Ajker Patrika

শরীর ও মন ভালো রাখতে চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনুন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
শরীর ও মন ভালো রাখতে চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনুন
চিঠি লেখার অভ্যাসটি আমাদের কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

আসছে বসন্ত। প্রকৃতিতে লাগবে রঙিন হাওয়া। ফাল্গুনের বাতাস আর রঙিন ফুল, সবার মনে এক অন্য রকম আবহ তৈরি করে রাখে। ফাল্গুন বাঙালির কাছে একটা উপলক্ষ। যে উপলক্ষকে কেন্দ্র করে অনেক আয়োজন হয়। সবকিছুর ভিড়ে, নতুন করে একটা অভ্যাস করতে পারেন। তা হলো চিঠি লেখা। যারা অনেক আগে চিঠি লিখতেন কিন্তু এখন লেখেন না, তাঁরাও আবার চিঠি লেখা শুরু করতে পারেন।

প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের যোগাযোগ অনেক দ্রুত। কিন্তু হাতে লেখা চিঠিতে যে আবেগ আর আন্তরিকতা মিশে থাকে, তা ই-মেইল বা টেক্সট মেসেজে পাওয়া অসম্ভব। ই-মেইল বা মেসেজ হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু চিঠি স্মৃতি হিসেবে বাক্সবন্দী করে রাখা যায়। ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ কিংবা বিখ্যাত মনীষীদের চিঠিপত্র আজও ইতিহাসের অমূল্য দলিল। আপনার একটি সাধারণ চিঠিও প্রিয়জনের কাছে আজীবন অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, চিঠি লেখার অভ্যাস আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ডিজিটাল জগৎ থেকে বিরতি

চিঠি লেখা হলো প্রযুক্তি থেকে দূরে থেকে নিজের ও প্রিয়জনের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের একটি সুন্দর উপায়। এটি আপনার মস্তিষ্ক শান্ত করতে এবং মননশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আজকাল ডিজিটাল যোগাযোগ থাকলেও একাকিত্ব একটি বড় সমস্যা। হাতে লেখা একটি চিঠি যখন কেউ পায়, তখন তিনি নিজেকে বিশেষ অনুভব করেন। এটি মানুষকে একধরনের মমতা ও সামাজিক বন্ধনের অনুভূতি দেয়। চিঠিটি শুধু এক টুকরো কাগজ নয়। চিঠি একজন মানুষের প্রিয়জনের স্পর্শ লেগে থাকা অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।

সপ্তাহান্তে একা থাকা কোনো প্রবীণ আত্মীয়কে চিঠি লিখে জানতে চান, তিনি কেমন আছেন। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।
সপ্তাহান্তে একা থাকা কোনো প্রবীণ আত্মীয়কে চিঠি লিখে জানতে চান, তিনি কেমন আছেন। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

মানসিক স্বস্তি ও অবসাদ মুক্তি

যেকোনো কিছু লেখা, বিশেষ করে চিঠি লেখা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মেজাজ ভালো রাখে এবং উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। ট্রমা বা পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিঠি লেখা থেরাপি হিসেবে কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিজেদের শারীরিক আঘাত বা কষ্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া নিয়মিত আবেগ প্রকাশক লেখা রক্তচাপ কমাতে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক সময় কথা বলা কঠিন হলেও মনের না-বলা কথাগুলো চিঠিতে লিখে নিজেকে ভারমুক্ত করা যায়।

গভীর চিন্তা ও স্পষ্ট মত প্রকাশ

একটি টেক্সট মেসেজ আমরা তাড়াহুড়ো করে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু চিঠি লেখার জন্য আমাদের একটু গুছিয়ে বসতে হয়। এই সময় আমাদের চিন্তাকে গভীর করে। কঠিন বা আবেগপ্রবণ কোনো বিষয়ে কথা বলার চেয়ে লিখে প্রকাশ করা অনেক বেশি কার্যকর। কারণ, এতে শব্দগুলো ব্যবহারের আগে অনেকবার ভাবার সুযোগ থাকে।

মস্তিষ্ক সচল রাখা এবং সৃজনশীলতার বিকাশ

চিঠি লেখা অনেকটা মস্তিষ্কের ব্যায়ামের মতো। যেহেতু কাগজে কাটাকাটি করার সুযোগ কম থাকে, তাই বানান ও বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের মস্তিষ্কে অনেক বেশি সক্রিয় থাকতে হয়। এটি স্মরণশক্তি বাড়াতে এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে। করপোরেট জগতের যুক্তিনির্ভর কাজের বাইরে চিঠি লেখা আমাদের মস্তিষ্কের ডান দিককে অর্থাৎ সৃজনশীল অংশকে সক্রিয় করে। নিজের কোনো অভিজ্ঞতাকে গল্পের মতো করে ফুটিয়ে তোলা একধরনের শৈল্পিক আনন্দ দেয়।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম

চিঠি লেখার অভ্যাসটি আমাদের কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। সপ্তাহে অন্তত একবার কাউকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখুন। তাঁকে লিখুন, যিনি হয়তো বহু আগে আপনার উপকারে এসেছিলেন। অথবা একা থাকা কোনো প্রবীণ আত্মীয়, যিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন। এতে আপনার এবং প্রাপক—উভয়ের মনে প্রশান্তি আসবে।

এই বসন্তে শুরু হোক আপনার নতুন অভিযাত্রা। রঙিন খাম আর কাগজে কলমের আঁচড়ে প্রিয় মানুষকে জানান আপনার মনের কথা। যাকে বহুকাল বলা হয়নি, কেমন আছেন, তাঁদের চিঠি লিখুন। একটি ছোট চিঠি আপনার জীবনের একঘেয়েমি দূর করে মনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসতে পারে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে গেলে, ‘নব আনন্দে জাগো আজি নবরবিকিরণে/ শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল জীবনে।’ আপনার চিঠি লেখার অভ্যাস আপনার জীবনে পরম শান্তি আর প্রীতি বয়ে আনুক।

সূত্র: ফোর্বস, হাফ পোস্ট, লাইফ হ্যাক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যেভাবে প্রথম শিকারটি ধরেছিলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তাঁর প্রেমিকা গিলেইন

অবশেষে সমঝোতা, ভারতীয় পণ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নামে ২ কলেজের নামকরণ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের উদ্বেগ, চীনের হিসাব-নিকাশ, পাকিস্তানের সুযোগ

‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ফেরালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত