Ajker Patrika

ভারতে শেখ হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০০: ৩৭
ভারতে শেখ হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়া এবং সেখানে বাংলাদেশ ও এর জনগণের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও বিষোদগারমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের ঐতিহাসিক এই দিনে ভারতের মাটিতে বসে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার এমন কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অপমান হিসেবে দেখছে সরকার ও দেশের জনগণ।

আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু আগাম বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি এই প্রকাশ্য আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের মাধ্যমে শিশুসহ অগণিত নির্দোষ নাগরিককে নৃসংশভাবে হত্যার যে সত্য জাতিসংঘ ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছে—তা অস্বীকার করার এক ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই পলাতক গণহত্যাকারী ও তাঁর অপরাধী চক্র। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো করছে।

জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদের জনগণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, বাংলাদেশ আর কখনোই ফ্যাসিবাদের সেই অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই কোনো দেশের অনুগত বা আশ্রিত রাজ্য হবে না। গণহত্যাকারী হাসিনা ও তাঁর মাফিয়া চক্রের ঠাঁই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো দিন হবে না।

বাংলাদেশ সব সময়ই সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা ও জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিক সুবিধাজনক এবং সুদূরপ্রসারী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ বারবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সেই অনুরোধের কোনো উত্তর দেয়নি।

উল্টো যেকোনো বাহানায় তাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের মানুষের আবেগে গভীর আঘাত হেনেছে। ভারতের এই ভূমিকা দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বাধা হিসেবে কাজ করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত