ফিচার ডেস্ক

অবসরের কথা ভাবলেই একধরনের নিশ্চিন্ত জীবনের ছবি ভেসে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে এ চিত্র ক্রমেই ভিন্ন হয়ে উঠছে। সেখানে অনেক মানুষই অবসর নিতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তাঁদের আশঙ্কা, জীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে হয়তো টাকাই ফুরিয়ে যাবে।
জিম ও তাঁর স্ত্রী হেলেনের গল্পই ধরুন। বয়স ৬০-এর কোঠায়। তাঁদের হাতে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সম্পদ, কোনো ঋণ নেই। তবু তাঁরা অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। কারণ তাঁদের ভয়, আগামী ৩০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ও চিকিৎসা ব্যয় ধীরে ধীরে এই সম্পদ গ্রাস করে ফেলবে।
হিসাবের খাতায় ভয়
চাকরি হারানোর আগে ৬১ বছর বয়সে জিম ও হেলেনের যৌথ আয় ছিল বছরে প্রায় ৩ লাখ ডলার। অবসর নিয়ে হিসাব কষতে গিয়ে জিম দেখেন, যদি তাঁরা আরও ৩০ বছর বাঁচেন, তাহলে ১৫ লাখ ডলার ভাগ করলে বছরে গড়ে আসে মাত্র ৫০ হাজার ডলারের একটু বেশি। অনেকে অবসর পরিকল্পনায় ‘৪ শতাংশ নিয়ম’ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ অবসরের প্রথম বছরে সঞ্চয়ের ৪ শতাংশ খরচ করা যাবে, পরের বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খরচ বাড়ানো যাবে। তাহলে টাকা প্রায় ৩০ বছর চলবে। এই হিসাবে জিমের হাতে বছরে থাকবে আনুমানিক ৬০ হাজার ডলার। সমস্যা হলো এটি তাঁদের নিয়মিত আয়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম। বাড়ি ভাড়া, বিমা, স্বাস্থ্যসেবা সবকিছুর খরচ যখন লাগামছাড়া, তখন এই অঙ্কে জীবন চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক।
এই ভয় শুধু জিমের নয়
জিম একা নন। সম্প্রতি আরেক দম্পতি একটি অর্থবিষয়ক পরামর্শ কলামে চিঠি লিখেছেন, তাঁদের বয়স ৫২ বছর। সম্পদের পরিমাণ শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। বিনিয়োগে ৪৪ লাখ ডলার, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, স্থাবর সম্পত্তি ১১ লাখ ডলার, আর একটি ব্যবসার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও স্বামীর মনে হচ্ছে টাকা ফুরিয়ে যেতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, শুধু বিনিয়োগ থেকেই তাঁরা বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ডলার আয় করতে পারেন, মূলধন ছোঁয়া ছাড়াই। তবু মেডিকেয়ার কভারেজ পাওয়ার আগের চিকিৎসা ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তাঁদের কাজ ছাড়তে দিচ্ছে না।
বদলে যাওয়া অবসর বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একবিংশ শতাব্দীর অবসরের নতুন বাস্তবতা। গবেষণা অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের তুলনায় এখন আমেরিকানরা গড়ে ৩ বছর দেরিতে অবসর নিচ্ছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ এখনো কাজ করছেন, যা ৩০ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ। এর বড় কারণ, মানুষ এখন বেশি দিন বাঁচছে। ৬৫ বছর বয়সী আমেরিকান নারীরা গড়ে আরও ২০ বছর, আর পুরুষেরা প্রায় সাড়ে ১৭ বছর বাঁচবেন বলে ধারণা করা হয়।
মিলিয়ন ডলারও যথেষ্ট নয়
জিম ও হেলেনের ক্ষেত্রে, যদি তাঁরা ৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন, তাহলে ১৫ লাখ ডলার দিয়ে প্রায় ৩০ বছর চলতে হবে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা বা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি হলে তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমে যাবে। এমনকি ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ার শুরু হলেও, সব চিকিৎসা খরচ এতে ধরা পড়ে না। তবু বাস্তবতা হলো, তাঁরা গড় আমেরিকানের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের গড় অবসর সঞ্চয় মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৬০ বছর বয়সে একজন মানুষের সঞ্চয় হওয়া উচিত তাঁর বার্ষিক আয়ের ৮ থেকে ১০ গুণ। সেই হিসাবে জিমের আদর্শ সঞ্চয় হওয়া দরকার ছিল ২৪ থেকে ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ মিলিয়ন ডলার থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মার্কিন আর্থিক উপদেষ্টা ডেভিড রে মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি পরিকল্পনার অভাব। তিনি তিনটি পরামর্শ দেন—
প্রথমত, অবসরের জন্য খুঁটিনাটি বাজেট তৈরি করা জরুরি, যেখানে চিকিৎসা ও ভ্রমণের মতো খরচ থাকবে।
দ্বিতীয়ত, পুরোপুরি কাজ ছেড়ে না দিয়ে খণ্ডকালীন কাজ বা পরামর্শমূলক পেশা চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে আয় যেমন থাকে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগও বজায় থাকে।
তৃতীয়ত, দম্পতিরা একসঙ্গে অবসর না নিয়ে ধাপে ধাপে অবসর নিতে পারেন।
সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স

অবসরের কথা ভাবলেই একধরনের নিশ্চিন্ত জীবনের ছবি ভেসে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে এ চিত্র ক্রমেই ভিন্ন হয়ে উঠছে। সেখানে অনেক মানুষই অবসর নিতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তাঁদের আশঙ্কা, জীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে হয়তো টাকাই ফুরিয়ে যাবে।
জিম ও তাঁর স্ত্রী হেলেনের গল্পই ধরুন। বয়স ৬০-এর কোঠায়। তাঁদের হাতে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সম্পদ, কোনো ঋণ নেই। তবু তাঁরা অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। কারণ তাঁদের ভয়, আগামী ৩০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ও চিকিৎসা ব্যয় ধীরে ধীরে এই সম্পদ গ্রাস করে ফেলবে।
হিসাবের খাতায় ভয়
চাকরি হারানোর আগে ৬১ বছর বয়সে জিম ও হেলেনের যৌথ আয় ছিল বছরে প্রায় ৩ লাখ ডলার। অবসর নিয়ে হিসাব কষতে গিয়ে জিম দেখেন, যদি তাঁরা আরও ৩০ বছর বাঁচেন, তাহলে ১৫ লাখ ডলার ভাগ করলে বছরে গড়ে আসে মাত্র ৫০ হাজার ডলারের একটু বেশি। অনেকে অবসর পরিকল্পনায় ‘৪ শতাংশ নিয়ম’ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ অবসরের প্রথম বছরে সঞ্চয়ের ৪ শতাংশ খরচ করা যাবে, পরের বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খরচ বাড়ানো যাবে। তাহলে টাকা প্রায় ৩০ বছর চলবে। এই হিসাবে জিমের হাতে বছরে থাকবে আনুমানিক ৬০ হাজার ডলার। সমস্যা হলো এটি তাঁদের নিয়মিত আয়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম। বাড়ি ভাড়া, বিমা, স্বাস্থ্যসেবা সবকিছুর খরচ যখন লাগামছাড়া, তখন এই অঙ্কে জীবন চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক।
এই ভয় শুধু জিমের নয়
জিম একা নন। সম্প্রতি আরেক দম্পতি একটি অর্থবিষয়ক পরামর্শ কলামে চিঠি লিখেছেন, তাঁদের বয়স ৫২ বছর। সম্পদের পরিমাণ শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। বিনিয়োগে ৪৪ লাখ ডলার, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, স্থাবর সম্পত্তি ১১ লাখ ডলার, আর একটি ব্যবসার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও স্বামীর মনে হচ্ছে টাকা ফুরিয়ে যেতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, শুধু বিনিয়োগ থেকেই তাঁরা বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ডলার আয় করতে পারেন, মূলধন ছোঁয়া ছাড়াই। তবু মেডিকেয়ার কভারেজ পাওয়ার আগের চিকিৎসা ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তাঁদের কাজ ছাড়তে দিচ্ছে না।
