
হলিউডের ইতিহাসে চিরসবুজ সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়—অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর মোহনীয় চাহনি আর গ্লোয়ি ত্বকের কারণে এ বয়সেও বিশ্বজুড়ে লাখো তরুণের হৃৎস্পন্দন হয়ে রয়েছেন তিনি। পঞ্চাশের কোঠায় পা দিয়েও তাঁর ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিক আগের মতোই অটুট। অনেকেই ভাবেন, এই সৌন্দর্যের পেছনে হয়তো দামি প্রসাধনী বা প্লাস্টিক সার্জারির অবদান রয়েছে। তবে সত্যিটা হলো, জোলি তাঁর ত্বকের যত্নে খুবই সাধারণ ও প্রাকৃতিক নিয়মে বিশ্বাস করেন। আজকের আয়োজনে থাকছে হলিউড এই সুন্দরীর ‘এজ-ডিফাইং’ বা বয়স ধরে রাখার রহস্য।
অল্প বয়সেই রূপচর্চায় সচেতনতা
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রানা এক সাক্ষাৎকারে জানান, অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর একেবারে প্রথম দিক থেকেই জোলি তাঁর ত্বকের যত্নে সচেতন হয়েছিলেন। তিনি জানতেন, দীর্ঘ সময় সুস্থ ও সুন্দর ত্বক ধরে রাখতে হলে নিয়ম মেনে চলা জরুরি। উত্তরাধিকার সূত্রে জোলি অলিভ স্কিন বা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের অধিকারী। তাই খুব বেশি কৃত্রিম প্রসাধনী তাঁকে কখনোই ব্যবহার করতে হয়নি।
জোলির রূপচর্চার প্রধান দিক
সানস্ক্রিন ও মাইল্ড ক্লিনজার
জোলির মতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার বড় হাতিয়ার হলো সানস্ক্রিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ তৈরির প্রধান কারণ। এ ছাড়া তিনি ত্বক পরিষ্কার করতে কোনো ধরনের কড়া ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন না। তিনি সব সময় মাইল্ড বা মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করেন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নেয় না। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিডের মতো প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত প্রসাধনী তাঁর ত্বকের টেক্সচার ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
ভ্রমণের সময় বিশেষ যত্ন
শুটিং বা ভ্রমণের কারণে জোলিকে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হয়। তবে আবহাওয়া যতই প্রতিকূল হোক না কেন, তিনি কখনোই স্কিন কেয়ারে অবহেলা করেন না। জোলি সব সময় তাঁর সঙ্গে সানস্ক্রিন রাখেন এবং বাইরের ধুলাবালু থেকে বাঁচতে টুপি ব্যবহার করেন। সূর্যের আলো যেন সরাসরি ত্বকের ক্ষতি করতে না পারে, এটিই তাঁর মূলমন্ত্র।
আর্দ্রতা ও ময়শ্চারাইজিং
ত্বক সতেজ রাখতে জোলি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ত্বকে দ্রুত বলিরেখা সৃষ্টি করে। নিয়মিত ভালো মানের ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি তাঁর ত্বকের আর্দ্রতা নিশ্চিত করেন। তাঁর মতে, ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র রাখলে তবেই বাইরে থেকে উজ্জ্বলতা পাওয়া সম্ভব।
মেকআপের পরিমিত ব্যবহার
জোলি শুটিং বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া খুব বেশি মেকআপ করা পছন্দ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, ত্বককে নিশ্বাস নিতে দেওয়া জরুরি। ভারী ফাউন্ডেশনের আড়ালে ত্বক ঢেকে না রেখে; বরং প্রাকৃতিক রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া তিনি দিন শেষে যতই ক্লান্তি বোধ করুন না কেন, মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যান না। এই অভ্যাসটি ব্রণ ও অকাল বার্ধক্য থেকে তাঁর ত্বক রক্ষা করে।
প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে জোলির অবস্থান
অনেকে মনে করেন, তাঁর এই তন্বী রূপের পেছনে সার্জারির হাত রয়েছে। তবে ২০১০ সালে ‘ডেইলি মেইল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি সরাসরি জানান, তিনি কখনোই প্লাস্টিক সার্জারি করাননি এবং ভবিষ্যতেও এমন কিছু করার পরিকল্পনা নেই। তিনি মনে করেন, প্রতিটি মানুষের নিজের মতো করে ভালো থাকার অধিকার আছে। তবে তিনি নিজে প্রাকৃতিকভাবেই বয়সকে জয় করতে চান।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ত্বকের এই সাধারণ যত্ন প্রমাণ করে, উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য পকেটের টাকা খরচ করে দামি ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ত্বক পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পরিমিত মেকআপেই সম্ভব ৫০ বছর বয়সেও জোলির মতো নজরকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী হওয়া।
সূত্র: পিংকভিলা ও অন্যান্য

ভ্রমণজগৎ ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিংয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালের ‘সেরা ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ডিজিটাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আবু মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। তিনি দর্শকদের কাছে সালাহউদ্দিন সুমন নামে পরিচিত। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে...
৫ ঘণ্টা আগে
কাঁচা আম দিয়ে আচার তৈরি হয়। যাঁদের বাড়িতে আচার তৈরি হয় না কিন্তু প্রায়ই টক-ঝাল-মিষ্টি কিছু খেতে মন চায়, তাঁরা কী করবেন? সহজ উপায়ে নাড়ু তৈরি করে সংরক্ষণ করুন। যখন মন চাইবে, টপ করে মুখে পুরে নিন। আপনাদের জন্য কাঁচা আমের টক-ঝাল-মিষ্টি নাড়ুর রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা...
৯ ঘণ্টা আগে
একটি বানর যখন গাছে চলাফেরা করে, সে কিন্তু বর্তমানের ডালটি ছেড়ে দেওয়ার আগেই অন্য হাত দিয়ে পরের ডালটি শক্ত করে ধরে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ঠিক এমন একটি প্রবণতা দেখা যায়। যাকে মনস্তত্ত্বের ভাষায় বলা হচ্ছে মাঙ্কি ব্রাঞ্চিং। সহজ কথায়, বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই নিজের একাকিত্ব দূর করতে অন্য....
১৫ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার মেজাজ থাকবে ফুটন্ত প্রেশার কুকারের মতো, যার সিটি যেকোনো সময় বাজতে পারে। অফিসে বসের সাধারণ কোনো প্রশ্নে ‘চাকরি ছেড়ে দেব’ টাইপ ভাব আনবেন না। মনে রাখবেন— মাসের মাঝপথে আপনার মানিব্যাগের যা কঙ্কালসার অবস্থা হয়, তাতে পদত্যাগ করলে পরের দিন থেকে ডাস্টবিনের বিড়ালও আপনার দিকে করুণার দৃষ্টিতে...
১৬ ঘণ্টা আগে