Ajker Patrika

ফ্যাশনের দেশে ফুটবল

সানজিদা সামরিন, ঢাকা 
ফ্যাশনের দেশে ফুটবল
মডেল: জুঁই পোশাক: হরিতকী মেকআপ: শোভন সাহা। ছবি: মেহেদী হাসান

ফ্রিদা কাহলোর ছবি যাঁরা দেখেছেন অথবা ‘প্লাজা মেক্সিকো’র ষাঁড়ের লড়াই—বাস্তবে কিংবা সিনেমা বা ফটোগ্রাফিতে; মেক্সিকো উপসাগরের নীল পানির সৈকতে হাওয়াই পোশাক পরা মানুষদের যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন, মেক্সিকো রঙের দেশ। সে দেশের ফ্যাশনে বিভিন্নভাবে যে তার প্রভাব থাকবে, তা না বললেও চলে। সেই রঙিন মেক্সিকোতে ১১ জুন বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসরের জাঁকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হতে চলেছে। আর আমরা শোনাতে যাচ্ছি মেক্সিকোর ফ্যাশনের গল্প।

মেক্সিকো হলো মেসো-আমেরিকান সভ্যতার দেশ। অর্থাৎ এ দেশ ওলমেক, মায়া, তেওতিহুয়াকান, তোলতেক এবং অ্যাজটেক সভ্যতার অংশ। এই প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব পোশাক ছিল, রঙের ব্যবহার ছিল, মোটিফ ছিল। আধুনিক মেক্সিকোর ফ্যাশনে এসব গোষ্ঠীর ঐতিহ্যের ছাপ আছে।

মেক্সিকোর উপকূলীয় অঞ্চলে বেশ গরম থাকলেও পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায় নাতিশীতোষ্ণ এবং আরামদায়ক আবহাওয়ার দেখা। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় দেশটিতে। তবে শীতকাল অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে ঠান্ডার আধিক্য না থাকলেও আবহাওয়া খুব শুষ্ক থাকে। ফলে এই সবকিছুই সেখানকার অধিবাসীদের পোশাকে প্রভাব ফেলে।

পোশাক পরা শুধু ফ্যাশনই নয়, এটি সংস্কৃতির ইতিহাস এবং শিল্পের জীবন্ত প্রকাশ। মেক্সিকান ফ্যাশনের প্রতিটি সেলাই ও কুঁচির ভাঁজে লুকিয়ে রয়েছে শত বছরের পুরোনো সব শৈল্পিক গল্প। মেক্সিকোর একেকটি অঞ্চলের রয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা নিজস্ব বুননশৈলী, রং ব্যবহারের নিজস্ব ঘরানা এবং হাতে করা সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির প্রাচীন ঐতিহ্য। ফলে বিশ্বজুড়ে নারীদের ফ্যাশনে মেক্সিকান ঐতিহ্যের ছোঁয়া এক নতুন ক্রেজ বা ট্রেন্ড তৈরি করেছে। শুধু মেক্সিকোর স্থানীয় উৎসবই নয়, বরং প্রতিদিনের সাধারণ পোশাকেও প্রাধান্য পায় দেশটির নিজস্ব মোটিফ।

ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান পোশাক

মেক্সিকোর আদিবাসী কারিগরদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি কিছু পোশাক বিশ্বজুড়ে ফ্যাশনপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। সেগুলো হলো—

ক্ল্যাসিক হুইপিল টিউনিক

এটি মূলত একধরনের ঢিলেঢালা টিউনিক পোশাক। এর কাপড়ের ওপর সরাসরি জ্যামিতিক নকশা বা ফুলের মোটিফ বুনে দেওয়া হয়। গরমে আরামের জন্য এই সুতি হুইপিল টিউনিক জিনসের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। আর জাঁকালো অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে মখমল বা ভেলভেটের হুইপিল টিউনিক।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

