Ajker Patrika

ঘুমের সময় চুল পড়া কমাবে যে ৭টি অভ্যাস

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
ঘুমের সময় চুল পড়া কমাবে যে ৭টি অভ্যাস
রাতকে শুধু বিশ্রামের সময় হিসেবে না দেখে চুলের যত্নের একটি অংশ হিসেবে ভাবা যায়। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ঘুমের এই সময়টুকুতে চুলের কিছু বিশেষ যত্ন নেওয়া যায়। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

সকালে ঘুম ভাঙার পর বালিশে ছড়িয়ে থাকা কয়েক গোছা চুল কখনো কখনো দিনের শুরুতে মনে করিয়ে দেয়, চুলের যত্ন শুধু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে করার বিষয় নয়। ঘুমের সময়টুকুও তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক। তবে সেই ঝরার পরিমাণ যদি বাড়তে থাকে, তখন শুধু শ্যাম্পু, তেল কিংবা খাবারের তালিকার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না, নিজের রাতের অভ্যাসগুলোর দিকেও একটু মনোযোগ দরকার। চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি বা মানসিক চাপের মতো নানা কারণ কাজ করতে পারে। পাশাপাশি ঘুমের সময় বালিশের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণ, ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো, শক্ত করে চুল বেঁধে রাখা বা পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তাই রাতকে শুধু বিশ্রামের সময় হিসেবে না দেখে চুলের যত্নের একটি অংশ হিসেবে ভাবা যায়। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ঘুমের এই সময়টুকুতে চুলের কিছু বিশেষ যত্ন নেওয়া যায়।

সিল্ক বা সাটিনের কভার ব্যবহার করুন

ঘুমের মধ্যে আমরা বারবার পাশ ফিরি। ফলে চুল ও বালিশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ঘর্ষণ হয়। তুলার কাপড় তুলনামূলকভাবে বেশি রুক্ষ এবং আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়। এতে চুলের ওপর যান্ত্রিক চাপ তৈরি হয়ে চুল ভেঙে যেতে পারে। সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কভার মসৃণ হওয়ায় চুল সহজে পিছলে যেতে পারে। ফলে ঘর্ষণ ও জট কমানোর পাশাপাশি চুলের ভাঙন কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।

ঘুমানোর আগে চুল পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া ভালো। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস
ঘুমানোর আগে চুল পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া ভালো। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ভেজা চুল নিয়ে ঘুমাবেন না

গোসলের পর চুল শুকানোর আগেই বিছানায় চলে যাওয়া অনেকের অভ্যাস। কিন্তু ভেজা অবস্থায় চুল তুলনামূলক দুর্বল থাকে। পানিতে চুলের শ্যাফট ফুলে যায় এবং তখন সহজে টান লেগে বা ঘর্ষণে চুল ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকলে মাথার ত্বকে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে চুল পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দিন কিংবা কম তাপমাত্রায় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

শক্ত করে চুল বাঁধবেন না

ঘুমানোর সময় শক্ত পনিটেইল, খোঁপা বা শক্ত করে বেণি বাঁধলে চুলের গোড়ায় দীর্ঘ সময় টান পড়ে। নিয়মিত এমন করলে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যেতে পারে। ঘুমানোর সময় চুল খোলা রাখতে অস্বস্তি হলে ঢিলেঢালা বেণি বা নিচু করে আলগা পনিটেইল করতে পারেন।

ঘুমানোর আগে হালকা করে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করতে পারেন

ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করা আরামদায়ক। হালকা ম্যাসাজ মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ম্যাসাজের সময় জোরে চুল টানা বা নখ দিয়ে মাথার ত্বক ঘষা উচিত নয়। এতে চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে চাপ পড়তে পারে।

মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হতে দেবেন না

শুষ্ক পরিবেশে মাথার ত্বকও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় এসি চালিয়ে ঘুমালে কারও কারও মাথার ত্বকে শুষ্কতা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। প্রয়োজনে ঘরের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ভারী পণ্য বা যেকোনো সেরাম ব্যবহার করার আগে নিজের চুল ও মাথার ত্বকের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

রাতে চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না

চুলের যত্নে সেরাম বা অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রাতে একসঙ্গে অনেক ধরনের পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সেরাম ব্যবহার চুলের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকে গুরুত্ব দিন

শুধু বালিশের কভার বদলালেই চুলের যত্ন সম্পূর্ণ হয় না। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি বা অনিয়মিত ঘুম শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, যা চুলের বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং সম্ভব হলে ঘুম ও জাগার সময়টাও নিয়মিত রাখুন।

সূত্র: হেলথশটস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত