
এ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। জীবনের কোনো এক বাঁকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হতে পারে, ‘আমি আসলে কে? আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী?’ তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের খুব চেনা চেহারাটাও অচেনা লাগতে পারে। আর তখনই শুরু হয় আত্মপরিচয়ের সংকট বা আইডেনটিটি ক্রাইসিস। এটি শুধু মনের খেয়াল নয়, বরং মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এক গভীর অনুসন্ধান। আপনি কি আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছেন? ভয় পাবেন না। যেকোনো সমস্যারই সমাধানের পথ থাকে। তেমনই এই সংকট থেকেও উত্তরণের পথ আছে। সেই পথটা আপনাকেই খুঁজে নিতে হবে।
মনোবিজ্ঞানী এরিক এরিকসন প্রথম এই ‘আইডেনটিটি ক্রাইসিস’ ধারণা সামনে আনেন। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে পরিচয় গঠন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্ব, যা মূলত কৈশোরে শুরু হলেও জীবনের যেকোনো পর্যায়ে দেখা দিতে পারে। যখন আমাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবনের ভূমিকা বা প্রত্যাশিত পথ হঠাৎ বদলে যায়, তখনই এই সংকটের সূত্রপাত হয়। এর পেছনে থাকতে পারে নানা কারণ। হতে পারে, সন্তান জন্মদান বা নতুন সম্পর্কে জড়ানো। হতে পারে, বিবাহবিচ্ছেদ বা প্রিয়জন হারানো; কিংবা কর্মক্ষেত্রে চাকরি হারানো কিংবা নতুন কর্মজীবন শুরু করা। এমনকি, বাসস্থান পরিবর্তন বা বড় কোনো ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার কারণেও হতে পারে আত্মপরিচয়ের সংকট।
সব মানুষের ক্ষেত্রে এই সংকটের বহিঃপ্রকাশ এক নয়। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে বোঝা যায়, আপনি আইডেনটিটি ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কি না—
এরিকসনের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন গবেষক জেমস মার্সিয়া। তিনি পরিচয় গঠনের অবস্থাকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন—
ফোরক্লোজার: কোনো রকম অনুসন্ধান ছাড়াই অন্ধভাবে একটি পরিচয় গ্রহণ করা।
ডিফিউশন: নিজের পরিচয় নিয়ে মাথাব্যথা বা লক্ষ্য না থাকা।
মোরাটোরিয়াম: যখন মানুষ সক্রিয়ভাবে নিজেকে খোঁজে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না।
অ্যাচিভমেন্ট: দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নিজের পরিচয় ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্থির হতে পারা।
সংকট মানেই জীবনের শেষ নয়, উল্টে এটি হতে পারে নতুনভাবে নিজেকে গড়ার দারুণ সুযোগ। এখান থেকে বেরিয়ে আসার কিছু উপায় আছে। সেগুলো হলো—
মূল্যবোধের পুনর্মূল্যায়ন: আপনার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ কী? জীবনের পুরোনো বিশ্বাসগুলো ঝেড়ে ফেলে নতুন কী আঁকড়ে ধরতে চান, তা ভাবুন।
মানসিক দৃঢ়তা ও ‘ইনার ওয়ার্ক’: নিজের চিন্তা ও আবেগের প্রতি সচেতন হোন। প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের কাজের পেছনে ব্যয় করুন।
সামাজিক সম্পর্কের চর্চা: একাকিত্ব কাটাতে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। সামাজিক যোগাযোগ মানুষের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
পুরোনো শখ পুনরুদ্ধার: শৈশবে যা করতে ভালোবাসতেন, সেই কাজগুলো আবার শুরু করুন। এটি আপনাকে শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
ডায়েরি বা জার্নাল লেখা: প্রতিদিনের ভালো লাগা, মন্দ লাগা বা উদ্বেগের কথাগুলো লিখে ফেলুন। এতে মনের জট খুলতে সুবিধা হয়।
পেশাদার সাহায্য গ্রহণ: যদি এই সংকট আপনার দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয়, তবে থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।
ভবিষ্যতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: কোনো ক্ষতি বা বিচ্ছেদ হয়তো আপনার জন্য নতুন কোনো সুযোগের দুয়ার খুলে দিচ্ছে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা ‘ফোকাস অব কন্ট্রোল’ বজায় রাখুন।
কোচ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: জীবনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য একজন লাইফ কোচের সাহায্য নিতে পারেন, যিনি আপনাকে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণে পথ দেখাবেন।
মনে রাখবেন, আইডেনটিটি ক্রাইসিস কোনো মনস্তাত্ত্বিক রোগ নয়, বরং এটি বিকাশের একটি ধাপ। গবেষকেরা দেখেছেন, যাঁরা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নিজের পরিচয়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পেরেছেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সুখী ও স্বাস্থ্যবান হন। শোক, বিচ্ছেদ বা পরিবর্তন আপনার পরিচয়কে মুছে ফেলা নয়। এগুলো আপনাকে আরও পরিণত মানুষ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আয়নার সামনের অচেনা মানুষটি আসলে আপনারই এক নতুন সংস্করণ, যাঁকে চিনে নেওয়ার দায়িত্ব কেবল আপনারই।
সূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড, বেটার আপ

মিসরের খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। নীল নদের উর্বর অববাহিকা, বিভিন্ন সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সংস্কৃতির মিশ্রণে এই রন্ধনশৈলী গড়ে উঠেছে। মিসরের খাবার মূলত শস্য, শাকসবজি এবং সুগন্ধযুক্ত মসলার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই প্রাচীন...
৫ ঘণ্টা আগে
যখন তুর্কি নারীর সৌন্দর্যের কথা বলা হয়, তখন আমাদের মনে ভেসে ওঠে কোমল, উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী নারীদের অবয়ব। তুর্কি নারীদের সুন্দর ত্বকের রহস্য কোনো নামীদামি প্রসাধনী নয়, বরং তাঁদের দেশের আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব প্রবল। এর পাশাপাশি তাঁরা ত্বকে প্রাকৃতিক কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করেন, যেগুলোর...
৭ ঘণ্টা আগে
ফুটবলের দেশ বললেই সবার আগে যে দুটি দেশের নাম আমাদের মনে আসে, তার একটি আর্জেন্টিনা, অন্যটি ব্রাজিল। মজার বিষয় হলো, ফুটবল জনপ্রিয় হলেও এই দুটি দেশের কোনোটিরই জাতীয় খেলা ফুটবল নয়। আর্জেন্টিনার সরকারি জাতীয় খেলার নাম পাতো (Pato)। ঘোড়ার পিঠে চড়ে এ খেলা খেলতে হয়। এটি এমনই এক রোমাঞ্চকর খেলা, যেখানে...
১ দিন আগে
কাগজের নোট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স—কোনোটিই কমবে না। এদিকে শপিং ব্যাগ ভর্তি করার নিখাদ আনন্দটুকু ঠিকই পাওয়া যাবে। বিষয়টি শুনতে অবাস্তব মনে হলেও তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের কাছে এটিই এখন মানসিক শান্তি খোঁজার আধুনিক ট্রেন্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ...
২ দিন আগে