এমব্রয়ডারি করা পুয়েবলা ড্রেস

গরম আবহাওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক। এর চারকোনা গলার চারপাশে থাকা উজ্জ্বল, বহুমাত্রিক রঙের ফুলের এমব্রয়ডারি দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। চামড়ার স্যান্ডেলের সঙ্গে এই বোহো ঘরানার পোশাকটি দারুণ মানায়।

চিয়াপাস ফ্লোরাল স্কার্ট

যেকোনো জাঁকালো পার্টিতে নজর কাড়তে কালো স্যাটিন কাপড়ের এই ঘেরওয়ালা স্কার্ট অতুলনীয়। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর পোশাক কারিগরদের হাতে বোনা বড় বড় উজ্জ্বল ফুল যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই স্কার্টের সঙ্গে টপস একদম সাধারণ বা একরঙা রাখুন।

আঞ্চলিক বিশেষত্ব এবং বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা

মেক্সিকোর বিভিন্ন রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে তাদের পোশাকে। যেমন—

তেহুয়ানা গালা স্যুট

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলোর পোর্ট্রেটের কল্যাণে এই পোশাক বিশ্বজুড়ে আইকনিক হয়ে উঠেছে। মখমলের তৈরি টিউনিক এবং মেঝে ছোঁয়া লম্বা পোশাকে রঙের নানান মিশেল এবং ফুলের ভারী এমব্রয়ডারি মেক্সিকোর মাতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির শক্তি প্রকাশ করে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

ওতোমি তেনাঙ্গো প্যাটার্নের পোশাক

ধবধবে সাদা কাপড়ের ওপর উজ্জ্বল রঙে কাল্পনিক কোনো প্রাণী কিংবা লতাপাতার নকশা ফুটিয়ে তোলা হয় এই এমব্রয়ডারিতে। এটি টপস, ব্লাউজ বা স্কার্টে একধরনের চমৎকার শিল্পের ছোঁয়া এনে দেয়।

হালিস্কো রিবন ড্রেস

উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে এই ঘেরওয়ালা স্কার্টের জুড়ি নেই। এর জ্যামিতিক লাইনে সেলাই করা রঙিন স্যাটিন রিবন বা ফিতাগুলো ঘোরার সময় এক জাদুকরি দৃশ্য তৈরি করে। মেক্সিকোর পোশাক হিসেবে বিশ্বজুড়ে এর পরিচিতি।

পোশাকে আধুনিক মেক্সিকান ছোঁয়া ও অনুষঙ্গ

রেবোজো শাল

এটি বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী চাদর বা শাল। যেকোনো সাধারণ পোশাকের ওপর এটি জড়িয়ে নিলে মুহূর্তেই পুরো লুকে একটি আভিজাত্য চলে আসে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

হুয়ারাক স্যান্ডেল

মেক্সিকান ফ্যাশনের কথা হবে আর হাতে বোনা চামড়ার এই জুতা বা স্যান্ডেলের কথা আসবে না, তা কি হয় নাকি। লিনেন স্কার্ট কিংবা ডেনিমের সঙ্গে এটি বেশ ক্যাজুয়াল লুক দেয়।

ওহাকান গোল্ড ফিলিগ্রি জুয়েলারি

প্যাঁচানো সোনার সুতা দিয়ে তৈরি লেসের মতো দেখতে এই কানের দুল বা নেকলেসগুলো যেকোনো আধুনিক পোশাকের সঙ্গেও পরা যায়।

স্টাইলিংয়ের জন্য যা করবেন

মেক্সিকান পোশাক বা অনুষঙ্গ পরার সময় বিবেচনায় রাখতে হবে, পোশাকটি যেন অতি জাঁকালো মনে না হয়। একটি ভারী কাজের চিয়াপাস স্কার্ট বা তেহুয়ানা টিউনিক পরলে গয়না এবং মেকআপ একদম সাধারণ রাখুন, যাতে পোশাকের কারুকাজটিই মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। এই পোশাকগুলো শুধু অন্ধভাবে অনুকরণ করার জন্য নয়; বরং এর পেছনের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আদিবাসী কারিগরদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও বটে।

সূত্র: দ্য সারায়া স্টোর

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত