নিমস দাইয়ের শেষবারের ফেসবুক পোস্টটি হয়তো পৃথিবীর অনেক পর্বতারোহীর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে অনন্তকাল। পাহাড় কখনো জয় করা যায় না। আর সেটা তিনি জানতেন বলেই হয়তো পৃথিবীর ১২তম উঁচু পর্বত ব্রড পিকের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘আমাকে শুধু একটা নিরাপদ প্যাসেজ দিয়ো, যেটা দিয়ে চূড়ায় উঠে আবার নিরাপদে আমি নিচে নেমে আসব।’ ব্রড পিক সেই প্রার্থনায় সাড়া না দিয়ে নিজের শুভ্র কোলে অনন্তকালের জন্য আশ্রয় দিয়েছেন নির্মল পুর্জা ওরফে নিমস দাইকে।
পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তি, গিয়ার্স, নিরাপদ পোশাক কিংবা শক্ত ক্লাইম্বিং রোপ—সবকিছুই পাহাড়ের কাছে তুচ্ছ। সেরা মাউন্টেনিয়ার ও শেরপাদেরও তার কাছে হার মানতে হয়, হারিয়ে যেতে হয়। গত ৩১ জুলাই সে রকমই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল পাকিস্তানের কারাকোরাম রেঞ্জের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার শৃঙ্গ ব্রড পিকে। তুষারধসে হারিয়ে গেলেন নিমস দাইসহ ওয়ার্ল্ড মাউন্টেনিয়ার কমিউনিটির ১০টি তাজা প্রাণ। তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন নিজ নিজ অর্জন, কর্মদক্ষতা আর অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ এক-একটি অনুপ্রেরণা।
নিমস দাই হিসেবে পরিচিত নির্মল পূর্জা ছিলেন কিংবদন্তি নেপালি ক্লাইম্বার, গাইড এবং শেরপাদের নেতা। সাবেক ব্রিটিশ আর্মির এই সদস্য জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৮৩ সালের ২৫ জুলাই।
পাহাড় ছিল তাঁর ঘর আর খেলার মাঠ।
তিনি তাঁর শেষ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমার প্রতিযোগিতাটা ছিল আজীবন আমার নিজের সঙ্গে। নিজের সীমাবদ্ধতা প্রতিদিন আরেকটু বাড়িয়ে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্যই একেকটি পর্বতে আরোহণ করি। তাই সব সময় নিজের সঙ্গে এই যুদ্ধে আমি আশপাশে অন্য কাউকে অনুসরণ করিনি, তাতে পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় প্রবল।’
পৃথিবীর সব কটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় উঠেছিলেন নিমস দাই। সেই তিনিই বলেছিলেন, ‘কোনো পাহাড়কেই আমি হালকাভাবে নিইনি, একটিও না। ঠিক যে মুহূর্তে বেসক্যাম্প থেকে আমার অভিযানের প্রথম কদম ফেলেছি, সেই মুহূর্ত থেকে পাহাড়ের প্রতি বিনয়ী ও অনুগত।’
পাহাড়ের প্রতি সীমাহীন আগ্রহ, ভালোবাসা অতিমানবীয় শারীরিক সক্ষমতা আর ইতিবাচক মানসিকতা দিয়ে এত ‘অসম্ভব’ অভিযান করে গেছেন নিমস দাই। তাই তাঁকে পৃথিবীর ‘গ্রেটেস্ট মাউন্টেনিয়ার’দের অন্যতম বিবেচনা করা হয়। তাঁর অনন্য রেকর্ডগুলোই তার সাক্ষ্য দেয়।
পৃথিবীতে ৮ হাজার মিটারের বেশি উঁচু পর্বত আছে ১৪টি। ২০১৯ সালে নিমস দাই সেসব পর্বতের চূড়ায় উঠেছিলেন সবচেয়ে কম সময়ে, মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে। নেটফ্লিক্স তাঁর এই অবিশ্বাস্য গতিময় সামিট ডকুমেন্ট করে; যার নাম ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল!’
এর আগের এই রেকর্ড ছিল ইতালিয়ান মাউন্টেনিয়ার রেইনহোল্ড মেসনারের ৭ বছর ১১ মাস এবং জেরজি কুকুজকা ৮ বছর। তবে বলে রাখা ভালো, ২০২৩ সালে নিমস দাইয়ের ৬ মাস ৬ দিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করেন নওরোজিয়ান মাউন্টেনিয়ার ক্রিস্টিন হারলিয়া এবং নেপালের তেনজেন শেরপা। তাঁরা মাত্র ৯২ দিনে ১৪টি পিক সামিট সম্পন্ন করেন।
২০২৪ সালে নিমস দাই নিজের রেকর্ড ভেঙে আবারও সব ৮ হাজার মিটার পর্বত সামিট শুরু করেন অক্সিজেন ছাড়া। তারই অংশ হিসেবে তিনি গ্যাশারব্রাম ২ সামিট করে নেমে আসার সময় ব্রড পিক সামিটে গিয়েছিলেন। ১৩টি সামিট সম্পন্ন হয়েছিল, শুধু ১টি বাকি ছিল।
জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নিমস দাই পৃথিবীতে একমাত্র মানুষ ছিলেন, যিনি ৫৭ বার ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত সামিট করে সফলভাবে নেমে এসেছিলেন। এই ৫৭ বারের মধ্যে ২৯ বার সামিট ছিল অক্সিজেন ছাড়া।
জানুয়ারি ২০২১ সালে নিমস দাইয়ের নেতৃত্বে নেপালি একটি দল শীতকালে কে-টু সামিট করেন। পাকিস্তানের এই একমাত্র আট হাজারি পর্বতে পৃথিবীর কোনো এলিট মাউন্টেনিয়ার শীতকালে সামিট করার কথা ভাবেননি। কে-টু পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্বতগুলোর একটি। ক্লাইম্বিং সিজনে এতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। ২০২১ সালের শীতে তাঁরা কয়েকজন শেরপা পাশাপাশি হাত ধরে নেপালের জাতীয় সংগীত গাইতে গাইতে কে-টু সামিট করেছিলেন।
নিমস দাই ও তাঁর টিম এলিট এক্সপ্যাড একটি অকল্পনীয় রেকর্ড করেছিলেন। তাঁরা এভারেস্ট সামিট করে সেখান থেকে নেমে সরাসরি লোৎসে এবং মাকালু—এই তিন সর্বোচ্চ উচ্চতার পর্বত সামিট করেন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়! এ ছাড়া পৃথিবীর পাঁচটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট, কে-টু, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে এবং মাকালু জয় করেন মাত্র ৭০ দিনে।
পর্বত আরোহণ পৃথিবীর অন্যতম কষ্টসাধ্য অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। পাহাড়সম দৃঢ় মানসিকতা, শারীরিক শক্তি, দক্ষতা, বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ, প্র্যাকটিস, বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং অসমসাহস না থাকলে পর্বতারোহণের যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। পর্বতারোহণের প্রতিটি পদক্ষেপে আছে মৃত্যুর হাতছানি, একাকিত্ব সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির কৃপায় পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছানোর তাড়া। নিমস দাই সেই এক্সট্রিম স্পোর্টসের বৈশ্বিক অ্যাম্বাসেডর।
তবে সব দুঃসাহস আর স্বপ্নের কিছু মূল্য আছে। সুউচ্চ পাহাড়ের মতোই সেই মূল্যটাও কিন্তু অনেক চড়া। এই পাহাড়কে ভালোবেসে অনন্তকালের জন্য পাহাড়েই রয়ে গেছেন বহু কিংবদন্তি।
জর্জ ম্যালরি থেকে রব হল, আমাদের সজল খালেদ থেকে নেপালের নির্মল পুর্জা অর্থাৎ নিমস দাই—সবাই হারিয়ে গেছেন পর্বতের সেই বিশাল ক্যানভাসে। পাহাড় দেশ, ধর্ম, বর্ণ দেখে না। দেখে না তার রিজে নিমস দাই চড়লেন, নাকি জর্জ ম্যালরি। তাই পাহাড়ের সামনে নতজানু আমরা, নিতান্তই ক্ষুদ্র।
তারপরেও মানুষ কেন এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে চড়েন? জর্জ ম্যালরি এর উত্তরে বলেছিলেন, ‘বিকজ ইট ইজ দেয়ার’। আর নিমস দাই বলে যান ‘গিভিং আপ ইজ নট ইন মাই ব্ল্যাড স্যার, নট ইন মাই ব্ল্যাড।’
নিমসের অনন্য অসাধারণ সফল অভিযানগুলো ভবিষ্যতে পৃথিবীর সব পর্বতারোহণকারীর চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে। নিমস দাই তাই হার মানেননি। ‘দ্য সন অব দ্য মাউন্টেইন’ তাই ব্রড পিকের শুভ্র পাহাড়েই রয়ে গেলেন অসীমের অভিযানে।

রোমান্টিক গলির মুখ, নায়িকার ব্যবহার করা লিপস্টিকের শেড কিংবা রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা স্পাইসি রাইস কেক খাওয়ার দৃশ্য হরহামেশা দেখানো হয় কে-ড্রামায়। স্ক্রিনের এই রঙিন জীবনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের মুগ্ধতা বিশ্বজুড়ে। এই রঙিন জীবন এখন আর শুধু নাটক কিংবা সিনেমার চিত্রনাট্যে...
২ ঘণ্টা আগে
বৈশ্বিক ভ্রমণ সংস্থা ওপোডোর চলতি বছরের জরিপ অনুযায়ী, একা বিশ্ব ভ্রমণের প্রধান কারণ হলো পূর্ণ স্বাধীনতা। জরিপে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজের ইচ্ছেমতো দিন কাটানো এবং নিজস্ব গতিতে অচেনা পথ খোঁজার স্বাধীনতাই তাঁদের একলা চলায় উৎসাহিত করছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের সময় ব্যাগের ওজন কমাতে কম পোশাক নিয়ে যাওয়া এবং তা সঠিক নিয়মে ধুয়ে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। ভ্রমণ পথে কাপড় ধোয়ার জন্য প্রধানত সিঙ্ক ও বাথটাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে তার জন্য কিছু কৌশল মেনে চলা ভালো।
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে সাইকেলে দুই বছরের অভিযানে বেরিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর বয়সী মাতিলদা পাইন। কিন্তু তুরস্কে একটি ‘মজার বিদায়ের ছবি’ তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পিঠের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ায় আপাতত থেমে গেছে তাঁর সেই যাত্রা।
১৩ ঘণ্টা আগে