বদলে যাওয়া অবসর বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একবিংশ শতাব্দীর অবসরের নতুন বাস্তবতা। গবেষণা অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের তুলনায় এখন আমেরিকানরা গড়ে ৩ বছর দেরিতে অবসর নিচ্ছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ এখনো কাজ করছেন, যা ৩০ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ। এর বড় কারণ, মানুষ এখন বেশি দিন বাঁচছে। ৬৫ বছর বয়সী আমেরিকান নারীরা গড়ে আরও ২০ বছর, আর পুরুষেরা প্রায় সাড়ে ১৭ বছর বাঁচবেন বলে ধারণা করা হয়।
মিলিয়ন ডলারও যথেষ্ট নয়
জিম ও হেলেনের ক্ষেত্রে, যদি তাঁরা ৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন, তাহলে ১৫ লাখ ডলার দিয়ে প্রায় ৩০ বছর চলতে হবে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা বা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি হলে তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমে যাবে। এমনকি ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ার শুরু হলেও, সব চিকিৎসা খরচ এতে ধরা পড়ে না। তবু বাস্তবতা হলো, তাঁরা গড় আমেরিকানের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের গড় অবসর সঞ্চয় মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৬০ বছর বয়সে একজন মানুষের সঞ্চয় হওয়া উচিত তাঁর বার্ষিক আয়ের ৮ থেকে ১০ গুণ। সেই হিসাবে জিমের আদর্শ সঞ্চয় হওয়া দরকার ছিল ২৪ থেকে ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ মিলিয়ন ডলার থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মার্কিন আর্থিক উপদেষ্টা ডেভিড রে মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি পরিকল্পনার অভাব। তিনি তিনটি পরামর্শ দেন—
প্রথমত, অবসরের জন্য খুঁটিনাটি বাজেট তৈরি করা জরুরি, যেখানে চিকিৎসা ও ভ্রমণের মতো খরচ থাকবে।
দ্বিতীয়ত, পুরোপুরি কাজ ছেড়ে না দিয়ে খণ্ডকালীন কাজ বা পরামর্শমূলক পেশা চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে আয় যেমন থাকে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগও বজায় থাকে।
তৃতীয়ত, দম্পতিরা একসঙ্গে অবসর না নিয়ে ধাপে ধাপে অবসর নিতে পারেন।
সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স

চীনের একটি স্কুলে সকাল শুরু হয় পরিচিত এক দৃশ্য দিয়ে। স্কুল গেটের সামনে সাদা গ্লাভস আর ট্রাফিক জ্যাকেট পরা একজন মানুষ হাতের ইশারায় গাড়ি থামাচ্ছেন এবং শিশুদের রাস্তা পার হতে বলছেন। দূর থেকে দেখলে তাঁকে ট্রাফিক পুলিশ মনে হবে। খুব কম মানুষই জানেন, তিনি আসলে স্কুলটির উপপ্রধান শিক্ষক।
১২ ঘণ্টা আগে
সকালবেলা উঠে চুলা জ্বালাতে গিয়ে দেখলেন, গ্যাস নেই! গ্যাসের দোকানে ফোন করলে মোবাইল ফোনের ওই প্রান্ত থেকে শোনা যাচ্ছে, এ মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে যাঁদের লাইনের গ্যাস, তাঁদের চুলায় সারা দিন আগুন জ্বলছে টিমটিম করে। তাতে নেই তাপ।
১৩ ঘণ্টা আগে
অবসরের পর জীবনটা কেমন হওয়া উচিত? কারও কাছে অবসর মানে সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় অলস দুপুর কাটানো। কারও কাছে পাহাড়ের নির্জনতায় হারানো, আবার কারও কাছে একদম নতুন কোনো সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে পরিচয় করানো। ২০২৬ সালের ‘অ্যানুয়াল গ্লোবাল রিটায়ারমেন্ট ইনডেক্স’ বলছে, আপনার সেই আজন্মলালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ...
১৬ ঘণ্টা আগে
রান্না করা গরম খাবার ফ্রিজে রাখা নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই একধরনের দ্বিধা কাজ করে। অনেকে মনে করেন, খাবার গরম অবস্থায় ফ্রিজে রাখলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে; কিংবা ফ্রিজের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদেরা বলছেন একদম উল্টো কথা। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং খাবারের মান ধরে রাখতে আপনার এই...
১৮ ঘণ্টা আগে