেশ আশ্চর্যের ঘটনাই মনে হবে যে একটি বল ঘিরে একদা পুরো একটি শহর উত্তাল হয়ে উঠত!
মধ্যযুগীয় ফুটবলের দৃশ্যচিত্র খুবই বিরল। বর্তমানে যে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য চিত্র ইতিহাসবিদদের হাতে আছে, সেগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের এই চিত্র অন্যতম। এতে দেখা যায়, খেলোয়াড়দের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়, মাঠের সীমানা নেই আর বল দখলের জন্য প্রায় সব ধরনের শারীরিক সংঘর্ষ অনুমোদিত। এমনকি ঐতিহাসিক দলিলে খেলায় আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ আছে।
এ কারণেই ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মব ফুটবল-চিত্রটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়; এটি আধুনিক ফুটবলের জন্মের আগের সামাজিক ইতিহাসের এক বিরল দলিল। ছবিটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আজকের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফুটবল একসময় ছিল গ্রামের রাস্তা, খোলা মাঠ আর জনপদের বিশৃঙ্খল জনসমাবেশের খেলা। মব ফুটবল পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে আজও ঐতিহ্যবাহী শোভটাইড বা ‘বা’ গেমের মাধ্যমে এর উত্তরাধিকার টিকে আছে। তবে এসব খেলা আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে সরাসরি মিল না থাকলেও ফুটবলের বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফুটবল বিশ্বকাপের মজাটা এখানেই। এই আসর শুরু হলে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অর্জন, কোনো একটি দেশের অর্জন যেমন আলোচনায় উঠে আসে, তেমনি উঠে আসে এর অতীতের অসাধারণ সব গল্প। মব ফুটবলও সে রকমই আধুনিক ফুটবলের এক অজানা অধ্যায়।

ঈদে ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামের বাড়ি কিংবা নিজেদের শহরে ফেরার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা প্লেনে চলেছে মানুষ নাড়ির টানে। ঈদে যেখান থেকেই বাড়ি যান না কেন, কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। শেষ করে যেতে হবে কিছু জরুরি কাজ।
৩০ মিনিট আগে
চলতি বছরের শুরুতে অ্যান্টার্কটিকা অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। এবার উত্তর মেরুর হাই আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে নতুন এক রোমাঞ্চকর অভিযানে নেমেছেন বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালাহউদ্দিন সুমন নামে বিখ্যাত আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। সঙ্গে রয়েছেন ভ্রমণবিষয়ক লেখক ও উদ্যোক্তা নিলয় কুমার বিশ্বাস।
৩ ঘণ্টা আগে
পথ চলতে চলতে ফেনীর নিজকুঞ্জরা গ্রামে বন্ধু রাশেদের পরিত্যক্ত বাড়িতে এসে থামতে হলো। পূর্বঘোষিত ডিনার সেখানে শেষ করতে হলো। এরপর ভরা চান্দের মিঠা মিঠা আলোয় ভাইরাল গায়ক হুমায়ূন সরকারের সঙ্গে আমাদের আড্ডা চলল রাত ১১টা পর্যন্ত। তারপর গাড়ি স্টার্ট নিল গন্তব্যের উদ্দেশে।
৪ ঘণ্টা আগে
একা একা ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ একেবারেই ভিন্ন। ইদানীং নারীরা একা ভ্রমণ করছেন বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে। সম্প্রতি ট্যুর বুকিং প্ল্যাটফর্ম গুরুওয়াক সলো ট্রাভেলারদের জন্য উপযুক্ত শহরগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে।
৫ ঘণ্টা আগে